Loading..

নেতৃত্বের গল্প

রিসেট

১২ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:১০ অপরাহ্ণ

আখেরি চাহার সোম্বা - মজিবর রহমান প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) বাট্টা মিলন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, তারাকান্দা- ময়মনসিংহ।

আখেরি চাহার সোম্বা’ ফার্সি ও আরবি শব্দের একটি মিশ্রণ, 

যার অর্থ “সফর মাসের শেষ বুধবার”। ইসলামিক ইতিহাসে এটি একটি বিশেষ ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত ও আনন্দময় দিন।

আখেরি চাহার সোম্বা মানে

আখেরি- শেষ

চাহার- চার বা চতুর্থ

সোম্বা- বুধবার

অর্থাৎ, হিজরি সনের দ্বিতীয় মাস ‘সফর’-এর শেষ বুধবারকে ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ বলা হয়।

২. ঐতিহাসিক পটভূমি ও তাৎপর্য

এই দিনটির মূল তাৎপর্য মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবনকাহিনীর সাথে জড়িত:

সাময়িক সুস্থতা: ১১ হিজরির সফর মাসের শেষের দিকে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। 

সফর মাসের শেষ বুধবারে তিনি অলৌকিক ও সাময়িকভাবে অনেকটাই সুস্থ বোধ করেন।

গোসল ও মসজিদে নববীতে আগমন: শরীর হালকা বোধ করায় তিনি গোসল করেন এবং মসজিদে নববীতে

 উপস্থিত হয়ে সাহাবিদের সাথে জোহরের নামাজ আদায় করেন ও নসিহত প্রদান করেন।

সাহাবিদের আনন্দ ও দান-সদকা: প্রিয় নবীর (সাঃ) সুস্থতার সংবাদ পেয়ে সাহাবিদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। 

এই খুশিতে হযরত আবু বকর (রাঃ), হযরত উমর (রাঃ), হযরত ওসমান (রাঃ) ও হযরত আলী (রাঃ)-সহ বহু সাহাবি বিপুল পরিমাণে উট,

 দিরহাম ও সম্পদ আল্লাহর ওয়াস্তে দান-সদকা করেন।

যদিও এই সুস্থতা সাময়িক ছিল এবং এর অল্প কিছুদিন পরই (১২ রবিউল আউয়াল) তিনি ওফাত লাভ করেন, 

তবুও সাহাবিদের সেই আনন্দ ও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার দিনটিকে স্মরণ করে উপমহাদেশসহ বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা এই দিনটি পালন করে থাকেন।

৩. এই দিনের আমল ও করণীয়

আখেরি চাহার সোম্বায় আলাদা কোনো নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক ইবাদত বা ফরজ নিয়ম নেই। তবে দিনটিকে স্মরণ করে সাধারণ ইবাদত-বন্দেগি করা হয়:

দান-সদকা করা: গরিব-দুঃখীদের সাহায্য করা ও সদকা দেওয়া।

নফল ইবাদত: নফল নামাজ, তওবা-এস্তেগফার এবং বেশি বেশি দুরুদ শরীফ পাঠ করা।

নফল রোজা: অনেকে শুকরিয়া হিসেবে এই দিনে নফল রোজা রাখেন।

মিলাদ ও দোয়া মাহফিল: মহানবী (সাঃ)-এর জীবনী আলোচনা এবং উম্মাহর কল্যাণ কামনায় দোয়া করা।

মন্তব্য করুন