সিনিয়র শিক্ষক
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:০৫ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ সাহিত্য কনিকা
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-২০ (কবিতা)
আবার আসিব ফিরে কবিতা – জীবনানন্দ দাশ
আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির
তীরে – এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শঙখচিল শালিকের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিঁকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়।
হয়তো বা হাঁস হবো – কিশোরীর – ঘুঙুর রহিবে লাল পায়
সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে।
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলঙ্গীর ঢেউ এ ভেজা বাংলারি সবুজ করুণ ডাঙ্গায়।
হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন
উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে।
হয়তো শুনিবে এক লক্ষীপেঁচা ডাকিতেছে শিমুলের ডালে।
হয়তো খৈয়ের ধান সরাতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে।
রূপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক সাদা ছেঁড়া পালে
ডিঙ্গা বায় – রাঙ্গা মেঘে সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে,
দেখিবে ধবল বক; আমারে পাবে তুমি ইহাদের ভীড়ে।
আবার আসিব ফিরে কবিতাটির পাঠ-পরিচিতি:
‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি কবির ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।জন্মভূমির অত্যন্ত তুচ্ছ জিনিস কবির দৃষ্টিতে সুন্দর হয়ে ধরা পরেছে কবিতায়। কবি মনে করেন, যখন তাঁর মৃত্যু হবে তখন দেশের সঙ্গে তাঁর মমতার বাঁধন শেষ হবে না। তিনি বাংলার নদী, মাঠ, ফসলের খেতকে ভালোবেসে শঙ্খচিল বা শালিকের বেশে এদেশে ফিরে আসবেন। আবার কখনও বা ভোরের কাক হয়ে কুয়াশায় মিশে যাবেন। এমনও হতে পারে, তিনি হাঁস হয়ে সারাদিন কলমির গন্ধে ভরা বিলের পানিতে ভেসে বেড়াবেন। এমনকি দিনের শেষে যে সাদা বকের দল মেঘের কোল ঘেঁষে নীড়ে ফিরে আসে তাদের মাঝেও কবিকে খুঁজে পাওয়া যাবে। এভাবে তিনি বাংলাদেশের রূপময় প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যাবেন ।
আবার আসিব ফিরে কবিতাটির কবি-পরিচিতি:
কবি জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯২১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম. এ. পাশ করেন। ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে তাঁর কর্মজীবনের শুরু হয় এবং তিনি বিভিন্ন সময়ে কলকাতা সিটি কলেজ, দিল্লি রামযশ কলেজ, বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ, খড়গপুর কলেজ, বরিষা কলেজ ও হাওড়া কলেজে অধ্যাপনা করেন। এক সময় তিনি সাংবাদিকতার পেশাও অবলম্বন করেছিলেন।
জীবনানন্দ দাশের কবিতায় বাংলাদেশের প্রকৃতির রং ও রূপের বৈচিত্র প্রকাশ ঘটেছে। অনেক অজানা গাছ, পশু-পাখি ও লতাপাতা তাঁর কবিতায় নতুন পরিচয়ে ধরা পড়েছে। প্রকৃতিপ্রেমিক এই কবি প্রকৃতি থেকেই তাঁর কবিতার রূপরস সংগ্রহ করেছেন। কবিতা ছাড়াও তিনি গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তিনি ১৯৫৪ সালে কলকাতায় এক ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন
১. পল্লির সন্তান অমিত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চশিক্ষার্থে ফ্রান্স যায়। সেখানকার সুপ্রশস্ত রাজপথ, উদ্যান, নির্মল প্রকৃতি তার খুব ভালো লাগে। রাস্তাঘাট, রেলস্টেশন, বাস-স্টপেজ সব জায়গায় দেশি-বিদেশি স্মরণীয় ব্যক্তিবর্গের মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে ফরাসিদের দেশপ্রেম দেখে সে বিস্মিত হয়। ওদের ক্যাফে, মিউজিয়াম সবকিছুই তাকে আকৃষ্ট করে। উচ্চশিক্ষা শেষ করে অমিত স্থায়িভাবে সেখানে থেকে যায়। তার অতীত স্মৃতি ফরাসি সৌন্দর্যের মোহে ক্রমশ ধূসর হয়ে যায় ।
ক. উঠানে খইয়ের ধান ছড়ায় কে ?
খ. মানুষ না হয়ে শঙ্খচিল, শালিকের বেশে জীবনানন্দ দাশ এদেশে ফিরতে চান কেন ?
গ. ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় উদ্দীপকের ফরাসি জাতির কোন দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করে ? বর্ণনা কর ।
ঘ. অমিতের অনুভূতি আর জীবনানন্দ দাশের অনুভূতি সম্পূর্ণ ভিন্ন—উক্তিটি মূল্যায়ন কর।
২. ‘বাংলার হাওয়া বাংলার জল হৃদয় আমার করে সুশীতল এত সুখ শান্তি এত পরিমল কোথা পাব আর বাংলা ছাড়া?
ক. ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে ?
খ. ‘বাংলার সবুজ করুণ ডাঙা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে ?
গ. উদ্দীপক অবলম্বনে ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দাও ।
ঘ. ‘কোথা পাব আর বাংলা ছাড়া’ – কথাটির সঙ্গে কবি জীবনানন্দ দাশের বাংলায় ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা কীভাবে সম্পর্কিত আলোচনা কর।
আবার আসিব ফিরে কবিতার মূলভাব :
বাংলার বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি হাজার হাজার মানুষের মন ভরে দেয়। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অন্য যে কোন দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থেকে আলাদা। নদীমাতৃক বাংলাদেশের দুই পাশে শস্যক্ষেত্র, বাতাসে পাকা ধানের গন্ধ, শীতের কুয়াশা, শিমুলের ডালে বসে লক্ষ্মীপেঞ্চা, উঠোনের ঘাসে ধান ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শিশুরা, কিশোররা নদীর কর্দমাক্ত পালের মধ্যে সাঁতার কাটছে প্রকৃতি এগুলোই বাংলার মানুষের মন ভরিয়ে দেয়।
কবি জীবনানন্দ দাশ তার প্রিয় জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করতে পারেন না। প্রিয় মাতৃভূমির সবুজ প্রকৃতি সব সময় কবির মনকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। তাই কবি তাঁর প্রিয় ধনসিন্দ্রীর তীরে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন মৃত্যুর পরেও। কবির কাছে বাংলাদেশ সব দেশের সেরা। তাই কবি বাংলাদেশে ফিরে আসার আশা প্রকাশ করেছেন।
কবি জীবনানন্দ দাশ তার জন্মভূমি বাংলাদেশকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন। এই কারণে, তার স্বদেশের সবকিছু তার কাছে আশ্চর্যজনকভাবে সুন্দর হয়ে উঠেছে। তিনি তাঁর মৃত্যুর পরও বিভিন্ন ছদ্মবেশে বাংলার প্রকৃতিতে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন কারণ তিনি তাঁর জন্মভূমিকে ভালোবাসতেন। কখনও সে মূর্তির ছদ্মবেশে ফিরে আসতে চায়, কখনও সকালে কাকের মতো।
যে কোনো মূল্যে বাংলার মাটিতে ফিরতে হবে, এটাই কবির ইচ্ছা। কারণ, বাংলার সৌন্দর্য কবিকে যতটা মুগ্ধ করেছে, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের সৌন্দর্য তা করতে পারেনি। উদ্দীপকের মামুনের ক্ষেত্রেও একই কাজ হয়েছে। তাই তিনি বাংলার মাটিতে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন। তাই আমরা বলতে পারি, একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক তার দেশকে ভুলতে পারে না।
আবার আসিব ফিরে কবিতার জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর:
প্রশ্ন-১। কবি কোন নদীর তীরে ফিরে আসতে চেয়েছেন?
উত্তর: কবি ধানসিড়ি নদীর তীরে ফিরে আসতে চেয়েছেন।
প্রশ্ন-২। কবি শঙ্খচিল শালিকের বেশে কোথায় আসতে চান?
উত্তর: কবি শখচিল শালিকের বেশে বাংলায় আসতে চান।
প্রশ্ন-৩। কবি কার্তিকের নবান্নের দেশে কী হয়ে ফিরে আসবেন?
উত্তর: কবি কার্তিকের নবান্নের দেশে ভােরের কাক হয়ে ফিরে আসবেন।
প্রশ্ন-৪। নবান্ন উৎসব কী মাসে হয়?
উত্তর: নবান্ন উৎসব কার্তিক মাসে হয়।
প্রশ্ন-৫। কুয়াশার বুকে ভেসে কবি কোথায় আসতে চান?
উত্তর: কবি কুয়াশার বুকে ভেসে বাংলার কাঁঠাল ছায়ায় আসতে চান।
প্রশ্ন-৬। কবি কীভাবে একদিন এ কাঁঠাল ছায়ায় ফিরে আসবেন?
উত্তর: কবি কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন একাঠাল ছায়ায় ফিরে আসবেন।
প্রশ্ন-৭। কার লাল পাড়ে কিশােরীর ঘুঙুর থাকবে?
উত্তর: হাঁসের লাল পাড়ে কিশােরীর ঘুঙুর থাকবে।
প্রশ্ন-৮। কী করে হাসের সারাদিন কেটে যাবে?
উত্তর: কলসির গন্ধভরা জলে ভেসে হাঁসের সারাদিন কেটে যাবে।
প্রশ্ন-৯। বাংলার সবুজ করুণ ডাঙা কীসে ভেজা?
উত্তর: বাংলার সবুজ করুণ ডাঙা জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা।
প্রশ্ন-১০। ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় সন্ধ্যার বাতাসে কী উড়ছে?
উত্তরঃ “আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় সন্ধ্যার বাতাসে সুদর্শন উড়ছে।
প্রশ্ন-১১। লক্ষ্মীপেঁচা কোথায় ডাকছে?
উত্তর: লক্ষ্মীপেঁচা শিমুলের ডালে ডাকছে।
প্রশ্ন-১২। উঠানে খইয়ের ধান ছড়ায় কে?
উত্তর: একটি শিশু উঠানে খইয়ের ধান ছড়ায়।
প্রশ্ন-১৩। আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় কোন নদীতে নৌকা বায়?
উত্তর: আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় কিশাের রূপসা নদীতে নৌকা বায়।
প্রশ্ন-১৪। কিশােরের ছেড়া পালটি কী রঙের?
উত্তর: কিশােরের ছেড়া পালটি সাদা রঙের।
প্রশ্ন-১৫। রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে কে নীড়ে ফিরছে?
উত্তর: রাঙা মেঘ সঁতরায়ে ধবল বক নীড়ে ফিরছে।
প্রশ্ন-১৬। ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটিতে কয়টি নদীর নাম উল্লেখ আছে?
উত্তর: ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটিতে দুইটি নদীর নাম উল্লেখ আছে।
প্রশ্ন-১৭। কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠাল ছায়ায় এর পরের চরণ লিখাে।
উত্তর: “কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঠাল ছায়ায় এর পরের চরণটি হলাে “হয়তাে বা হাঁস হবাে কিশােরীর ঘুঙুর রহিবে লাল পায়।”
প্রশ্ন-১৮। ধানসিড়ি নদী কোন জেলায় অবস্থিত ছিল?
উত্তর: ধানসিড়ি নদী ঝালকাঠি জেলায় অবস্থিত ছিল।
প্রশ্ন-১৯। জলাঙ্গী কী?
উত্তর: আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় কবি নদীকে জলাঙ্গী নামে অভিহিত করেছেন।
প্রশ্ন-২০। ‘ডাঙা’ শব্দটির অর্থ কী?
উত্তর: ‘ডাঙা’ শব্দটির অর্থ শুকনাে জায়গা।
প্রশ্ন-২১। সুদর্শন’ কী?
উত্তর: সুদর্শন হলাে এক দরনের গুবরে পােকা।
প্রশ্ন-২২। ‘লক্ষীপেঁচা’ কী?
উত্তর: লক্ষ্মীপেঁচা’ হলাে সুলক্ষণযুক্ত পেঁচা।
প্রশ্ন-২৩। ‘রূপসা’ কীসের নাম?
উত্তর: রূপসা একটি নদীর নাম।
প্রশ্ন-২৪। রূপসা নদীটি কোন জেলার পাশ দিয়ে প্রবাহিত?
উত্তর: রূপসা নদীটি খুলনা জেলার পাশ দিয়ে প্রবাহিত।
প্রশ্ন-২৫। “ডিভা’ শব্দটির অর্থ কী?
উত্তর ‘ডিঙা’ শব্দটির অর্থ ছােট নৌকা।
প্রশ্ন-২৬। ধবল শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘ধবল’ শব্দের অর্থ সাদা।
প্রশ্ন-২৭। ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি কে লিখেছেন?
উত্তর: আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি লিখেছেন জীবনানন্দ দাশ।
প্রশ্ন-২৮। “আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন-২৯। ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটির উৎস কোন গ্রন্থ?
উত্তর: আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটির উৎস রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থ।
প্রশ্ন-৩০। ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় কবি কোন বিষয়টি দেখিয়েছেন?
উত্তর: আবার আসিব কবিতায় কবি দেখিয়েছেন যে তিনি নিজের দেশকে খুবই ভালােবাসেন।
প্রশ্ন-৩১। প্রিয় জন্মভূমির কোন জিনিসগুলাে কবির দৃষ্টিতে সুন্দর হয়ে ধরা পড়েছে?
উত্তর: প্রিয় জন্মভূমির অত্যন্ত তুচ্ছ জিনিসগুলাে কবির দৃষ্টিতে সুন্দর হয়ে ধরা পড়েছে।
প্রশ্ন-৩২। কবির মতে, তার মৃত্যু হলেও কার সঙ্গে তার মমতার বাঁধন শেষ হবে না?
উত্তর: কবির মতে, তার মৃত্যু হলেও দেশের সঙ্গে তার মমতার বাঁধন শেষ হবে না।
প্রশ্ন-৩৩। জীবনানন্দ দাশ কত খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রশ্ন-৩৪। জীবনানন্দ দাশ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশােনা করেন?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশােনা করেন।
প্রশ্ন-৩৫। জীবনানন্দ দাশ কোন বিষয়ে এমএ পাশ করেন?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশ ইংরেজি সাহিত্যে এমএ পাশ করেন।
প্রশ্ন-৩৬। জীবনানন্দ দাশ কোন বিষয়ের অধ্যাপক ছিলেন?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশ ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন।
প্রশ্ন-৩৭। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় কীসের বৈচিত্র ফুটে উঠেছে?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশের কবিতায় বাংলাদেশের প্রকৃতির রং ও রূপের বৈচিত্র ফুটে উঠেছে।
প্রশ্ন-৩৮। কোথা থেকে জীবনানন্দ দাশ কবিতার রূপ-রস সংগ্রহ করতেন?
উত্তর: প্রকৃতি থেকে জীবনানন্দ দাশ কবিতার রূপ-রস সংগ্রহ করতেন।
প্রশ্ন-৩৯। জীবনানন্দ দাশ কবে মারা যান?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশ ১৯৫৪ সালে মারা যান।
প্রশ্ন-৪০। জীবনানন্দ দাশ কোন দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশ ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।
আবার আসিব ফিরে কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন-১। কবি কীভাবে এই বাংলায় ফিরে আসতে চেয়েছে?
উত্তর: কবি শঙ্খচিল, শালিকের বেশে অথবা ভােরের কাক বা হাস হয়ে এই বাংলায় ফিরে আসতে চেয়েছেন।
আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় কবি বাংলার প্রকৃতির অপরূপ রূপে মুগ্ধ তাই মৃত্যুর পরেও প্রিয় প্রকৃতির সাথে মিশে যেতে কবি ফিরে আসতে চান। কবি ভােরের কাক হয়ে কার্তিকের নবান্নের দেশে কুয়াশার বুকে ভেসে ভেসে কাঁঠাল ছায়ায় ফিরে আসতে চান। অথবা হাঁস হয়ে কলমির গন্ধভরা জলে ভেসে বেড়াতে চান। প্রিয় প্রকৃতির সাথে পুনরায় মিশে যেতেই তিনি এই প্রকৃতির জীব হয়ে ফিরে আসতে চান।
প্রশ্ন-২। আবার ফিরে আসার আকাক্ষার আড়ালে কবির কোন চাওয়াটি প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: কবি জীবনানন্দ দাশের আবার ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষার আড়ালে।
বঙ্গভূমির প্রতি তার ব্যাকুল ভালােবাসাই প্রকাশ পেয়েছে। কবি মনে করেন যখন তার মৃত্যু হবে, তখনও মাতৃভূমির সঙ্গে তার মমতার বাঁধন শেষ হবে না। কারণ এক জীবনে জন্মভূমিকে ভালােবেসে তিনি তৃপ্ত হতে পারেননি। তাই মৃত্যুর পরও তিনি নানা রূপে এই বাংলায় ফিরে আসতে চান।
প্রশ্ন-৩। কবি বাংলার বুকে ফিরে আসতে চান কেন?
উত্তর: বাংলাকে ভালােবাসেন বলে কবি কুয়াশার বুকে ভেসেবাংলার বুকে ফিরে আসতে চেয়েছেন।
কবি বাংলাদেশের রূপময় প্রকৃতির বৈচিত্র্যে এতটাই মােহিত যে, বাংলার রূপ তার কাছে অনন্য মনে হয়। বাংলার নানা ঋতু নানারকম দৃশ্যের অবতাড়না করে। শীতকালের কুয়াশাভো প্রকৃতি কবির মনে যে মুগ্ধতা আনে, তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তিনি মৃত্যুর পরে কুয়াশার বুকে ভেসে বাংলার বুকে ফিরে আসতে চেয়েছেন।
প্রশ্ন-৪। কবি কেন কুয়াশার বুকে ভেসে ফিরে আসতে চেয়েছেন?
উত্তর: বাংলাকে ভালােবাসেন বলে কবি কুয়াশার বুকে ভেসে ফিরে আসতে চেয়েছেন।
কবি বাংলাদেশের রূপময় প্রকৃতির বৈচিত্র্যে এতটাই মােহিত যে, বাংলার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রূপ ব্লার কাছে অনন্য বৈশিষ্ট্যের আধার মনে হয়। বাংলার নানা ঋতু নানারকম দৃশ্য নিয়ে আসে। শীতকালের কুয়াশাভেজা প্রকৃতি কবির মনে যে মুগ্ধতা আনে, তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তিনি মৃত্যুর পরে কুয়াশার বুকে ভেসে ফিরে আসতে চেয়েছেন।
প্রশ্ন-৫। কবি কেন সারাদিন কলমির গন্ধভরা জলে ভেসে কাটাতে চান?
উত্তর: কবি বাংলার প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার জন্যই সারাদিন কলমির গন্ধভরা জলে ভেসে কাটাতে চান।
বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এদেশে জালের মতাে অসংখ্য নদী, নালা, খাল-বিল, দীঘি-জলাশয় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এ বাংলার নদীতে হাঁসেরা ঘুরে বেড়ায়। হাঁসদের সঙ্গে এসব ফুল ও ফুলের গন্ধভরা জলের যে সখ্য সেটা উপভােগ করার জন্য কবি সারাদিন হাঁস হয়ে ভেসে বেড়াতে চান।
প্রশ্ন-৬৷ সারাদিন কেটে যাবে কলমির গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে চরণটি বুঝিয়ে লেখাে।
উত্তর: কবি হাস হয়ে সারাদিন কলমির গন্ধ ভরা জলে ভেসে বেড়াতে চান। বাংলাদেশ নদীঘেরা এক দেশ। এদেশের নদীতে, বিলে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ায় হাঁসের দল। হাঁসের সঙ্গে এদেশের নদী-বিলে ফোটা কলমি ফুলের যে সখ্য, তা উপভােগ করার জন্যই কবি সারাদিন হাঁস হয়ে কলমির গন্ধ ভরা জলে ভেসে বেড়াতে চান।
প্রশ্ন-৭। শিমুলের ডালে লক্ষ্মীপেঁচা ডাকার মধ্য দিয়ে বাংলার কোন রূপ ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করাে।
উত্তর: শিমুলের ডালে লক্ষ্মীপেঁচা ডাকার মধ্য দিয়ে কবি বাংলার মায়াময় রূপ তুলে ধরেছেন।
লক্ষ্মীপেঁচা বাংলাদেশের পাখি যার ভিন্নরকম সৌন্দর্য প্রকৃতিকে বিশেষ রূপ দান করে। অপরদিকে রক্তরাঙা শিমুল ফুলের সৌন্দর্য বাংলার রূপরঙে ভিন্ন সৌন্দর্য এনে দেয়। কাজেই লক্ষ্মীপেঁচা যখন শিমুলের ডালে বসে ডাকে, তখন তা বাংলার মায়াময় জাদুকরী রূপেরই একটি অসাধারণ চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরে।
প্রশ্ন-৮। কিশােরের সাদা ছেড়া পালের মাধ্যমে বাংলার যে রূপটি ফুটে উঠেহে তা বুঝিয়ে লেখা।
উত্তর: আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় কিশােরের সাদা হেঁড়া পালের মাধ্যমে নদীমাতৃক বাংলার চিরন্তন রূপটি ফুটে উঠেছে।
বাংলার নদী-নালায় গ্রাম্য বালক ও কিশােরেরা স্বভাবসুলভ দুরন্তপনায় ছােট ছােট নৌকা ও খেয়া নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। পাল তােলা ডিঙিতে করে তাদের এই ঘুরে বেড়ানাের মধ্যে অবাধ স্বাধীনতার রূপটি ফুটে ওঠে। বাংলার প্রকৃতির এই চিরন্তন অকৃত্রিম ভালােবাসার চিত্রটি প্রকাশ পায় কিশােরের সাদা-ছেড়া পালের মধ্যে।
প্রশ্ন-৯। বকের রঙা মেঘ সাতরিয়ে ঘরে ফেরা বলতে কী বােঝানাে হয়েছে?
উত্তর: বকের রাঙা মেঘ সাঁতরিয়ে ঘরে ফেরা বলতে গােধূলির সময় তার ঘরে ফেরাকে বােঝানাে হয়েছে।
গােধূলির সময় আকাশ রঙিন বর্ণ ধারণ করে। তখন আকাশের বুকে ধবল বকের ওড়া দেখে মনে হয় সে যেন রঙিন মেঘের মাঝে সাঁতার কার্টতে কাটতে ঘরে ফিরছে।
প্রশ্ন-১০। ধবল বকের নীড়ে আসার মধ্য দিয়ে কবি কীসের ইঙ্গিত দিয়েছেন? ব্যাখ্যা করাে।
উত্তর: ধবল মেঘের নীড়ে আসার মধ্য দিয়ে কবি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পরম স্নেহশীল স্বদেশের বুকে ফিরে আসার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কবি জীবনানন্দ দাশ তাঁর প্রিয় জন্মভূমিকে এতটাই ভালােবাসেন যে, মৃত্যুর পরও নানা রূপে বার বার এখানে ফিরে আসতে চান। দূর-দূরান্ত থেকে বকেরা দল বেঁধে যেমন শেষ বেলায় মায়ের কোলের মতাে নীড়ে ফিরে আসে, কবিও তেমনি চিরকালের ভ্রমণ শেষে মাতৃভূমির মমতা জড়ানাে মাটিতে ফিরে আসার ইচ্ছে ব্যক্ত করেছেন।
প্রশ্ন-১১। কবি ধানসিঁড়ি নদীর তীরে ফিরে আসতে চেয়েছেন কেন?
উত্তরঃ জন্মভূমির প্রতি অপার মমত্ববােধের কারণে কবি তার প্রিয় ধানসিড়ি নদীর তীরে ফিরে আসতে চেয়েছেন।
ধানসিড়ি নদীর সঙ্গে কবির নিবিড় যােগাযােগ রয়েছে। এ নদীর সান্নিধ্যে কবির জীবনের অনেকটা সময় কেটেছে। এ কারণেই কবি বাংলাকে ভালােবেসে জন্মভূমির প্রিয় এ নদীর তীরেই তিনি ফিরে আসতে চেয়েছেন।
প্রশ্ন-১২। ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় কবির কেমন মনােভাব প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় কবির গভীর দেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে।
আলােচ্য কবিতায় কবি মৃত্যুর পর বাংলায় আবার ফিরে আসার বাসনা ব্যক্ত করেছেন। তিনি প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গে ভর করে বাংলার মাটিতে আবারও ফিরে আসতে চেয়েছেন। মূলত তিনি বাংলার সাথে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কে জড়িয়ে থাকতে চেয়েছেন। তার এই মনােভাবের মধ্য দিয়ে দেশের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালােবাসাই প্রকাশিত হয়েছে।