প্রভাষক
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:১৮ পূর্বাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দ্বাদশ
বিষয়ঃ রসায়ন ২য় পত্র
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ১
ওজোন স্তর ও ওজোন স্তরের ক্ষয় (Ozone Layer and Ozone Layer Depletion)
ওজোন স্তর সৃষ্টি: স্ট্যাটোস্ফিয়ার অঞ্চলের উপরে সূর্য হতে আসা অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে অণু ভেঙে পরমাণুতে পরিণত হয়, ঐ পরমাণু আরো অন্যান্য অণুর সাথে ওজোন অণু গঠন করে,
এখানে, A হলো স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে বিদ্যমান কণা যা অবশিষ্ট শক্তিকে শোষণ করে।
ভূ-পৃষ্ঠ থেকে 12-50 কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার অঞ্চলে বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ওজোন স্তর বিদ্যমান। ওজোন গ্যাস নীলাভ, বেগুনি, মাছের আঁশটে গন্ধযুক্ত এবং বিষাক্ত গ্যাস। সূর্যালোক থেকে আগত ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে ওজোন স্তরে ওজোন ও অক্সিজেন গতিশীল সাম্যাবস্থায় থাকে। ওজোন স্তরের গভীরতা মাপার একক হল ডবসন ইউনিট । প্রমাণ বায়ুচাপে ওজোন 0.01mm পুরু ওজোন স্তর= 1 । নাতিশীতোষ্ণ অক্ষাংশ অঞ্চলের বায়ুমণ্ডলে ওজোন স্তরের ঘনত্ব 350
বৃটিশ বিজ্ঞানী জো ফোরমান (Jo Forman) 1982 সালে সর্বপ্রথম লক্ষ্য করেন যে আন্টার্কটিকা মহাদেশের উপরিভাগের ওজোন স্তর পাতলা হয়ে গেছে। পরে গবেষণা করে দেখা গেল শুধু আন্টার্কটিকা নয় ওজোন স্তরের সর্বত্র কম বেশি ওজোন স্তর পাতলা হয়ে গেছে। ওজোন স্তর পাতলা হওয়ার এ ঘটনাকে ওজোন ছিদ্র বা ওজোন গহবর বা ওজোন স্তরের ক্ষয় বলে। মানুষ তার আরাম আয়েশ ও ভোগ বিলাসে CFC ব্যবহার করেছে, যা স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে জমা হয়ে ক্রমাগত ওজোন স্তর ধ্বংস করে চলেছে। ওজোন স্তর ধ্বংসের জন্য উন্নত বিশ্বের দেশগুলো প্রধানত দায়ী। কারণ তারাই CFC আবিষ্কার ও ব্যাপক পরিমাণে ব্যবহার করেছে। সূর্য থেকে আগত UV রশ্মির প্রভাবে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে সজ্জিত CFC হতে ক্লোরিন ফ্রি-রেডিক্যাল মুক্ত করে। এই ক্লোরিন ফ্রি রেডিক্যাল ওজোন স্তরের এর সাথে বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও ক্লোরিন মনোক্সাইড উৎপন্ন করে। উৎপন্ন ক্লোরিন মনোক্সাইড ওজোনের সাথে বিক্রিয়া করে এবং পুনরায় ক্লোরিন ফ্রি রেডিক্যাল উৎপন্ন করে। এইভাবে প্রক্রিয়াটি অনবরত চলতে থাকে এবং এতে ওজোন স্তর ক্রমশ ক্ষয় হতে থাকে।