সহকারী শিক্ষক
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:২৩ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দশম
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ৫
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক

ধরনঃসাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃদশম
বিষয়ঃতথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃঅধ্যায় ৫
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আশা করি সবাই ভালো আছো।
আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনে যা কিছু দেখি—সবই কি শুধু লেখা?
না, আমরা গান শুনি, সিনেমা দেখি, কার্টুন দেখি, আবার সুন্দর সুন্দর ছবিও দেখি।
যখন অনেকগুলো মাধ্যম একত্রে মিশে আমাদের সামনে তথ্য উপস্থাপন করে, তখন তাকে আমরা বলি মাল্টিমিডিয়া।
আর যখন শুধু চোখের দেখার বিষয়গুলোকে শিল্পসম্মতভাবে সাজানো হয়, তখন তা হলো গ্রাফিক্স।
তোমাদের আইসিটি বইয়ের পঞ্চম অধ্যায়ে এই চমৎকার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
চলো, আজ আমরা মাল্টিমিডিয়া ও গ্রাফিক্সের মূল বিষয়গুলো খুব সহজভাবে জেনে নিই।
‘Multimedia’ শব্দটি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত: ‘Multi’ মানে বহু এবং ‘Media’ মানে মাধ্যম।
সুতরাং, মাল্টিমিডিয়া হলো বহু মাধ্যমের সমন্বয়।
যখন কোনো তথ্য উপস্থাপন করার জন্য লেখা, শব্দ, ছবি, ভিডিও এবং অ্যানিমেশনকে একত্রে ব্যবহার করা হয়, তখন তাকে মাল্টিমিডিয়া বলে।
উদাহরণস্বরূপ: আমরা যখন টিভিতে কোনো খবর দেখি, তখন সেখানে উপস্থাপক কথা বলেন (শব্দ), নিচে স্ক্রল টেক্সট চলে (বর্ণ), ঘটনার ছবি বা ভিডিও দেখানো হয়। এটি একটি আদর্শ মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা।
মাল্টিমিডিয়া প্রধানত ৫টি উপাদানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়:
বর্ণ বা টেক্সট (Text): এটি যেকোনো তথ্যের ভিত্তি। বই, ওয়েবসাইট বা কম্পিউটারে আমরা যা পড়ি, তাই টেক্সট।
চিত্র বা ছবি (Image): স্থির ছবি মানুষের মনোযোগ দ্রুত আকর্ষণ করে। গ্রাফিক্সের একটি বড় অংশই হলো ছবি।
শব্দ (Audio): ভয়েস ওভার, গান বা যেকোনো সাউন্ড এফেক্ট মাল্টিমিডিয়ার একটি অপরিহার্য অংশ।
ভিডিও (Video): চলমান ছবিই হলো ভিডিও। এটি সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম, কারণ এতে ছবি ও শব্দ একত্রে থাকে।
অ্যানিমেশন (Animation): যখন কিছু স্থির ছবিকে দ্রুত সড়িয়ে চলমান বলে মনে করানো হয়, তখন তাকে অ্যানিমেশন বলে। কার্টুন ফিল্ম বা বিজ্ঞাপন তৈরিতে এর প্রচুর ব্যবহার রয়েছে।
গ্রাফিক্স মানে হলো কম্পিউটার ব্যবহার করে দৃশ্যমান কোনো কিছু তৈরি করা বা সম্পাদনা করা।
আমরা ইন্টারনেটে বা বইয়ে যেসব ছবি, লোগো, বা ডিজাইন দেখি— সবই গ্রাফিক্সের কাজ।
কম্পিউটারে কাজ করার ধরন অনুযায়ী গ্রাফিক্সকে প্রধানত দু’ভাগে ভাগ করা যায়:
রাস্টার গ্রাফিক্স (Raster Graphics): এই ধরণের ছবিগুলো ছোট ছোট ডট বা 'পিক্সেল' দিয়ে তৈরি হয়। যদি তুমি কোনো সাধারণ ছবি (যেমন জেপিজি) অনেক জুম করো, তবে দেখতে পাবে ছোট ছোট চারকোনা ঘর দেখা যাচ্ছে। পিক্সেল কমে গেলে ছবির মান (Resolution) খারাপ হয়ে যায়। জনপ্রিয় সফটওয়্যার হলো Adobe Photoshop।
ভেক্টর গ্রাফিক্স (Vector Graphics): এই ছবিগুলো পিক্সেল দিয়ে নয়, বরং গাণিতিক রেখা এবং বক্ররেখার সমন্বয়ে তৈরি হয়। এই ছবিগুলো যতই জুম করো না কেন, তা কখনও ফেটে যায় না বা মান খারাপ হয় না। লোগো বা বড় ব্যানার ডিজাইনে এটি ব্যবহার করা হয়। জনপ্রিয় সফটওয়্যার হলো Adobe Illustrator।