সহকারী শিক্ষক
০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৭:৫১ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১২
সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশেরই নয়, গোটা বিশ্বের এক অমূল্য প্রাকৃতিক ঐতিহ্য। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো এটিকে “বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর আগে, ১৯৯২ সালে এটি “রামসার সাইট” (আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি) হিসেবে ঘোষিত হয়।
প্রায় ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত, এটি বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। বাংলাদেশের অংশের আয়তন প্রায় ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার, যা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী ও বরগুনা জুড়ে অবস্থিত। "সুন্দরবন" নামটি এখানকার সুন্দরী গাছ থেকে এসেছে।
সুন্দরবনে ঘুরে দেখার মতো বেশ কিছু পর্যটন স্থান রয়েছে, যেগুলোকে প্রধানত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:
· করমজল (Karamjal):সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সহজলভ্য স্পট। পশুর নদীর তীরে অবস্থিত এখানে রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র কুমিরের প্রজনন কেন্দ্র, হরিণ ও বানর দেখার ব্যবস্থা, এবং দেড় কিলোমিটার কাঠের ট্রেইল ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। প্রবেশ মূল্য ৪৬ টাকা (বাংলাদেশি)।
· হিরণ পয়েন্ট (Hiron Point):গভীর বনের স্পট, ‘নীলকমল অভয়ারণ্য’ নামেও পরিচিত। এখান থেকে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়।
· কচিখালী (Kochikhali):গভীর বনের একটি অভয়ারণ্য কেন্দ্র।
· সুপতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য (Supati Wildlife Sanctuary):আলীবান্দা থেকে দেড় ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত。
সৈকত ও দ্বীপ
· দুবলার চর (Dublar Char):সুন্দরবনের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত একটি দ্বীপ। এর স্বচ্ছ সৈকত এবং বিখ্যাত রাসমেলা (হিন্দু ধর্মীয় উৎসব) জন্য বিখ্যাত।
· কটকা (Katka):‘টাইগার পয়েন্ট’ নামে পরিচিত, রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখার জন্য অন্যতম সেরা জায়গা। এখানে সমুদ্র সৈকতও রয়েছে।
· জামতলা (Jamtola):সুন্দরবনের একটি জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত।
· মান্দারবাড়িয়া (Mandarbaria):সাতক্ষীরা রেঞ্জের অধীনে একটি সমুদ্র সৈকত।
ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার
· আলীবান্দা (Ali Banda):পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে নতুন নির্মিত। এখানে ৫০ ফুট উঁচু ওয়াচ টাওয়ার, ১ কিমি হাঁটার পথ, কুমির ও হরিণের ঘেরা স্থান রয়েছে।
· হারবাড়িয়া (Harbaria):মোংলার কাছের স্পট, পরিবেশ-বান্ধব পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
· কলাগাছিয়া (Kalagachhia):সাতক্ষীরা রেঞ্জের একটি ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার।