Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

খাদ্যশৃঙ্খলে ভারী ধাতু (As, Cr, Pb, Cd) যুক্ত হওয়ার কারণ ও এর প্রভাব

 

পৃথিবীতে বসবাসরত জীবগুলোকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা- (i) উৎপাদক (Producer) ও (ii) খাদক (Consumer)। উৎপাদক জীব বলতে বোঝায় যেসব জীব সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজেদের খাদ্য নিজেরা উৎপাদন করতে পারে। যেমন: সবুজ ক্লোরোফিল যুক্ত শৈবাল ও উদ্ভিদ। খাদ্য উৎপাদন করতে পারে বলে এদেরকে অটোট্রফও (Autotroph) বলা হয়। (গ্রিক অটো অর্থ নিজ এবং ট্রফ অর্থ খাদ্য উৎপাদন)। অন্যদিকে খাদক জীব বলতে বোঝায় যারা নিজেদের খাদ্য নিজেরা উৎপাদন করতে পারে না। এরা খাদ্যের জন্য অটোট্রফের উপর নির্ভরশীল। এদের পরভোজী জীব (Heteratroph) বলা হয়।

 

খাবারের প্রকৃতি ও স্তরের উপর ভিত্তি করে খাদকগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা-

 

i. তৃণভোজী (Herbivores): স্তরের উপর ভিত্তি করে এদের প্রাথমিক খাদক বা primary consumers বলা হয়। এরা ঘাস, লতাপাতা খেয়ে জীবনধারণ করে। স্থলজ বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে রয়েছে গরু, ছাগল, ভেড়া, হরিণ প্রভৃতি। জলজ বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে রয়েছে ঝিনুক, শামুক প্রভৃতি

 

ii. মাংসাশী স্তন্যপায়ী (Carnivores): স্তরের উপর ভিত্তি করে এদের দ্বিতীয় পর্যায়ের খাদক বা secondary consumers বলা হয়। এরা তৃণভোজী বা মাংসাশী হতে পারে। অন্য প্রাণীর মাংস খেয়ে এরা বেঁচে থাকে। স্থলজ বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে রয়েছে মানুষ, বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক প্রভৃতি। জলজ বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে রয়েছে কচ্ছপ, ব্যাঙ, বড়মাছ প্রভৃতি।

 

iii. সর্বভুক (Omnivores): স্তরের উপর ভিত্তি করে এরা তৃতীয় পর্যায়ের খাদক। এরা উদ্ভিদ ও প্রাণির মাংস খেয়ে বেঁচে থাকে। স্থলজ বাসুতন্ত্রের মধ্যে রয়েছে মানুষ, ভাল্লুক, হায়েনা প্রভৃতি। জলজ বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে রয়েছে ডলফিন, তিমি, জেলিফিশ প্রভৃতি।

 

খাদ্য শৃঙ্খল: খাদ্যকে মাধ্যম ধরে তার উৎস ও ব্যবহারকারীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের যে শৃঙ্খল তৈরি হয়, তাকে খাদ্য শৃঙ্খল বলে। আমরা আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, নিরাপত্তা সবকিছুর জন্য পরিবেশের উপর নির্ভরশীল। আমরা পরিবেশ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে বেঁচে থাকি; উদ্ভিদ পরিবেশের প্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যবহার করে খাদ্য বস্তু উৎপাদন করে। উদ্ভিদ তার পুষ্টির সকল উপাদান, মাটি, পানি এবং বায়ু থেকে সংগ্রহ করে থাকে। মাটি, পানি, বায়ুর যেকোনো একটি দূষিত হলে উদ্ভিদের জীবন চক্র ব্যাহত হতে পারে এবং দূষক পদার্থ উদ্ভিদের মাধ্যমে খাদ্য চক্রে প্রবেশ করতে পারে। যেসকল ধাতুর ঘনত্ব এর বেশি তাদেরকে সাধারণত ভারী ধাতু বলে। যেমন: লেড, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, আর্সেনিক ইত্যাদি। কিছু কিছু ধাতু আছে যেগুলো ভূ-ত্বক অতি সামান্য পরিমাণে উপস্থিত থাকে। এদেরকে ট্রেস ধাতু বলে। যেসব ট্রেস ধাতুর ঘনত্ব তাদেরকে হালকা ও এর বেশি হলে ভারী ধাতু বলা হয়।

 

বিষাক্ত ভারী ধাতু খাদ্যশৃঙ্খলে যুক্ত হওয়ার ধাপসমূহ-

 

i. শিল্প কারখানার মাধ্যমে ভারী ধাতুসমূহ পরিবেশে যুক্ত হওয়া।

 

ii. পানির মাধ্যমে ভারী ধাতুসমূহ নদীতে স্থানান্তর।

 

iii. জলজ উদ্ভিদ ও ক্ষুদ্র প্রাণীতে ভারী ধাতুসমূহ যুক্ত হওয়া।

 

iv. মাছ কর্তৃক ক্ষুদ্র প্রাণী ও জলজ উদ্ভিদ খাদ্যগ্রহণের মাধ্যমে মাছের শরীরে প্রবেশ।

 

v. মানুষ কর্তৃক উক্ত মাছ খাওয়ার মাধ্যমে মানব শরীরে ভারী ধাতু প্রবেশ।

 

এছাড়া দূষিত পানি খাদ্যশস্য উৎপাদনে ব্যবহার করা হলে বা কৃষিকাজে বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার করা হলে, উক্ত ভারী ধাতুসমূহ খাদ্যশস্যে (ধান, গম, যব, ভুট্টা, মাশরুম) প্রবেশ করে। বর্তমানে চামড়া শিল্পে যে সকল ভারী ধাতু ব্যবহার করা হয় তা চামড়া বর্জ্যে মিশে থাকে। উক্ত বর্জ্য ব্রয়লার মুরগী ও পুকুরের মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যার মাধ্যমে সহজেই ভারী ধাতু মানব শরীরে প্রবেশ করে।

 

 

 

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট