Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ

ঝিঙে ফুল কবিতা লিখেছেন কাজী নজরুল ইসলাম

নজরুলের ঝিঙেফুল কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে। বইটির প্রকাশক ডিএম লাইব্রেরি, ৬১ নম্বর কর্ণওয়ালিশ স্ট্রিট কলিকাতা। গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছিল বীর বাদলকে। ‘ঝিঙে ফুল! ঝিঙে ফুল/ সবুজ পাতার দেশে ফিরোজিয়া ঝিঙে ফুলঝিঙে ফুল/ গুল্মে পর্ণে/ লতিকার কর্ণে/ ঢলঢল স্বর্ণে/ ঝলমল দোলো দুল/ ঝিঙে ফুল/ পাতার দেশের পাখি বাঁধা হিয়া বোঁটাতে/ গান তব শুনি সাঝেঁ তব ফুটে ওঠাতে/ পউষের বেরাশেষ/ পরি জাফরানি বেশ/ মরা মাচানের দেশ/ কওে তোলো মশগুল/ ঝিঙে ফুল।’ ঝিঙে ফুল শিশুতোষ কবিতায় নজরুলের রস বেশ উপভোগ্য। কবিতায় মূলত প্রকৃতি প্রতিনিধিত্ব করেছে। তিনি অবহেলিত প্রকৃতির উপাদানকে অসাধারণভাবে উপস্থাপন করেছেন। ছন্দের ব্যবহার অনন্য। ছন্দের মাধ্যমে প্রকৃতির উপাদানটি পাঠকদের সুস্পষ্ট বার্তা দেয়, যা সৃষ্টিকর্তার গুণ প্রকাশ পেয়েছে। সাতাশ লাইনের এই কবিতায় চুরানব্বইটি শব্দ রয়েছে। এ কবিতায় বক্তা সরাসরি ঝিঙে ফুলকে সম্বোধন করে কথা বলেছেন। শুরুতে ঝিঙে ফুলকে ডেকেছেন দুইবার। ঝিঙে ফুলকে এদেশের সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়ে বলেন ‘সবুজ পাতার দেশে ফিরোজিয়া ঝিঙে ফুল’। অর্থাৎ তিনি এখানে ‘সবুজ’, ‘ফিরোজিয়া’, ‘ফিঙে’র কথা বলে মূলত দুটি কাজ করেছেন। এক. বাংলাদেশের প্রকৃতির বিভিন্ন রঙের বর্ণনা দিয়ে শিশুদের মনকে রঙিন করার প্রয়াস চালিয়েছেন। দুই. প্রকৃতির এ বিচিত্র রঙের উপস্থিতি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বকে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন। এই কবিতায় তিনি আরো কিছু রঙের উল্লেখ করেছেন, যেমন জাফরান, শ্যামলী ইত্যাদি।

শুধুই কি রঙের বর্ণনা দিয়েছেন কবি! না, তিনি প্রকৃতির বৈচিত্র্যকে তুলে ধরেছেন। যেমন -‘পউষ’। পউষের গানের কথা বলেছেন। আর গানের মূলকথা হলো ফুল। আর ফুল ‘করে তোলে মশগুল।’ এ কবিতায় দেশকে নানাভাবে উপস্থাপন করেছেন। কখনো ‘সবুজ পাতার দেশ’, আবার কখনো ‘পাতার দেশ’ ইত্যাদি নামে অভিহিত করেছেন। স্বভাবসুলভভাবে তিনি এখানেও দেশকে ভালোবাসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি শেষ স্তবকে বলেছেন, ‘তুমি বলোআমি হায়/ ভালোবাসি মাটিমায়/ চাই না ও অলকায়/ ভালো এই পথভুল।’

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট