Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:১৪ অপরাহ্ণ

ছোলাবীজে শ্বসনের পরীক্ষা
ছোলাবীজে যে শ্বসন হয় এবং শ্বসন যে তাপ উৎপন্ন করে, তা একটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করা যায়। নিচে পরীক্ষাটির বিবরণ দেওয়া হলো: 
প্রয়োজনীয় উপকরণ
দুটি সমান সাইজের থার্মোফ্লাস্ক (ক ও খ চিহ্নিত)
অঙ্কুরিত ছোলাবীজ
মৃত বা সিদ্ধ ছোলাবীজ (নরমাল ছোলার পরিবর্তে সিদ্ধ করা)
দুটি থার্মোমিটার
কিউপ্রিক সালফেট বা মারকিউরিক ক্লোরাইড (জীবাণুনাশক)
তুলা।

কার্যপদ্ধতি
১. প্রথমে কিছু ভালো ছোলাবীজকে পানিতে ভিজিয়ে কয়েক দিন রেখে অঙ্কুরিত করে নেওয়া হয়। অঙ্কুরিত ছোলার শ্বসন হার খুব বেশি থাকে।
২. অন্য কিছু ছোলাবীজ সিদ্ধ করে বা পানিতে ফুটিয়ে মৃত বা নিষ্ক্রিয় করে নেওয়া হয়।
৩. 'ক' চিহ্নিত থার্মোফ্লাস্কে কিছু অঙ্কুরিত ছোলাবীজ নেওয়া হয়। ফ্লাস্কের ভেতরে জীবাণু যেন আক্রমণ না করে, সেজন্য সামান্য জীবাণুনাশক (যেমন- কার্বলিক এসিড বা মারকিউরিক ক্লোরাইড) মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
৪. 'খ' চিহ্নিত থার্মোফ্লাস্কে সমপরিমাণ সিদ্ধ বা মৃত ছোলাবীজ নেওয়া হয় (এটি নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা বা control হিসেবে কাজ করবে)।
৫. উভয় ফ্লাস্কের মুখ এমনভাবে সচ্ছল ও বায়ুরোধী করে বন্ধ করা হয় যেন ভেতর থেকে বাতাস বাইরে যেতে না পারে এবং বাইরে থেকেও বাতাস ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে।
৬. একটি করে থার্মোমিটার দুটি ফ্লাস্কের ছিদ্রে এমনভাবে প্রবেশ করানো হয় যেন থার্মোমিটারের বাল্বগুলো ছোলার মাঝখানে থাকে।
৭. থার্মোমিটারের প্রাথমিক তাপমাত্রা রেকর্ড করে ফ্লাস্ক দুটিকে কিছু সময় (কয়েক ঘণ্টা বা ১ দিন) স্থিরভাবে রেখে দেওয়া হয়। [1]

পর্যবেক্ষণ ও ফলাফল
কিছু সময় পর দেখা যায়, 'ক' ফ্লাস্কে রাখা থার্মোমিটারের পারদ ওপরে উঠে গেছে, অর্থাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।
কিন্তু 'খ' ফ্লাস্কে রাখা থার্মোমিটারের তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয়নি বা তাপমাত্রা অপরিবর্তিত রয়েছে।
# সিদ্ধান্ত
'ক' ফ্লাস্কে অঙ্কুরিত সজীব ছোলাবীজ ছিল, যা শ্বসন প্রক্রিয়ায় শক্তি বা তাপ উৎপন্ন করেছে। এই উৎপাদিত তাপের কারণে থার্মোমিটারের তাপমাত্রা বেড়েছে। অন্যদিকে 'খ' ফ্লাস্কে মৃত বীজ থাকায় কোনো শ্বসন হয়নি এবং তাপও উৎপন্ন হয়নি।
অতএব, প্রমাণিত হয় যে জীবিতে বা অঙ্কুরিত ছোলাবীজের শ্বসনের সময় তাপ নির্গত হয়।
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট