. বীজ ফসলের জমি নির্বাচন ও পৃথকীকরণ দূরত্ব (Isolation Distance)
- জমি নির্বাচন: বীজ উৎপাদনের জন্য নির্বাচিত জমিটি অবশ্যই উর্বর, সুনিষ্কাশিত এবং আগাছামুক্ত হতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, জমিতে আগের বছর একই ফসলের অন্য কোনো জাতের চাষ হওয়া চলবে না।
- পৃথকীকরণ দূরত্ব: পরপরাগায়ন যেন না ঘটে এবং অন্য জাতের মিশ্রণ এড়াতে বীজ ফসলের জমিকে একই ফসলের অন্য জাতের মাঠ থেকে একটি নির্দিষ্ট নিরাপদ দূরত্বে রাখতে হয়। একে পৃথকীকরণ দূরত্ব বলে।
২. বীজ শোধন ও রোপণ প্রযুক্তি
- বীজ শোধন: বীজ বোনার আগে ছত্রাকনাশক (যেমন- প্রোভ্যাক্স বা ভিটাভ্যাক্স) দিয়ে বীজ শোধন করা হয়। এতে বীজবাহিত রোগবালাই থেকে ফসল রক্ষা পায়।
- লাইন বা সারিবদ্ধ পদ্ধতি: বীজ ফসলকে সবসময় নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে লাইনে বপন বা রোপণ করতে হয়, যাতে অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যা সহজ হয়।
৩. রোগিং বা বাছাইকরণ (Roguing)
বীজ উৎপাদন প্রযুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো রোগিং।
- পদ্ধতি: মূল কাঙ্ক্ষিত ফসলের জাত ছাড়া জমিতে অন্য কোনো জাতের উদ্ভিদ, আগাছা বা রোগাক্রান্ত গাছ দেখা দিলে তা শিকড়সহ উপড়ে ফেলে নষ্ট করে দেওয়াকে রোগিং বলে।
- ধাপ: এটি সাধারণত তিন ধাপে করা হয়—ফুল আসার আগে, ফুল আসার সময় এবং ফসল পাকার সময়ে।
৪. বীজ ফসল কর্তন ও মাড়াইকরণ (Harvesting & Threshing)
- পরিপক্বতা: বীজ সম্পূর্ণভাবে পাকার পর (যেমন ধানের ক্ষেত্রে চিটা বাদে দানা শক্ত হলে) রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে কাটতে হবে।
- সতর্কতা: মাড়াই করার মেঝে বা চালানি যন্ত্রটি খুব ভালোভাবে পরিষ্কার রাখতে হবে যাতে অন্য কোনো ফসলের দানা বা ময়লা বীজের সাথে মিশে না যায়।
৫. বীজ শুকানো ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ (Drying & Moisture Control)
- আর্দ্রতা: বীজ সংগ্রহের পর তা রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে আর্দ্রতা ১০-১২% এর মধ্যে নামিয়ে আনতে হয়। আর্দ্রতা বেশি থাকলে বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা নষ্ট হয় এবং পোকা ও ছত্রাকের আক্রমণ ঘটে।
- সংরক্ষণ: ভালোমতো শুকানোর পর বীজকে বায়ুরোধী পাত্রে (যেমন- ডল বা প্লাস্টিকের ড্রাম) সংরক্ষণ করতে হয়।