ফসলের উৎপাদন, বৃদ্ধি এবং গুণগত মানের ওপর আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রত্যক্ষ এবং গভীর প্রভাব রয়েছে। নিচে কৃষি খাতে আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রধান প্রভাবগুলো আলোচনা করা হলো:
১. ইতিবাচক প্রভাব
- অনুকূল তাপমাত্রা ও সূর্যালোক: সঠিক পরিমাণে সূর্যালোক এবং উপযুক্ত তাপমাত্রা উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, যা ফসলের দ্রুত বৃদ্ধি এবং ভালো ফলনে সাহায্য করে।
- পরিমিত বৃষ্টিপাত: সময়মতো এবং নির্দিষ্ট পরিমাণে বৃষ্টিপাত ফসলের জন্য প্রাকৃতিক সেচ হিসেবে কাজ করে। এটি মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ঠিক রাখে।
- ঋতুভিত্তিক বৈচিত্র্য: জলবায়ুর ঋতুভিত্তিক পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ফসল (যেমন: শীতকালে রবি শস্য এবং বর্ষাকালে খরিফ শস্য) চাষ করা সম্ভব হয়।
২. নেতিবাচক প্রভাব (জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ)
- খরা ও অনাবৃষ্টি: দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হলে মাটিতে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে ফসল শুকিয়ে যায়, গাছের বৃদ্ধি থমকে দাঁড়ায় এবং ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায়।
- অতিবৃষ্টি ও বন্যা: অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষেত তলিয়ে যায়। বিশেষ করে জলাবদ্ধতার কারণে শিকড় পচে ধান ও সবজি জাতীয় ফসল নষ্ট হয়ে যায়।
- অস্বাভাবিক তাপমাত্রা: অতিরিক্ত গরম বা তীব্র শীত ফসলের পরাগায়ন ও ফুল-ফল ধরার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। অসময়ে অতিরিক্ত শীত বা কুয়াশার কারণে সরিষা, আলু ও বোরো ধানের ক্ষতি হয়।
- লবণাক্ততা বৃদ্ধি: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়লে উপকূলীয় অঞ্চলের ফসলি জমিতে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে। এতে জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
- রোগবালাই ও পোকামাকড়ের উপদ্রব: আবহাওয়া স্যাঁতসেঁতে বা অতিরিক্ত উষ্ণ হলে ফসলে ক্ষতিকর পোকামাকড় এবং ছত্রাকজনিত রোগের আক্রমণ বেড়ে যায়।