গবাদিপশুর ক্ষুরা রোগ (Foot-and-Mouth Disease - FMD) একটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং ক্ষতিকর ভাইরাসজনিত রোগ। এটি সাধারণত গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার মতো দ্বিখণ্ডিত ক্ষুরযুক্ত প্রাণীদের হয়ে থাকে। সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ ও প্রতিষেধক টিকা না দিলে খামারে এই রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। [
1,
2,
3,
4,
5]
ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধ ও আক্রান্ত পশুর যত্নে করণীয় প্রধান বিষয়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. নিয়মিত টিকা প্রদান (প্রধান প্রতিরোধক)
- বছরে দুই বার টিকা: সুস্থ গবাদিপশুকে প্রতি বছর নিয়মিত দুই বার ক্ষুরা রোগের প্রতিষেধক টিকা দিতে হবে।
- বাছুরের ক্ষেত্রে: বাছুরকে নির্দিষ্ট বয়স হওয়া মাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রথম ডোজ এবং পরবর্তী সময়ে বুস্টার ডোজ দিতে হবে। [1, 2]
২. খামারের জৈব নিরাপত্তা (Bio-security)
- আক্রান্ত পশুকে আলাদা করা: খামারে কোনো পশুর মাঝে ক্ষুরা রোগের লক্ষণ দেখা দিলে তাকে অবিলম্বে সুস্থ পশু থেকে আলাদা করতে হবে।
- জীবাণুনাশক ব্যবহার: খামারের প্রবেশপথে এবং মেঝেতে নিয়মিত জীবাণুনাশক ছিটানো প্রয়োজন। পশুর ঘর সবসময় শুষ্ক ও পরিষ্কার রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পশুকে কাদা বা নোংরা পানিতে রাখা যাবে না।
- নতুন পশু কোয়ারেন্টাইন: বাইরে থেকে নতুন কোনো পশু কিনে আনলে সরাসরি খামারে না ঢুকিয়ে অন্তত ১৪ দিন আলাদা রেখে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। [1, 2]
৩. আক্রান্ত পশুর প্রাথমিক চিকিৎসা ও যত্ন
ক্ষুরা রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই, তবে পশুর কষ্ট কমাতে এবং সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ ঠেকাতে চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু যত্ন নেওয়া জরুরি: [
1]
- মুখের ঘায়ের যত্ন: ফিটকিরির পানি (১ লিটার পানিতে ১০ গ্রাম বা ২ চা চামচ ফিটকিরি) দিয়ে দিনে ২-৩ বার পশুর মুখ পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া সোহাগার খৈ বা মধু মুখের ঘায়ে প্রলেপ হিসেবে দেওয়া যায়। [1, 2]
- পায়ের ক্ষতের যত্ন: খাওয়ার সোডা (১ লিটার পানিতে ৪০ গ্রাম) অথবা হালকা পটাশ মিশ্রিত পানি দিয়ে ক্ষুর ও পায়ের ক্ষত ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে ক্ষতস্থানে অ্যান্টিসেপটিক পাউডার বা মলম ব্যবহার করা যেতে পারে। [1, 2]
- নরম খাবার দেওয়া: মুখে ঘা থাকার কারণে পশু শক্ত ঘাস বা খড় খেতে পারে না। তাই এই সময়ে পশুকে জাউ ভাত, নরম ভুষি বা কচি ঘাসের মতো তরল ও নরম খাবার দিতে হবে। [1, 2, 3]