সহকারী শিক্ষক
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৫:০৪ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ ষষ্ঠ
বিষয়ঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১
সমাজ বিবর্তন বলতে মানুষের জীবনযাপন, পারস্পরিক সম্পর্ক, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ধীরে ধীরে পরিবর্তন ও উন্নয়নকে বোঝায়। আদিম যুগ থেকে বর্তমান আধুনিক সমাজে পৌঁছাতে মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এসেছে।
১. আদিম শিকার ও সংগ্রহকারী সমাজ
মানবসমাজের প্রাথমিক পর্যায়ে মানুষ ছোট ছোট দলে বসবাস করত। তারা বন্য প্রাণী শিকার করত এবং ফলমূল, শাক-সবজি ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক খাদ্য সংগ্রহ করে জীবন ধারণ করত। তখন স্থায়ী বসতি ও উন্নত সামাজিক প্রতিষ্ঠান ছিল না। পাথরের তৈরি অস্ত্র ছিল তাদের প্রধান হাতিয়ার।
২. কৃষিভিত্তিক সমাজ
মানুষ যখন কৃষিকাজ ও পশুপালন শিখল, তখন সমাজে বড় পরিবর্তন ঘটে। মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে এবং গ্রাম গড়ে ওঠে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় জনসংখ্যা বাড়তে থাকে। সম্পত্তি, পরিবার, নেতৃত্ব ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিকাশ ঘটে।
৩. নগর ও সভ্যতার বিকাশ
কৃষির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বড় বড় বসতি ও নগর গড়ে ওঠে। মেসোপটেমিয়া, মিশর, সিন্ধু ও চীনের মতো অঞ্চলে প্রাচীন সভ্যতার বিকাশ ঘটে। লিখনপদ্ধতি, আইন, প্রশাসন, বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্থাপত্যের উন্নতি হয়।
৪. শিল্পভিত্তিক সমাজ
১৮শ শতাব্দীতে শিল্পবিপ্লবের ফলে সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পায় এবং কারখানাভিত্তিক উৎপাদন শুরু হয়। মানুষ কাজের সন্ধানে গ্রাম থেকে শহরে আসতে থাকে। শিল্পশ্রমিক, ব্যবসায়ী ও নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ ঘটে।
৫. আধুনিক ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সমাজ
বর্তমান সমাজে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। কম্পিউটার, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের জীবনযাত্রাকে দ্রুত পরিবর্তন করছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা, যোগাযোগ ও কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।
সমাজ বিবর্তনের ধারাটি
আদিম সমাজ → শিকার ও সংগ্রহ → কৃষিভিত্তিক সমাজ → নগর ও সভ্যতা → শিল্পসমাজ → আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সমাজ
উপসংহার
সমাজ কখনো স্থির নয়; মানুষের প্রয়োজন, জ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে সমাজও পরিবর্তিত হয়। তাই সমাজ বিবর্তন হলো মানুষের জীবন ও সামাজিক ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ধারাবাহিক ইতিহাস।