Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৭:৩১ পূর্বাহ্ণ

কেওড়া গাছ সুন্দরবনের।
কেওড়া (বৈজ্ঞানিক নাম: Sonneratia apetala) হলো সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান, দ্রুত বর্ধনশীল এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লবণসহিষ্ণু ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ। জোয়ার-ভাটার কাদা মাটিতে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে এবং শ্বাসকার্য চালাতে এই গাছের কিছু অনন্য প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
কেওড়া গাছ সম্পর্কে জরুরি এবং আকর্ষণীয় তথ্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • শারীরিক গঠন ও মূল: কেওড়া গাছ সাধারণত মাঝারি থেকে বেশ লম্বা (প্রায় ১৫-২০ মিটার) হয়ে থাকে। কাদা মাটিতে অক্সিজেন কম থাকায়, এর মূল থেকে অসংখ্য সরু ও কাঁটার মতো শ্বাসমূল (Pneumatophores) মাটির ওপরে সোজা হয়ে জেগে থাকে, যা বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করে।
  • সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রে ভূমিকা: সুন্দরবনের হরিণ ও বানরের প্রধান খাদ্য হলো কেওড়া গাছের পাতা ও ফল। বানররা যখন গাছের ডালে বসে পাতা ও ফল ছিঁড়ে নিচে ফেলে, হরিণরা নিচে দাঁড়িয়ে তা খায়। বনের এই দুটি প্রাণীর মধ্যে এটি একটি চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করেছে।
  • কেওড়া ফল ও এর ব্যবহার: কেওড়া গাছে গোল ও সবুজ রঙের প্রচুর ফল ধরে, যা টক-মিষ্টি স্বাদের হয়। এই ফল দিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষেরা চমৎকার আচার, চাটনি ও জেলি তৈরি করেন। এছাড়া তরকারিতে টক স্বাদ আনতেও এটি ব্যবহৃত হয়।
  • অর্থনৈতিক গুরুত্ব: কেওড়ার কাঠ বেশ হালকা ও নরম প্রকৃতির। তাই এই কাঠ দিয়ে প্যাকিং বক্স, দেশলাইয়ের কাঠি ও বাক্স, ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র এবং জ্বালানি তৈরি করা হয়।
  • উপকূল রক্ষা: বনের নতুন জেগে ওঠা চরে ও নদীর পাড়ে কেওড়া গাছ খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে ঘন বনের সৃষ্টি করে, যা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের গতি কমিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষা করে।
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট