বিষাক্ত সাদা কষ (Milky Sap): গেওয়া গাছের ডাল বা পাতা ভাঙলে দুধের মতো ঘন সাদা কষ বের হয়। এই কষটি অত্যন্ত বিষাক্ত। এটি মানুষের চোখে লাগলে সাময়িকভাবে অন্ধত্বের সৃষ্টি করতে পারে, তাই একে ইংরেজিতে "Blinding Tree" বা অন্ধকারী গাছ বলা হয়। বনের কাঠুরিয়া ও বাওয়ালিরা এই গাছ কাটার সময় খুব সাবধানে থাকেন।
ভিন্ন রঙের পাতা: গেওয়া চিরসবুজ বনের গাছ হলেও বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত শীত বা বসন্তের আগে) এর পাতাগুলো ঝরে পড়ার আগে চমৎকার হলদে ও লালচে রঙ ধারণ করে। এই সময় সুন্দরবনের গেওয়া বনের রূপ দেখতে দারুণ দেখায়।
শিল্পে ব্যবহার ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব: গেওয়ার কাঠ অনেক হালকা ও নরম। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের কাগজ তৈরিতে এবং দেশলাই বা দিয়াশলাইয়ের কাঠি ও বাক্স তৈরিতে এই গাছের কাঠ প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
মধু ও ফুল: বসন্তকালে গেওয়া গাছে ছোট ছোট হলুদ রঙের থোকা থোকা ফুল ফোটে। এই ফুল থেকে মৌমাছিরা যে মধু সংগ্রহ করে, তা হালকা টক-মিষ্টি স্বাদের হয় এবং এটি সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান মধু হিসেবে পরিচিত।
উপকূল রক্ষা: গেওয়া গাছ অত্যন্ত সহনশীল এবং কাদা মাটিতে শক্ত নেটওয়ার্কের মূল তৈরি করে মাটির ক্ষয় রোধ করে, যা ঘূর্ণিঝড়ের তীব্র গতি আটকে উপকূলকে সুরক্ষিত রাখে।
গেওয়া গাছ নিয়ে আপনার কি আরও কোনো নির্দিষ্ট বিষয় জানার রয়েছে? যেমন:
এর বিষাক্ত কষ চোখে লাগলে কী প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হয়?