শারীরিক গঠন: বাইন গাছ সুন্দরবনের অন্যান্য গাছের তুলনায় বেশ দ্রুত বাড়ে এবং এটি প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এর কাণ্ড ও ডালপালা বেশ মোটা এবং পাতাগুলো দেখতে কিছুটা পেয়ারা পাতার মতো মসৃণ ও সবুজ হয়।
পেন্সিলের মতো শ্বাসমূল: কাদা মাটিতে অক্সিজেনের অভাব পূরণের জন্য বাইন গাছের গোড়া থেকে চারদিকের মাটিতে অসংখ্য সোজা ও সরু শ্বাসমূল (Pneumatophores) মাটির ওপরে জেগে ওঠে। এগুলো দেখতে অনেকটা খাড়া করে রাখা পেন্সিলের মতো দেখায়।
মধু ও ফুল: বসন্তকালে বাইন গাছে ছোট ছোট হলুদ ও সোনালী রঙের থোকা থোকা ফুল ফোটে। এই ফুলগুলো থেকে সুন্দরবনের মৌমাছিরা প্রচুর পরিমাণে মধু সংগ্রহ করে। মৌয়ালদের কাছে বাইন ফুল থেকে তৈরি মধু অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুস্বাদু।
লবণ নিঃসরণ প্রক্রিয়া: বাইন গাছের একটি চমৎকার বৈশিষ্ট্য হলো—এর মূল মাটি থেকে লোনা পানি শোষণ করলেও, অতিরিক্ত লবণ পাতার মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয়। তাই রোদ উঠলে এর পাতায় লবণের স্ফটিক চকচক করতে দেখা যায়।
ব্যবহার ও গুরুত্ব: এর কাঠ ঘরের খুঁটি, বেড়া, লাঙল এবং জ্বালানি হিসেবে স্থানীয়ভাবে প্রচুর ব্যবহৃত হয়। এছাড়া নদীর পাড় শক্ত রাখতে এবং শক্তিশালী ঝড়ের হাত থেকে সুন্দরবনের উপকূলকে রক্ষা করতে এর ভূমিকা অপরিসীম।