সিনিয়র শিক্ষক
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:০৭ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ বাংলা সাহিত্য
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-৪৬ (কবিতা)
আমি কোনো আগন্তুক নই - আহসান হাবীব [১৯১৭-১৯৮৫] আসমানের তারা সাক্ষী সাক্ষী এই জমিনের ফুল, এই নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষী সাক্ষী এই জারুল জামরুল, সাক্ষী পুবের পুকুর, তার ঝাকড়া ডুমুরের ডালে স্থির দৃষ্টি মাছরাঙা আমাকে চেনে আমি কোনো অভ্যাগত নই খোদার কসম আমি ভিনদেশি পথিক নই আমি কোনো আগন্তুক নই। আমি কোনো আগন্তুক নই, আমি ছিলাম এখানে, আমি স্বাপ্নিক নিয়মে এখানেই থাকি আর এখানে থাকার নাম সর্বত্রই থাকা- সারা দেশে। আমি কোনো আগন্তুক নই। এই খর রৌদ্র জলজ বাতাস মেঘ ক্লান্ত বিকেলের পাখিরা আমাকে চেনে তারা জানে আমি কোনো অনাত্মীয় নই। কার্তিকের ধানের মঞ্জরী সাক্ষী সাক্ষী তার চিরোল পাতার টলমল শিশির সাক্ষী জ্যোৎস্নার চাদরে ঢাকা নিশিন্দার ছায়া অকাল বার্ধক্যে নত কদম আলী তার ক্লান্ত চোখের আঁধার- আমি চিনি, আমি তার চিরচেনা স্বজন একজন। আমি জমিলার মা'র শূন্য খাঁ খাঁ রান্নাঘর শুকনো থালা সব চিনি সে আমাকে চেনে। হাত রাখো বৈঠায় লাঙলে, দেখো আমার হাতের স্পর্শ লেগে আছে কেমন গভীর। দেখো মাটিতে আমার গন্ধ, আমার শরীরে লেগে আছে এই স্নিগ্ধ মাটির সুবাস। আমাকে বিশ্বাস করো, আমি কোনো আগন্তুক নই। দু'পাশে ধানের খেত সরু পথ সামনে ধু ধু নদীর কিনার আমার অস্তিত্বে গাঁথা। আমি এই উধাও নদীর মুগ্ধ এক অবোধ বালক।" [কবি-পরিচিতি: আহসান হাবীব ১৯১৭ সালের ২রা জানুয়ারি পিরোজপুর জেলার শঙ্করপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বরিশালের ব্রজমোহন কলেজে আইএ পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। গভীর জীবনবোধ ও আশাবাদ তাঁর কবিতাকে বিশিষ্ট ব্যঞ্জনা দান করেছে। তাঁর কবিতার স্নিগ্ধতা পাঠকচিত্তে এক মধুর আবেশ সৃষ্টি করে। তিনি সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং আর্তমানবতার পক্ষে বক্তব্য রেখেছেন। তাঁর প্রথম কাব্য রাত্রিশেষ। এছাড়া ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য। ছোটোদের জন্য তাঁর কবিতার বই জোছনা রাতের গল্প ও ছুটির দিন দুপুরে। রানী খালের সাঁকো তাঁর কিশোরপাঠ্য উপন্যাস। আহসান হাবীব তাঁর সাহিত্যকর্মের জন্য বাংলা একাডেমি ও একুশে পদক পুরস্কার লাভ করেন। দৈনিক বাংলা পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক থাকাকালে ১৯৮৫ সালের ১০ই জুলাই তাঁর জীবনাবসান ঘটে।।]