Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০৩ অপরাহ্ণ

রেইনকোট'এর ব্যবহার
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'রেইনকোট' গল্পের মূলভাব নিচে সহজ ও সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
'রেইনকোট' গল্পের মূলভাব:
'রেইনকোট' গল্পটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত একটি মনস্তাত্ত্বিক ও প্রতীকী গল্প। এর মূল ভাবনা হলো—মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনা কীভাবে একজন সাধারণ, নিরীহ ও ভীরু মানুষকেও অসীম সাহসী এবং দেশপ্রেমিক বীর যোদ্ধায় রূপান্তরিত করতে পারে।
গল্পের প্রধান চরিত্র ঢাকা কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক নুরুল হুদা। তিনি অত্যন্ত সাধারণ ও ভীতু প্রকৃতির মানুষ, যিনি পাকিস্তানি মিলিটারির ভয়ে সবসময় তটস্থ থাকেন। কিন্তু একদিন বৃষ্টির দিনে কলেজে যাওয়ার সময় তিনি তাঁর শ্যালক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টুর ফেলে যাওয়া 'রেইনকোট'টি গায়ে জড়ান। এই সাধারণ রেইনকোটটি গায়ে দেওয়ার পর তাঁর মনস্তত্ত্বে এক জাদুকরী ও অবিশ্বাস্য পরিবর্তন ঘটে। মুক্তিযোদ্ধা মিন্টুর ব্যবহৃত পোশাকটির ওম বা উষ্ণতা নুরুল হুদার ভেতরের সুপ্ত দেশপ্রেম, আত্মমর্যাদা এবং সাহসকে জাগিয়ে তোলে।
পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করার অপরাধে পাকিস্তানি আর্মি তাঁকে গ্রেপ্তার করে সিলিংয়ের সাথে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে চাবুক দিয়ে পেটায়। কিন্তু রেইনকোটের প্রভাবে তিনি কোনো যন্ত্রণাবোধ করেননি, বরং মিলিটারির রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন আস্তানার ঠিকানা বলতে অস্বীকৃতি জানান। চাবুকের প্রতিটি আঘাতে তাঁর মনে হচ্ছিল—তিনি নিজেই যেন একজন মুক্তিযোদ্ধা।
পরিশেষে বলা যায়, গল্পে 'রেইনকোট'টি কেবল একটি পোশাক নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, বীরত্ব ও জাতীয়তাবাদী চেতনার এক অপরাজেয় প্রতীক। এই চেতনা যখন কোনো সাধারণ মানুষের হৃদয়ে প্রবেশ করে, তখন মৃত্যুভয় বা শারীরিক নির্যাতন তাকে আর দমাতে পারে না।
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট