চীফ ইন্সট্রাক্টর
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১৪ অপরাহ্ণ
চীফ ইন্সট্রাক্টর
ধরনঃ কারিগরি শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ ফার্ম মেশিনারি-১ (প্রথম পত্র)
অধ্যায়ঃ প্রথম অধ্যায়
পাঠঃ ফার্ম মেশিনারি স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা
জাতীয় পর্যাযায়ে গুণী শিক্ষকের মর্যাদা পেলেন সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ মেহেরপুরের প্রকৌশলী মোঃ শফি উদ্দীন, চিফ ইন্সট্রাক্টর (ফার্ম মেশিনারী)
তারিখ : ৬ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।
বিষয় : গুণী শিক্ষক সম্মাননা–২০২৬: অর্জন হোক গর্বের, অনুসরণ হোক অঙ্গীকারের।
আসসালামু আলাইকুম।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস–২০২৬-এর এই গৌরবময় সময়ে বাংলাদেশের শিক্ষা পরিবারের জন্য ৫ অক্টোবর ২০২৬ একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে।
জাতির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে শিক্ষকদের অসামান্য অবদান, নিষ্ঠা, মেধা, সৃজনশীলতা, মানবিকতা ও দীর্ঘদিনের কর্মযজ্ঞের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পর্যায়ের ১০২ জন গুণী শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সম্মানিত শিক্ষকদের হাতে এ মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা তুলে দেন। প্রত্যেক সম্মানিত শিক্ষক পেয়েছেন সম্মাননা, ক্রেস্ট, সনদ এবং আর্থিক পুরস্কার।
এই মহতী উদ্যোগের জন্য সর্বপ্রথম জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে।
বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাই গুণী শিক্ষক সম্মাননার জন্য নির্বাচিত সকল সম্মানিত শিক্ষককে। আরও কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই যারা সততার সাথে এই গুণী শিক্ষক নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন তাদেরকে।
সম্মানিত গুনীজন-
আপনাদের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়-এটি আপনাদের পরিবার, শিক্ষার্থী, সহকর্মী, প্রতিষ্ঠান, জেলা, উপজেলা, বিভাগ এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজের গৌরব।
আবারও বিশেষ অভিনন্দন কারিগরি শিক্ষা পরিবারের গুণী শিক্ষকবৃন্দকে। কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায় থেকে যাঁরা জাতীয় পর্যায়ে এই সম্মাননা অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং অন্যান্য কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত শিক্ষক ও অধ্যক্ষগণ রয়েছেন।
তাঁদের এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে—কারিগরি শিক্ষাও জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান শক্তি এবং কারিগরি শিক্ষকের অবদানও জাতীয় স্বীকৃতির দাবিদার।
বিশেষভাবে যাঁদের নাম জাতীয়ভাবে প্রকাশিত তালিকায় এসেছে—
* গজারিয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের জেসমিন সুলতানা,
* মেহেরপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের প্রকৌশলী মোঃ শফি উদ্দীন,
* কচুয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আবুল কালাম আজাদ, চাদপুর.
* সিলেট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ সন্তোষ চন্দ্র দেবনাথ এবং
* নারায়ণগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আমিনুল হক সহ কারিগরি শিক্ষা পরিবারের সকল সম্মানিত গুণী শিক্ষককে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
* একই সঙ্গে দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. আমিনুল হকের জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক সম্মাননা অর্জনও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একটি নতুন প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও পাঠদান কার্যক্রমের সূচনালগ্নে নেতৃত্ব দেওয়া এবং দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদানের এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কারিগরি শিক্ষকদের জন্য অনুপ্রেরণার।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা—
জাতীয় পর্যায়ে যাঁরা সম্মাননা পেয়েছেন, তাঁরা অবশ্যই আমাদের গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক। কিন্তু যাঁরা জেলা পর্যায়ে প্রথম হয়েছেন, উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন, বিভাগীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছেন, আঞ্চলিক পর্যায়ে অসাধারণ অবদান রেখেছেন কিংবা দীর্ঘ কর্মজীবনে নীরবে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবন পরিবর্তন করেছেন—তাঁদের অবদানও কোনো অংশে ছোট নয়। জাতীয় পুরস্কার না পাওয়া মানেই কেউ কম গুণী নন। কারণ একজন প্রকৃত শিক্ষক তাঁর পুরস্কার শুধু ক্রেস্টে খুঁজে পান না; তিনি তাঁর পুরস্কার খুঁজে পান তাঁর শিক্ষার্থীর সাফল্যে, চরিত্র গঠনে, কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মধ্যে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সৃষ্টির মাধ্যমে। সুতরাং ৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি. তারিখ এই দিনে জাতীয়ভাবে সম্মানিত ১০২ জন গুণী শিক্ষক যেমন আমাদের গর্ব, তেমনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নীরবে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া প্রতিটি সৎ, নিষ্ঠাবান, আদর্শ ও মানবিক শিক্ষকও আমাদের গর্ব।
সম্মানিত গুণী শিক্ষকবৃন্দের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা—
আপনাদের অর্জন যেন শুধু একটি পুরস্কার গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে।
আপনাদের কর্মজীবন, সততা, নিষ্ঠা, শিক্ষার্থীবান্ধব আচরণ, নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী চিন্তা, মানবিকতা, পেশাগত দক্ষতা ও শিক্ষা-দর্শন যেন আমাদের জন্য হয়—
অনুসরণীয়,
অনুকরণীয় এবং
অনুপ্রেরণীয়।
একজন গুণী শিক্ষক সম্মাননা পেলেন—এটি আনন্দের। কিন্তু সেই সম্মাননা দেখে যদি আরও ১০ জন শিক্ষক বলেন—
“আমিও আমার কর্মের মাধ্যমে নিজেকে আরও যোগ্য করে তুলব,” তাহলেই এই সম্মাননার প্রকৃত সার্থকতা। আর যদি একজন শিক্ষার্থী বলেন— “আমি আমার শিক্ষকের মতো একজন সৎ, দক্ষ ও মানবিক মানুষ হতে চাই”, তাহলে সেই সম্মাননা সত্যিকার অর্থেই জাতি গঠনের শক্তিতে পরিণত হবে।
কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ-
এই মহতী সম্মাননা আয়োজন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।
বিশেষভাবে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই—
* মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
* মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী
* শিক্ষা মন্ত্রণালয়
* কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ
* কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর
* বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড
* গুণী শিক্ষক যাচাই-বাছাই ও নির্বাচন কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ
* সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ
* জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ
* এবং এই সম্মাননা কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে।
আপনাদের নিরপেক্ষতা, আন্তরিকতা, মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গুণী শিক্ষকদের জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
আগামীর জন্য একটি প্রত্যাশা-
আমি আশা করি, আগামী দিনগুলোতে জেলা, উপজেলা, বিভাগ ও আঞ্চলিক পর্যায়ে কর্মরত শিক্ষকগণ আরও উৎসাহিত হবেন এবং নিজেদের কর্মের মূল্যায়নের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় গুণী শিক্ষক সম্মাননার জন্য আবেদন বা মনোনয়ন করতে আগ্রহী হবেন। অনেক সময় যোগ্য শিক্ষক নিজের প্রচার করতে চান না। অনেকেই ভাবেন—
“আমার কাজই আমার পরিচয়।” এটি সত্য। তবে ভালো কাজের স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তির জন্য নয়—অন্যদের ভালো কাজ করতে উৎসাহিত করার জন্যও প্রয়োজন। তাই যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা, শিক্ষার্থীদের প্রতি অবদান, উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ড, প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে ভূমিকা, নৈতিকতা, সামাজিক অবদান এবং দীর্ঘদিনের শিক্ষকতার অর্জন থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকগণ যেন ভবিষ্যতে সম্মাননার জন্য আবেদন/মনোনয়নে উৎসাহিত হন—এটি আমাদের সকলের প্রত্যাশা।
সবশেষে-
জাতীয় পর্যায়ে সম্মানিত সকল গুণী শিক্ষককে আবারও আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
আপনাদের এই সম্মাননা হোক আরও বড় দায়িত্ব গ্রহণের প্রেরণা।
যাঁরা এবার জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা পেয়েছেন—তাঁদের জন্য রইল শ্রদ্ধা, অভিনন্দন ও শুভকামনা।
যাঁরা এবার পাননি—তাঁদের জন্যও রইল আন্তরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও শুভকামনা।
হয়তো এবার নয়—আগামী কোনো একদিন আপনাদের দীর্ঘদিনের কর্মযজ্ঞও জাতীয় স্বীকৃতির আলোয় উদ্ভাসিত হবে।
পুরস্কার পাওয়া গৌরবের,
পুরস্কারের যোগ্য হয়ে ওঠা আরও বড় গৌরবের,
আর একজন আদর্শ শিক্ষক হয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আলোকিত করা—সেটিই সবচেয়ে বড় অর্জন।
আসুন, আমরা সবাই অঙ্গীকার করি—
“আমি শুধু গুণী শিক্ষক হওয়ার চেষ্টা করব না;
আমি এমন শিক্ষক হওয়ার চেষ্টা করব,
যাঁকে দেখে অন্য শিক্ষক অনুপ্রাণিত হবেন
এবং শিক্ষার্থী তাঁর জীবন গড়ার আদর্শ খুঁজে পাবে।”
সকল গুণী শিক্ষক, সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা পরিবারের সকল সদস্যের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, কর্মময় জীবন ও সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করছি।
শিক্ষক বাঁচলে শিক্ষা বাঁচবে,
শিক্ষা বাঁচলে জাতি এগিয়ে যাবে।
”শিক্ষকতা এমন পেশা যা সকল পেশাকে জন্ম দেয়” – তারেক রহমান
শ্রদ্ধা, অভিনন্দন ও শুভকামনা—বাংলাদেশের সকল গুণী ও আদর্শ শিক্ষকের প্রতি।
-
প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতিকুর রহমান
অধ্যক্ষ
টেকনাফ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, টেকনাফ, কক্সবাজার।
সংগ্রহ:
প্রকৌশলী মোঃ শফি উদ্দীন
চিফ ইন্সট্রাক্টর (ফার্ম মেশিনারী)
মেহেরপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, মেহেরপুর।