Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৫০ অপরাহ্ণ

লবণাক্ত অঞ্চলে ফসল উৎপাদন কেীশল

লবণাক্ত অঞ্চলে ফসল উৎপাদন কেীশল

১. লবণাক্ততা সহিষ্ণু প্রধান ফসলসমূহ:

ধান: বিনা ধান-২৩, ব্রি ধান৬১, এবং ব্রি ধান৪৭ বা ব্রি ধান৭৩ এর মতো লবণ-সহিষ্ণু জাত উপকূলীয় অঞ্চলে ভালো জন্মে।

ডাল ও তেলবীজ: মুগ ডাল (যেমন- বারি মুগ-৬, ৭, ৮, ৯), সূর্যমুখী এবং চিনাবাদাম কম লবণাক্ত ও স্বল্প পানিতে বেশ উপযোগী।

সবজি ও ফল: মিষ্টি আলু, টমেটো, এবং তরমুজ মাঝারি লবণাক্ত মাটিতে চাষ করা সম্ভব।

২. সেচ ও নিষ্কাসনের  ব্যবস্থা:

নিষ্কাশন নালা তৈরি: জমির চারপাশ বা মাঝখানে ছোট নালার ব্যবস্থা করে অতিরিক্ত ও লবণাক্ত পানি দ্রুত বের করে দিতে হবে।

ভূগর্ভস্থ ড্রেনেজ (Subsurface Drainage): টাইল ড্রেনেজ বা পাইপ ড্রেনেজ পদ্ধতি ব্যবহার করে মাটির নিচের লবণাক্ত পানি ও জমানো অতিরিক্ত পানি অপসারিত করা যায়।

জলমগ্নতা রোধ: বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি যাতে বেশিক্ষণ জমে থেকে মাটির নিচে লবণের স্তর উপরে টেনে তুলতে না পারে, সেজন্য জল নিষ্কাশনের ভালো পথ রাখতে হবে

৩. পানির বাষ্পীভবন হ্রাসকরণ:

বিনা চাষে বা স্বল্প চাষে ফসল ফলানো (Zero/Minimum Tillage): জমি বারবার চাষ করলে ভেতরের আর্দ্রতা বাষ্পীভবনের মাধ্যমে দ্রুত উড়ে যায়। তাই লবণাক্ত অঞ্চলে গভীর চাষ না করে হালকা চাষ বা বিনা চাষে বীজ বপন করলে মাটির রস ধরে রাখা সম্ভব হয়।

উঁচু বেড তৈরি করে চাষাবাদ: জমি সমতল না রেখে উঁচু বেড বা আইল তৈরি করে চাষ করলে লবণের তীব্রতা কমে এবং পানি সেচ দেওয়ার পর তা দ্রুত বাষ্পীভূত হতে পারে না।

উপরিভাগ হালকা চাষ বা ব্রেকিং সয়েল: সেচ বা বৃষ্টির পর মাটির উপরিপৃষ্ট হালকা আলগা বা মই দিয়ে দিলে মাটির কৈশিক নালীগুলো ভেঙে যায়, যা নিচ থেকে পানি উঠে বাষ্পীভবন হওয়া রোধ করে।

৪. সঠিকভাবে জমি তৈরি: লবণাক্ত জমিতে সঠিকভাবে জমি তৈরি করার জন্য মাটির উপরিভাগের লবণ ধুয়ে ফেলা, কৈশিক প্রক্রিয়ায় ভূগর্ভস্থ লবণাক্ত পানি ওপরে ওঠা রোধ করা এবং মাটির স্বাস্থ্য উন্নত করার ওপর বিশেষ জোর দিতে হয়।

সঠিক সময়ে চাষ ও মই দেওয়া: মাটির নিচের লবণ যেন কৈশিক প্রক্রিয়ায় উপরে উঠে আসতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত ও হালকা চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে ও সমতল করতে হবে। তবে অতিরিক্ত গভীর চাষ এড়িয়ে চলা ভালো

জমি সমতলকরণ (Land Leveling): লবণাক্ত জমির জন্য জমি শতভাগ সমতল করা অত্যন্ত জরুরি। জমি উঁচু-নিচু থাকলে নিচু স্থানে পানি জমে লবণাক্ততা আরও বেড়ে যেতে পারে এবং উঁচু স্থান দ্রুত শুকিয়ে লবণের আস্তরণ পড়তে পারে। তাই জমি ভালোভাবে মই দিয়ে সমতল করুন।

৫. বপন পদ্ধতির পরিবর্তন ও কৌশল:

বীজ ভিজিয়ে বপন: বীজ ২৪ ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রেখে তারপর ভেজা জমিতে বপন করলে দ্রুত অঙ্কুরোদগম হয় এবং লবণের প্রভাব কম সহ্য করতে হয়।

ডিবলিং ও বিনা চাষ পদ্ধতি: মাটি না উল্টিয়ে বা বিনা চাষে নির্দিষ্ট দূরত্বে গর্ত করে (ডিবলিং পদ্ধতিতে) বীজ বা চারা রোপণ করলে মাটির নিচের লবণাক্ত স্তর উপরে উঠে আসতে পারে না।

বেড বা আইল পদ্ধতি: জমি উঁচু বেড বা প্লটে ভাগ করে বীজ বপন করা ভালো। এতে অতিরিক্ত সেচ বা বৃষ্টির লবণাক্ত পানি সহজেই নিষ্কাশন করা যায়।

মাথার ওপর মালচিং বা আচ্ছাদন: বীজ বপনের পর খড় বা কচুরিপানা দিয়ে মাটি ঢেকে দিলে মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে নিচে থাকা লবণ ওপরে এসে বীজের ক্ষতি করতে পারে না।

সঠিক সময় নির্বাচন: বৃষ্টির ঠিক আগে বা মাটিতে যখন হালকা মিষ্টি রস থাকে (লবণাক্ততা কম থাকে), তখন বীজ বপন করা সবচেয়ে নিরাপদ।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট