Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩০ পূর্বাহ্ণ

সাবমেরিন ক্যাবল (Submarine Cable)

সাবমেরিন ক্যাবল (Submarine Cable) বা সমুদ্রের তলদেশের অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের মূল ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত রয়েছে। স্যাটেলাইটের তুলনায় সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে অনেক দ্রুত গতিতে এবং বিশাল পরিমাণে ডেটা বা ইন্টারনেট ট্রাফিক আদান-প্রদান করা সম্ভব হয়।

বাংলাদেশ কীভাবে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সাথে যুক্ত হয়েছে, তা নিচে চিত্র ও বর্ণনার মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

১. সাবমেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্কের মানচিত্র ও রুট (চিত্র)

২. বাংলাদেশ যেভাবে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে পৃথিবীর সাথে যুক্ত

বাংলাদেশের সাথে বিশ্ব ইন্টারনেটের সংযোগ প্রক্রিয়া মূলত কয়েকটি স্তরে সম্পন্ন হয়:

 [ বিশ্ব ইন্টারনেট / আন্তর্জাতিক ডেটা হাব (ইউরোপ, এশিয়া, আমেরিকা) ]
                 │
                 ▼ (সমুদ্রের তলদেশে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল রুট)
      [ ল্যান্ডিং স্টেশন: কক্সবাজার / পটুয়াখালী (কুয়াকাটা) ]
                 │
                 ▼ (টেরেস্টরিয়াল অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল নেটওয়ার্ক)
     [ আইটিসি (ITC) ও আইআইজি (IIG) অপারেটরসমূহ ]
                 │
                 ▼
 [ মোবাইল অপারেটর ও আইএসপি (ISP) -> গ্রাহকের কম্পিউটার/স্মার্টফোন ]

মূল ধাপসমূহ:

  1. আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম ও ক্যাবল রুট: বাংলাদেশ সরাসরি আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল কনসোর্টিয়ামের সাথে যুক্ত। দেশটিতে বর্তমানে একাধিক সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন রয়েছে। যেমন—
    • SEA-ME-WE-4 (সি-মি-উই-৪): এটি ২০০৬ সালে প্রথম বাংলাদেশে আসে, যার ল্যান্ডিং স্টেশন রয়েছে কক্সবাজারে।
    • SEA-ME-WE-5 (সি-মি-উই-৫): এটি ২০১৭ সালে যুক্ত হয়, যার ল্যান্ডিং স্টেশন রয়েছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায়।
    • এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের (যেমন- SEA-ME-WE-6 এবং প্রাইভেট সাবমেরিন ক্যাবল) মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যান্ডউইথ ক্ষমতা দিন দিন আরও প্রসারিত হচ্ছে।
  2. সমুদ্রতলদেশের পথ (Deep Sea Route): ইউরোপ বা এশিয়ার বিভিন্ন দেশ (যেমন ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর, ভারত ইত্যাদি) থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে গভীর পানির ওপর দিয়ে বাংলাদেশের উপকূল পর্যন্ত এসে পৌঁছেছে।
  3. ল্যান্ডিং স্টেশন ও টেরেস্টরিয়াল নেটওয়ার্ক: ক্যাবলগুলো যখন সমুদ্রের নিচ থেকে উঠে দেশের মাটিতে প্রবেশ করে, তখন তাকে ল্যান্ডিং স্টেশন বলা হয়। সেখান থেকে ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে সেই হাই-স্পিড ইন্টারনেট দেশের মূল ডাটা সেন্টারে এবং পরবর্তীতে আইআইজি (IIG) ও আইএসপি (ISP)-এর মাধ্যমে আমাদের বাসা-বাড়ি ও মোবাইলে পৌঁছে যায়।

৩. সাবমেরিন ক্যাবলের গুরুত্ব ও সুবিধা

  • অত্যন্ত উচ্চ গতি (High Bandwidth): স্যাটেলাইটের তুলনায় সাবমেরিন ক্যাবলের ডেটা ট্রান্সফার রেট বা স্পিড বহুগুণ বেশি।
  • কম ল্যাটেন্সি (Low Latency): সিগন্যাল মহাকাশে গিয়ে ঘুরে আসার প্রয়োজন হয় না বলে ডেটা আদান-প্রদানে কোনো বিলম্ব বা ল্যাগ হয় না, যা গেমিং বা লাইভ স্ট্রিমিংয়ের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
  • নিরাপত্ত ও স্থায়িত্ব: সমুদ্রের গভীরে ক্যাবলগুলো সুরক্ষিত থাকায় আবহাওয়া বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সহজে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় না।
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট