সহকারী কম্পিউটার অপারেটর
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:১৩ অপরাহ্ণ
কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সঙ্গে পরিচিত
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ ষষ্ঠ
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, তোমাদের সবাইকে স্বাগতম। আজ আমরা পরিচিত হব কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সঙ্গে। তোমরা নিশ্চয়ই কম্পিউটার দেখেছ। কিন্তু কম্পিউটারের কোন যন্ত্রাংশের কী নাম এবং কোনটি কী কাজ করে, তা কি তোমরা জানো? আজ আমরা একে একে প্রতিটি যন্ত্রাংশ চিনব এবং তার কাজ সম্পর্কে জানব। তাহলে চলো, আমাদের পাঠ শুরু করি।
প্রথমেই পরিচিত হই মনিটরের সঙ্গে। এটি হলো মনিটর। মনিটর দেখতে অনেকটা টেলিভিশনের মতো। কম্পিউটারের লেখা, ছবি, ভিডিও এবং বিভিন্ন তথ্য আমরা মনিটরের পর্দায় দেখতে পাই। তাই মনিটরকে কম্পিউটারের একটি আউটপুট ডিভাইস বলা হয়। মনে রাখবে, মনিটর আমাদের কম্পিউটারের কাজ চোখের সামনে দেখায়।
এবার দেখো এই অংশটি। একে বলা হয় সিস্টেম ইউনিট। এর ভেতরে কম্পিউটারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ থাকে। যেমন মাদারবোর্ড, প্রসেসর, র্যাম এবং স্টোরেজ ডিভাইস। প্রসেসর কম্পিউটারের নির্দেশনা অনুযায়ী তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে। তাই একে প্রায়ই কম্পিউটারের মস্তিষ্ক বলা হয়। তবে মনে রাখবে, সিস্টেম ইউনিট আর প্রসেসর এক জিনিস নয়। প্রসেসর হলো সিস্টেম ইউনিটের ভেতরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এটি হলো কিবোর্ড। কিবোর্ডের সাহায্যে আমরা কম্পিউটারে অক্ষর, সংখ্যা, শব্দ এবং বিভিন্ন নির্দেশনা লিখতে পারি। কিবোর্ডে অনেকগুলো কী থাকে। যেমন অক্ষরের কী, সংখ্যার কী, এন্টার কী এবং স্পেসবার। কিবোর্ড একটি ইনপুট ডিভাইস, কারণ এর মাধ্যমে আমরা কম্পিউটারে তথ্য প্রবেশ করাই।
এবার দেখো মাউস। মাউসের সাহায্যে আমরা পর্দায় কার্সর সরাতে পারি, কোনো আইকন নির্বাচন করতে পারি এবং ফাইল বা ফোল্ডার খুলতে পারি। মাউসের সাধারণত বাম ও ডান বোতাম এবং স্ক্রল হুইল থাকে। মাউসও একটি ইনপুট ডিভাইস। কারণ এর সাহায্যে আমরা কম্পিউটারকে বিভিন্ন নির্দেশনা দিই।
এটি হলো মাদারবোর্ড। কম্পিউটারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ এই বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকে। প্রসেসর, র্যাম এবং অন্যান্য অনেক যন্ত্রাংশ মাদারবোর্ডের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাই মাদারবোর্ডকে কম্পিউটারের প্রধান সার্কিট বোর্ড বলা হয়।
এবার পরিচিত হই র্যামের সঙ্গে। র্যামের পূর্ণরূপ হলো র্যান্ডম অ্যাক্সেস মেমোরি। কম্পিউটারে বর্তমানে চলমান প্রোগ্রাম এবং কাজের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সাময়িকভাবে র্যামে রাখা হয়। সাধারণত কম্পিউটার বন্ধ হলে র্যামে থাকা তথ্য সংরক্ষিত থাকে না। পর্যাপ্ত র্যাম থাকলে অনেক ক্ষেত্রে একসঙ্গে একাধিক কাজ আরও স্বচ্ছন্দে করা যায়।
কম্পিউটারে তথ্য দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করার জন্য স্টোরেজ ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। এটি হলো হার্ডডিস্ক, আর এটি হলো এসএসডি। এদের মধ্যে আমরা অপারেটিং সিস্টেম, সফটওয়্যার, ছবি, ভিডিও এবং বিভিন্ন ফাইল সংরক্ষণ করতে পারি। সাধারণভাবে এসএসডি হার্ডডিস্কের তুলনায় দ্রুত কাজ করে। তবে দুটিই তথ্য সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়।
এটি হলো পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট। এটি বিদ্যুৎ সরবরাহকে কম্পিউটারের যন্ত্রাংশের উপযোগী করে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। আর এটি হলো কুলিং ফ্যান। কুলিং ফ্যান কম্পিউটারের ভেতরে বায়ু চলাচলে সাহায্য করে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। ফলে যন্ত্রাংশগুলো অতিরিক্ত গরম হওয়ার ঝুঁকি কমে।
এটি হলো স্পিকার। স্পিকারের মাধ্যমে আমরা কম্পিউটারের গান, কথা এবং অন্যান্য শব্দ শুনতে পারি। তাই স্পিকার একটি আউটপুট ডিভাইস। আর এটি হলো প্রিন্টার। প্রিন্টারের সাহায্যে কম্পিউটারের লেখা, ছবি বা নথি কাগজে ছাপানো যায়। প্রিন্টারও একটি আউটপুট ডিভাইস।
শিক্ষার্থীরা, এবার আমরা একটু মিলিয়ে দেখি। কিবোর্ড ও মাউসের সাহায্যে কম্পিউটারে তথ্য প্রবেশ করাই, তাই এগুলো ইনপুট ডিভাইস। মনিটর, স্পিকার ও প্রিন্টারের সাহায্যে কম্পিউটার থেকে তথ্য পাই, তাই এগুলো আউটপুট ডিভাইস। আর প্রসেসর তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে। প্রতিটি যন্ত্রাংশের কাজ আলাদা, কিন্তু সবগুলো মিলে কম্পিউটারকে কার্যকর করে তোলে।
আজ আমরা কম্পিউটারের মনিটর, সিস্টেম ইউনিট, প্রসেসর, কিবোর্ড, মাউস, মাদারবোর্ড, র্যাম, হার্ডডিস্ক, এসএসডি, পাওয়ার সাপ্লাই, কুলিং ফ্যান, স্পিকার ও প্রিন্টার সম্পর্কে জানলাম। এবার তোমাদের জন্য তিনটি প্রশ্ন। প্রথমত, কোন যন্ত্রাংশের সাহায্যে আমরা কম্পিউটারে টাইপ করি? দ্বিতীয়ত, কোন যন্ত্রাংশকে কম্পিউটারের মস্তিষ্ক বলা হয়? তৃতীয়ত, কোন যন্ত্রাংশের সাহায্যে কাগজে লেখা ছাপানো যায়? তোমরা উত্তরগুলো মনে রাখবে এবং সম্ভব হলে নিজের হাতে প্রতিটি যন্ত্রাংশ শনাক্ত করার অনুশীলন করবে। সবাইকে ধন্যবাদ।