সহকারী শিক্ষক
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩১ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ ষষ্ঠ
বিষয়ঃ বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১৩
খনিজ লবণ: খনিজ লবণ (Mineral Salts) হলো এমন কিছু অজৈব উপাদান, যা মানবদেহের সুস্থতা, বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য। মানবদেহের মোট ওজনের প্রায় ৪% অংশ খনিজ লবণ দিয়ে গঠিত। শরীর নিজে এই উপাদানগুলো তৈরি করতে পারে না, তাই দৈনন্দিন খাবার থেকে আমাদের এগুলো গ্রহণ করতে হয়।
প্রধান খনিজ লবণ ও তাদের কাজ: শরীরের পুষ্টি ও গঠনের জন্য বিভিন্ন ধরণের খনিজ লবণের প্রয়োজন হয়।
ক্যালসিয়াম (Calcium): হাড় ও দাঁত মজবুত করে, রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং স্নায়ুতন্ত্রের কাজ সচল রাখে।
লৌহ বা আয়রন (Iron): রক্তে লোহিত রক্তকণিকা (হিমোগ্লোবিন) গঠন করে। এর অভাবে রক্তশূন্যতা ও শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।
আয়োডিন (Iodine): থাইরয়েড গ্রন্থির কাজ এবং শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এর অভাবে গলগণ্ড (Goiter) রোগ হয়।
সোডিয়াম (Sodium) ও পটাশিয়াম (Potassium): দেহকোশে পানির ভারসাম্য বজায় রাখে, অম্ল-ক্ষারের সমতা ঠিক রাখে এবং পেশির সংকোচন
ও হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
ফসফরাস (Phosphorus): ক্যালসিয়ামের সাথে মিলে হাড় ও দাঁতের গঠনে ভূমিকা রাখে এবং শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে।
ম্যাগনেসিয়াম (Magnesium): পেশি ও স্নায়ুর উদ্দীপনা নিয়ন্ত্রণ করে এবং এনজাইম সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
খনিজ লবণের প্রধান উৎস: বিভিন্ন প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদানে প্রচুর পরিমাণে খনিজ লবণ পাওয়া যায়।
সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল: কচু শাক, লাল শাক, ঢেঁড়স এবং বিভিন্ন টাটকা ফল।
প্রাণীজ উৎস: দুধ, দই, ছানা, পনির, ডিমের কুসুম, মাংস ও কলিজা।
সামুদ্রিক ও ছোট মাছ: মলা-ঢেলা মাছ এবং আয়োডিনযুক্ত সামুদ্রিক মাছ।
অন্যান্য: ডাল, বাদাম, লাল চালের ভাত ও সৈন্ধব লবণ।