উইলিয়াম শেক্সপিয়রের বিখ্যাত ট্র্যাজেডি 'কিং লিয়ার' এর মূলভাব মূলত অন্ধ অহংকার, তোষামোদ প্রবণতা, সঠিক বিচারবোধের অভাব এবং সত্যকে চিনতে না পারার করুন পরিণতি ওপর প্রতিষ্ঠিত।
নাটকটির প্রধান বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
অন্ধ অহংকার ও তোষামোদ: বৃদ্ধ রাজা লিয়ার তার রাজ্য ভাগ করে দেওয়ার সময় মেয়েদের কাছে শুনতে চান যে তারা তাঁকে কতটা ভালোবাসে। বড় দুই মেয়ে (গনেরিল ও রিগান) মিথ্যা ও চাটুকারিতায় ভরা মিষ্টি কথা বললেও, ছোট মেয়ে কর্ডেলিয়া সত্য ও সরলভাবে নিজের বাস্তব ভালোবাসার কথা জানান। অহংকারী লিয়ার মিষ্টি কথায় ভুগে সৎ মেয়ে কর্ডেলিয়াকে রাজ্য থেকে বিতাড়িত করেন।
কৃতঘ্নতা ও বিশ্বাসঘাতকতা: রাজ্য দেওয়ার পর বড় দুই মেয়ে লিয়ারের সাথে চরম নিষ্ঠুর ও অকৃতঘ্ন আচরণ করে এবং তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেয়। তখন লিয়ার বুঝতে পারেন কারা প্রকৃত হিতাকাঙ্ক্ষী আর কারা স্বার্থপর।
সত্য উপলব্ধি ও অনুশোচনা: তীব্র দুঃখ, অপমান এবং উন্মাদনার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার পর লিয়ারের জ্ঞান ও আত্মোপলব্ধি হয়। যখন তিনি তাঁর ছোট মেয়ে কর্ডেলিয়ার প্রকৃত ভালোবাসা বুঝতে পারেন, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায় এবং ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়ে নাটকের সমাপ্তি ঘটে।
এই নাটকের মূল শিক্ষা হলো মিষ্টি কথায় ভুলে সঠিক বিচার হারানো উচিত নয়। অন্ধ অহংকার মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় এবং আত্মোপলব্ধি অনেক সময় বড় মূল্য দিয়ে অর্জন করতে হয়।