কম্পিউটার মাউস (Mouse) হলো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইনপুট ডিভাইস, যা গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (GUI) চালনা করতে সাহায্য করে। হাত দিয়ে এটি সমতল স্থানে নাড়ালে কম্পিউটারের স্ক্রিনে একটি তীর চিহ্ন বা কার্সার (Cursor) নড়াচড়া করে। দেখতে অনেকটা ইঁদুরের মতো এবং এর সাথে যুক্ত তারটি ইঁদুরের লেজের মতো দেখায় বলে ১৯৬০-এর দশকে ডগলাস এঙ্গেলবার্ট আবিষ্কৃত এই যন্ত্রটির নাম দেওয়া হয় 'মাউস'।
১. মাউসের পূর্ণরূপ-anually
Operated
User
Selection
Equipment
২. মাউসের গঠন (Structure of a Mouse)
একটি আদর্শ মাউসের প্রধান অংশগুলো নিচে দেওয়া হলো:
বাম বাটন (Left Button): এটি মাউসের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বাটন। কোনো ফাইল বা প্রোগ্রাম সিলেক্ট করতে বা ওপেন করতে এটি ব্যবহার করা হয়।
ডান বাটন (Right Button): এই বাটনে ক্লিক করলে কোনো অবজেক্টের অতিরিক্ত অপশন বা শর্টকাট মেনু (Context Menu) দেখা যায়।
স্ক্রল হুইল (Scroll Wheel): দুই বাটনের মাঝে একটি চাকার মতো অংশ থাকে। এটি ঘুরিয়ে কোনো পেজ বা ডকুমেন্টের ওপর-নিচে (Scroll) যাওয়া যায়।
মাউস বডি (Body): এটি প্লাস্টিকের তৈরি মূল কাঠামো, যা হাতের তালু দিয়ে ধরে রাখা হয়।
সেন্সর (Sensor): মাউসের নিচে একটি অপটিক্যাল সেন্সর (এলইডি বা লেজার) থাকে, যা মাউসের নড়াচড়া ট্র্যাক করে পর্দায় কার্সারকে সরায়। (পুরোনো মাউসে সেন্সরের জায়গায় একটি গোল বল থাকত)।
কানেক্টিভিটি (Connectivity): মাউস কম্পিউটারের সাথে যুক্ত করার জন্য তার (USB Cable) অথবা তারবিহীন প্রযুক্তির (Bluetooth/Wireless Receiver) সাহায্য নেয়।
৩. মাউসের প্রধান কাজ (Functions of a Mouse)
মাউসের মাধ্যমে কম্পিউটারে বিভিন্ন ধরনের কমান্ড দেওয়া হয়। এর মূল কাজগুলো নিচে দেওয়া হলো:
ক্লিক বা সিঙ্গেল ক্লিক (Click): বাম বাটনে একবার চাপ দেওয়া। এর মাধ্যমে স্ক্রিনের কোনো আইটেম বা ফাইল সিলেক্ট করা হয়।
ডাবল ক্লিক (Double Click): বাম বাটনে পরপর দ্রুত দুইবার চাপ দেওয়া। এটি কোনো প্রোগ্রাম, ফাইল বা ফোল্ডার ওপেন বা রান করতে ব্যবহৃত হয়।
রাইট ক্লিক (Right Click): ডান বাটনে একবার চাপ দেওয়া। এটি কোনো নির্দিষ্ট ফাইলের প্রোপার্টিজ বা ড্রপ-ডাউন মেনু দেখতে সাহায্য করে।
ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ (Drag and Drop): কোনো ফাইলের ওপর মাউস রেখে বাম বাটন চেপে ধরে সেটিকে অন্য স্থানে সরিয়ে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া।
স্ক্রলিং (Scrolling): মাঝখানের চাকাটি ঘুরিয়ে লম্বা ওয়েবপেজ বা পিডিএফ ডকুমেন্টের ওপর-নিচে সহজে যাতায়াত করা।
৪. মাউসের প্রকারভেদ (Types of Mouse)
কাজের ধরন ও প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে মাউস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে:
১. অপটিক্যাল মাউস (Optical Mouse): বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয়। এটি আলোর প্রতিফলন (LED বা লেজার) ব্যবহার করে কাজ করে। ২. ওয়্যারলেস মাউস (Wireless Mouse): কোনো তারের ঝামেলা নেই। এটি ব্লুটুথ বা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি (RF) প্রযুক্তির সাহায্যে কম্পিউটারের সাথে যুক্ত হয়। ৩. গেমিং মাউস (Gaming Mouse): গেমারদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। এতে বাড়তি কিছু বাটন থাকে এবং এর ডিপিআই (DPI) বা সেন্সিটিভিটি অনেক বেশি হয়। ৪. মেকানিক্যাল মাউস (Mechanical Mouse): এটি পুরনো প্রযুক্তির মাউস, যার নিচে একটি রাবারের বল থাকত। বর্তমানে এর ব্যবহার নেই বললেই চলে। ৫. ট্র্যাকবল মাউস (Trackball Mouse): এই মাউসের ওপরের দিকে একটি বড় বল থাকে। মাউস না নাড়িয়ে শুধু আঙুল দিয়ে বলটি ঘুরিয়ে কার্সার নিয়ন্ত্রণ করা যায়।