Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:০৩ অপরাহ্ণ

রাউটারের বিভিন্ন অংশগুলোর নাম ও কাজ

রাউটার: রাউটার (Router) হলো একটি বুদ্ধিমান নেটওয়ার্কিং ডিভাইস, যা একাধিক কম্পিউটার বা ভিন্ন ভিন্ন নেটওয়ার্ককে একে অপরের সাথে যুক্ত করে এবং তাদের মধ্যে ডেটা বা তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করে। সহজ কথায়, ল্যাপটপ, মোবাইল বা স্মার্ট টিভিকে ইন্টারনেট (যা নিজেই একটি বিশাল নেটওয়ার্ক) এর সাথে জুড়ে দেওয়ার মূল কাজটি করে রাউটার।

 

রাউটার কীভাবে কাজ করে? (একটি সহজ অ্যানালজি)

রাউটারকে একটি ডিজিটাল ডাকঘর বা ট্রাফিক পুলিশের সাথে তুলনা করা যেতে পারে।

      X ইন্টারনেট থেকে কোনো ওয়েবসাইট খোলা বা ভিডিও দেখা, তখন সেই তথ্যগুলো ছোট ছোট ডেটা প্যাকেট (Data Packet) হিসেবে আসে।

      X রাউটার এই প্যাকেটগুলোর গন্তব্য ঠিকানা (IP Address) পরীক্ষা করে।

      X এরপর সবচেয়ে কম সময়ে এবং সঠিক রাস্তায় সেই ডেটা নির্দিষ্ট ডিভাইসে পৌঁছে দেয়।

 

রাউটারের প্রধান কাজসমূহ:

      X পাথ সিলেকশন (Path Selection): ডেটা পাঠানোর জন্য সবচেয়ে দ্রুত ও নিরাপদ রাস্তা খুঁজে বের করা।

      X ডেটা ফিল্টারিং (Data Filtering): নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা বজায় রাখতে ক্ষতিকর ডেটা ব্লক করা।

      X আইপি অ্যাড্রেস বণ্টন (IP Assignment): নেটওয়ার্কে যুক্ত প্রতিটি ডিভাইসকে আলাদা আলাদা আইপি (IP) ঠিকানা দেওয়া, যাতে ডেটা গুলিয়ে না যায়।

 

একটি সাধারণ ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) রাউটারের বিভিন্ন অংশকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

      X বাহ্যিক (External)

      X অভ্যন্তরীণ (Internal)

 

বাহ্যিক অংশসমূহ (External Parts)

১.   অ্যান্টেনা (Antenna): ওয়াই-ফাই সিগন্যাল চারদিকে পাঠানো এবং রিসিভ করার কাজ করে। রাউটারে ১ থেকে শুরু করে একাধিক অ্যান্টেনা থাকতে পারে।

২.   ডব্লিউএএন পোর্ট (WAN Port/Wide Area Network): এটিকে সাধারণত Internet Port ও বলা হয়। মডেম বা আইএসপি (ISP) থেকে আসা মেইন ইন্টারনেট ক্যাবল এই পোর্টে যুক্ত করতে হয়।

৩.   ল্যান পোর্ট (LAN Ports/Local Area Network): রাউটার থেকে কম্পিউটারে বা ল্যাপটপে সরাসরি ইথারনেট (Ethernet) ক্যাবলের মাধ্যমে তারযুক্ত সংযোগ দেওয়ার জন্য এই পোর্টগুলো ব্যবহার করা হয়। সাধারণ রাউটারে ১ থেকে ৪টি ল্যান পোর্ট থাকে।

৪.   পাওয়ার পোর্ট (Power Port): রাউটারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য অ্যাডাপ্টার বা ক্যাবল যুক্ত করার পিন বা জ্যাক।

৫.   রিসেট বাটন (Reset Button): কোনো কারণে রাউটারের কনফিগারেশন নষ্ট হলে বা পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে, এই ছোট্ট বাটনটি কয়েক সেকেন্ড চেপে ধরে রাউটারটিকে কারখানার পূর্বের অবস্থায় (Factory Default) ফিরিয়ে নেওয়া যায়।

৬.   এলইডি ইন্ডিকেটর লাইট (LED Indicator Lights): পাওয়ার অন আছে কি না, ইন্টারনেট সংযোগ সচল আছে কি না, ওয়াই-ফাই সিগন্যাল কাজ করছে কি না—তা জানানোর জন্য ছোট ছোট বাতি।

 

অভ্যন্তরীণ অংশসমূহ (Internal Hardware & Logical Parts)

১.   সিপিইউ (CPU/Central Processing Unit): এটি রাউটারের মূল প্রসেসর, যা নেটওয়ার্ক ট্রাফিক এবং রাউটিং নির্দেশাবলী পরিচালনা করে।

২.   র‌্যাম (RAM/Random Access Memory): এটি রাউটারের অস্থায়ী স্মৃতি। রাউটিং টেবিল এবং চলমান কনফিগারেশন ডেটা এতে জমা থাকে, বিদ্যুৎ বন্ধ করলে এর ডেটা মুছে যায়।

৩.   ফ্ল্যাশ মেমোরি (Flash Memory): এটি স্থায়ী মেমোরি, যেখানে রাউটারের অপারেটিং সিস্টেম এবং ফার্মওয়্যার (Firmware) সংরক্ষিত থাকে।

৪.   আরওএম (ROM /Read-Only Memory): রাউটার চালু হওয়ার সময় প্রয়োজনীয় বুটস্ট্রাপ প্রোগ্রাম ও ডায়াগনস্টিক সফটওয়্যার ধারণ করে।

৫.   এনভির‌্যাম (NVRAM/Non-Volatile RAM): রাউটার বন্ধ হলেও এর ভেতরের স্টার্টআপ কনফিগারেশন এবং আইপি অ্যাড্রেস সুরক্ষিত থাকে।

৬.   ওয়াই-ফাই রেডিও (Wi-Fi Radio): 2.4 গিগাহার্জ (GHz) এবং 5 গিগাহার্জ (GHz) ফ্রিকোয়েন্সিতে ওয়্যারলেস কানেক্টিভিটি প্রদান করে।


মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট