Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:২১ অপরাহ্ণ

গতি ও স্থিতি আপেক্ষিক

স্থিতি আপেক্ষিক: সময়ের পরিবর্তনের সাথে পারিপার্শ্বিক বা কোনো প্রসঙ্গ বস্তুর সাপেক্ষে যদি কোনো বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন না ঘটে, তবে তাকে স্থিতি বলে। আর এই স্থিতি সম্পূর্ণই আপেক্ষিক।

একটি সহজ উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া যাক:

চলন্ত ট্রেনের উদাহরণ: আপনি যখন একটি চলন্ত ট্রেনে বসে থাকেন, তখন আপনার পাশে বসা সহযাত্রীর সাপেক্ষে আপনি স্থির বা স্থিতিশীল। কিন্তু ট্রেনের বাইরে লাইনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কোনো ব্যক্তির সাপেক্ষে আপনি গতিশীল।

পৃথিবীর সাপেক্ষে উদাহরণ: আপনি আপনার ঘরে একটি চেয়ারে শান্ত হয়ে বসে আছেন। আপনার মনে হতে পারে আপনি পরম স্থিতিতে আছেন। কিন্তু পৃথিবী প্রতিনিয়ত তার নিজের অক্ষের চারপাশে ঘুরছে এবং সূর্যের চারপাশেও প্রদক্ষিণ করছে। ফলে মহাকাশের অন্য কোনো গ্রহ বা নক্ষত্রের সাপেক্ষে আপনিও প্রচণ্ড গতিতে ছুটে চলছেন।

যেহেতু এই মহাবিশ্বে এমন কোনো বস্তু বা বিন্দু খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয় যা সম্পূর্ণ স্থির বা অচল, তাই কোনো বস্তুর স্থিতিই "পরম" (Absolute) হতে পারে না। প্রতিটি স্থিতিই কোনো না কোনো আপেক্ষিক বস্তুর সাপেক্ষেই পরিমাপ করা হয়।

আপেক্ষিক গতি: মহাবিশ্বে কোনো স্থিতি বা গতিই পরম নয়; একটি বস্তুর সাপেক্ষে অন্য কোনো বস্তুর তুলনা করে তার গতি নির্ণয় করাকেই আপেক্ষিক গতি (Relative Motion) বলে।

আপেক্ষিক গতির মূল বিষয়সমূহ

পরম স্থিতি বা গতি নেই: মহাবিশ্বে পরম বা নিখুঁতভাবে স্থির বলে কিছু নেই। পৃথিবীসহ সব গ্রহ-নক্ষত্র প্রতিনিয়ত ঘুরছে বা স্থান পরিবর্তন করছে। তাই কোনো বস্তুকে স্থির বলার অর্থ হলো অন্য কোনো বস্তুর সাপেক্ষে সে স্থির রয়েছে।

প্রসঙ্গ কাঠামো (Reference Frame): যার সাপেক্ষে কোনো বস্তুর গতি বা স্থিতি পরিমাপ করা হয়, তাকে প্রসঙ্গ কাঠামো বলে। প্রসঙ্গ কাঠামো স্থির বা গতিশীল হতে পারে।

উদাহরণ: চলন্ত ট্রেনে বসে থাকা দুজন যাত্রীর একে অপরকে স্থির মনে হলেও, ট্রেনের বাইরের কোনো স্থির ব্যক্তির কাছে তাদের গতিশীল মনে হবে। একেই আপেক্ষিক গতি বলা হয়।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট