Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০১ নভেম্বর, ২০২৬ ০৩:২১ অপরাহ্ণ

ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম
ঔপনিবেশিক শাসন 
    • একটি শক্তিশালী দেশ যখন অন্য একটি দুর্বল দেশ বা অঞ্চল দখল করে সেখানকার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়, তখন তাকে ঔপনিবেশিক শাসন বলে।
    • উদাহরণ: ইংরেজরা বাংলার শাসনক্ষমতা দখল করে দীর্ঘদিন বাংলা শাসন করেছিল।
    • ঔপনিবেশিক শাসন-পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক অবস্থা
    • প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা একটি সমৃদ্ধ জনবসতিপূর্ণ অঞ্চল ছিল। এ অঞ্চলে প্রচুর ধনসম্পদ ও প্রাকৃতিক সম্পদ ছিল। তাই বিভিন্ন সময়ে বাইরের শাসক ও জনগোষ্ঠী বাংলায় এসেছে।
    • বাংলার শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিক ইতিহাস নিচে দেওয়া হলো।

ক. মৌর্য শাসন

  1. খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে সম্রাট অশোক বাংলার উত্তরাংশ দখল করেন।
  2. তখন বাংলা মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।

খ. গুপ্ত শাসন

  1. মৌর্যদের পর বাংলার কিছু অংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনে আসে।
  2. চতুর্থ শতকে উত্তর বাংলা ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার কিছু অংশ গুপ্তদের অধিকারে ছিল।

গ. শশাঙ্কের শাসন

  1. সপ্তম শতকে শশাঙ্ক বাংলার উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
  2. পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায়ও স্বাধীন রাজ্য গড়ে উঠেছিল।
  3. শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় দীর্ঘদিন অরাজকতা চলে। এ সময়কে মাৎস্যন্যায়ের যুগ বলা হয়।

ঘ. পাল শাসন

  1. অষ্টম শতকের মাঝামাঝি বাংলায় পাল রাজবংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
  2. গোপাল ছিলেন পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা।
  3. প্রায় চারশ বছর পাল রাজারা বাংলা শাসন করেন।

ঙ. সেন শাসন

  1. পালদের পতনের পর সেন রাজারা বাংলার শাসনক্ষমতা গ্রহণ করেন।
  2. দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক থেকে আসা সেন রাজারা বাংলায় শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
  3. বিজয় সেন ও বল্লাল সেন ছিলেন উল্লেখযোগ্য সেন শাসক।
  4. লক্ষ্মণ সেন ছিলেন সেন বংশের শেষ উল্লেখযোগ্য রাজা।

চ. মুসলিম শাসনের সূচনা

  1. ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি নদীয়া জয় করেন।
  2. তিনি লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন।
  3. ১২০৪ থেকে ১২০৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের কিছু অংশ তাঁর অধিকারে ছিল।

ছ. বাংলার স্বাধীন সুলতানি শাসন

  1. ১৩৩৮ সালে বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসনের সূচনা হয়।
  2. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
  3. সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলার একটি বৃহৎ অংশ একত্রিত করেন।
  4. তিনি 'শাহ-ই-বাংলা' ও 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান' উপাধি ধারণ করেন।
  5. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছিলেন স্বাধীন সুলতানি আমলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য শাসক।

জ.মুঘল শাসন

  1. ১৫৭৬ সালে রাজমহলের যুদ্ধে মুঘলরা বাংলায় আফগান শাসকদের পরাজিত করে।এরপর বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনে আসে।
  2. ১৬১০ সালে মুঘল সুবেদার ইসলাম খান বারো ভূঁইয়াদের পরাজিত করে ঢাকাকে রাজধানী করেন।
  3. সম্রাট জাহাঙ্গীরের নাম অনুসারে ঢাকার নাম হয় জাহাঙ্গীরনগর।
  4. ১৭৫৭ সালের পলাশির যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলায় মুঘল শাসনের কার্যত অবসান ঘটে।

বাংলায় ইংরেজ শাসনের সূচনা

  1. ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশির যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
  2. বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন।
  3. ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বে ইংরেজরা জয়লাভ করে।
  4. মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন।
  5. এই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলায় ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা হয়।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (২ নম্বর)

1. ঔপনিবেশিক শাসন বলতে কী বোঝায়?

2. মাৎস্যন্যায়ের যুগ কেন বলা হয়?

3. শশাঙ্কের শাসনামল সম্পর্কে লেখো।

4. পাল শাসনামলের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

5. বখতিয়ার খলজি কীভাবে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন?

6. বাংলার স্বাধীন সুলতানি শাসনের সূচনা কীভাবে হয়েছিল?

7. মুঘলরা কীভাবে বাংলার শাসনক্ষমতা লাভ করে?

8. পলাশির যুদ্ধের দুটি ফলাফল লেখো।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট