পরিফেরা (Porifera):(Porifera) হলো প্রাণীজগতের সবচেয়ে আদিম ও সরল প্রকৃতির বহুকোষী প্রাণীদের একটি পর্ব। সাধারণ ভাষায় এদের ছিদ্রাল প্রাণী বা স্পঞ্জ বলা হয়। ল্যাটিন শব্দ Porus (ছিদ্র) এবং Ferre (বহন করা) থেকে 'Porifera' নামটি এসেছে। ১৮৩৬ সালে বিজ্ঞানী রবার্ট গ্রান্ট (Robert Grant) এই পর্বের নামকরণ করেন।
দেহগঠন: এরা কোষীয় মাত্রার বহুকোষী প্রাণী, তবে এদের কোনো প্রকৃত টিস্যু, অঙ্গ বা অঙ্গতন্ত্র গঠিত হয় না।
ছিদ্রযুক্ত দেহ: এদের পুরো দেহপ্রাচীর অসংখ্য ছোট ছোট ছিদ্রে পূর্ণ থাকে, যেগুলোকে অস্টিয়া (Ostia) বলা হয়। এ ছিদ্র দিয়ে পানি ও খাদ্যবস্তু দেহের ভেতরে প্রবেশ করে।
নালিতন্ত্র (Canal System): দেহের ভেতর দিয়ে পানি চলাচলের জন্য একটি বিশেষ নালিতন্ত্র থাকে যা স্পঞ্জশীল (Spongocoel) গহ্বর হয়ে অসক্যুলাম (Osculum) নামক বড় ছিদ্র দিয়ে বাইরে উন্মুক্ত হয়।
কোয়ানোসাইট কোষ: এদের অন্তঃপ্রাচীরে ফ্লাজেলাযুক্ত বিশেষ কোয়ানোসাইট (Choanocyte) বা কলার কোষ থাকে, যা পানি প্রবাহ ও খাদ্য গ্রহণে সাহায্য করে।
কঙ্কাল: এদের দেহ Calcium carbonate (চুনায়েত), Silica স্পিকিউল বা স্পঞ্জিন তন্তু দিয়ে তৈরি কঙ্কাল দ্বারা সমর্থিত থাকে।
জীবনযাত্রা: পূর্ণাঙ্গ পরিফেরা বা স্পঞ্জগুলো সাধারণত নিশ্চল (Sessile) অর্থাৎ সমুদ্রের তলদেশে বা অন্য কোনো কিছুর সাথে আটকে থাকে।
প্রজনন ও পুনরুজ্জীবন: এরা উভলিঙ্গ প্রাণী (Cross-fertilization ঘটে) এবং এদের উচ্চ পুনরুজ্জীবন (Regeneration) ক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া এদের লার্ভা দশা দেখা যায় (যেমন— Amphiblastula বা Parenchymula)।
শ্রেণিবিন্যাস (মেগলিস, ১৯৭২):
পরিফেরা পর্বকে মূলত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:
ক্যালকেরিয়া (Calcarea): এদের কঙ্কাল ক্যালসিয়াম কার্বনেট বা চুন দিয়ে তৈরি, আকারে ছোট (<১০ সেমি) এবং সবাই সামুদ্রিক। উদাহরণ: Sycon gelatinosum।
হেক্সাটিনেলিডা (Hexactinellida): এদের সিলিকা নির্মিত ৬-রশ্মি স্পিকিউল থাকে এবং আকারে বড় হয়। উদাহরণ: Euplectella aspergillus (ভেনাসের ঝুড়ি)।
ডেমোস্পঞ্জি (Demospongiae): এদের সিলিকা বা স্পঞ্জিন তন্তু থাকে এবং অধিকাংশ প্রাণীই সামুদ্রিক। উদাহরণ: Spongilla lacustris (স্বাদুজলীয় স্পঞ্জ)।