সহকারী শিক্ষক
০৬ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:০০ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১০
শিক্ষক: মোঃ নাজুমল হোসাইন
সহকারী শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান
বনগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অম্ল ও ক্ষারকের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাবার, ওষুধ, কৃষিকাজ, শিল্পকারখানা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই অম্ল ও ক্ষারকের ব্যবহার রয়েছে।
যেমন: লেবুতে সাইট্রিক অ্যাসিড, ভিনেগারে অ্যাসিটিক অ্যাসিড এবং সাবানে ক্ষারীয় পদার্থ থাকে।
অম্ল বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার দেওয়া হলো।
ক. খাদ্যদ্রব্যে অম্লের ব্যবহার
লেবু ও কমলায় সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে।
ভিনেগারে অ্যাসিটিক অ্যাসিড থাকে।
তেঁতুলে টারটারিক অ্যাসিড থাকে।
খাদ্যের স্বাদ বৃদ্ধি ও সংরক্ষণে কিছু অম্ল ব্যবহৃত হয়।
খ. শিল্পকারখানায় অম্লের ব্যবহার
সালফিউরিক অ্যাসিড গাড়ির ব্যাটারিতে ব্যবহৃত হয়।
নাইট্রিক অ্যাসিড সার ও বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
বিভিন্ন ধাতু প্রক্রিয়াজাতকরণে অম্ল ব্যবহৃত হয়।
গ. মানবদেহে অম্লের ব্যবহার
পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে।
ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়।
ক্ষারক আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানা কাজে ব্যবহৃত হয়।
ক. সাবান ও পরিষ্কারক তৈরিতে
সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড সাবান তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড তরল সাবান তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
বিভিন্ন পরিষ্কারক তৈরিতে ক্ষারীয় পদার্থ ব্যবহৃত হয়।
খ. কৃষিকাজে
অম্লীয় মাটির অম্লত্ব কমাতে চুন ব্যবহার করা হয়।
কৃষিজমির মাটির গুণাগুণ উন্নত করতে উপযুক্ত ক্ষারীয় পদার্থ প্রয়োগ করা হয়।
গ. চিকিৎসাক্ষেত্রে
ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড অম্লনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অতিরিক্ত পাকস্থলীর অম্ল প্রশমনে অ্যান্টাসিড ব্যবহার করা হয়।
ঘ. শিল্পকারখানায়
কাগজ ও বস্ত্রশিল্পে ক্ষারক ব্যবহৃত হয়।
বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ উৎপাদনে ক্ষারক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অম্ল ও ক্ষারক পরস্পরের সঙ্গে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। এ ধরনের বিক্রিয়াকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে।
উদাহরণ:
হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড + সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
এখানে উৎপন্ন পদার্থ হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড (লবণ) ও পানি।
প্রশমন বিক্রিয়ার ব্যবহার:
অম্লীয় মাটির অম্লত্ব কমাতে চুন ব্যবহার করা হয়।
পাকস্থলীর অতিরিক্ত অম্ল প্রশমনে অ্যান্টাসিড ব্যবহৃত হয়।
শিল্পবর্জ্যের অম্লত্ব বা ক্ষারত্ব নিয়ন্ত্রণে প্রশমন প্রক্রিয়া কাজে লাগে।
অম্ল | ক্ষারক |
|---|---|
নীল লিটমাসকে লাল করে | লাল লিটমাসকে নীল করে |
পানিতে H⁺ আয়ন উৎপন্ন করে | পানিতে OH⁻ আয়ন উৎপন্ন করে |
লেবুতে সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে | সাবানে ক্ষারীয় পদার্থ থাকে |
pH মান ৭-এর কম | pH মান ৭-এর বেশি |
কোনো অম্ল বা ক্ষারক সরাসরি স্পর্শ করা যাবে না।
পরীক্ষাগারে কাজ করার সময় নিরাপত্তা চশমা ও গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে।
কোনো রাসায়নিক পদার্থের স্বাদ গ্রহণ করা যাবে না।
রাসায়নিক পদার্থ চোখে বা ত্বকে লাগলে দ্রুত প্রচুর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং প্রয়োজন হলে শিক্ষকের সাহায্য নিতে হবে।
শিক্ষকের নির্দেশ ছাড়া কোনো রাসায়নিক পদার্থ মেশানো যাবে না।
পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা—
অম্ল ও ক্ষারকের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারবে।
দৈনন্দিন জীবনে অম্লের ব্যবহার বর্ণনা করতে পারবে।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষারকের ব্যবহার উল্লেখ করতে পারবে।
প্রশমন বিক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারবে।
অম্ল ও ক্ষারক ব্যবহারের সতর্কতাগুলো বলতে পারবে।
অম্ল ও ক্ষারক আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক পদার্থ। খাদ্য, চিকিৎসা, কৃষি ও শিল্পকারখানায় এদের ব্যবহার রয়েছে। অম্ল ও ক্ষারক পরস্পরের সঙ্গে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। একে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। তবে এগুলো ব্যবহারের সময় যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
অম্ল কাকে বলে? তিনটি অম্লের নাম লেখো।
দৈনন্দিন জীবনে অম্লের পাঁচটি ব্যবহার লেখো।
ক্ষারক কাকে বলে? ক্ষারকের চারটি ব্যবহার লেখো।
প্রশমন বিক্রিয়া কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
কৃষিকাজে অম্ল ও ক্ষারকের ব্যবহার ব্যাখ্যা করো।
অম্ল ও ক্ষারক ব্যবহারের সময় পাঁচটি সতর্কতা লেখো।
লেবুতে কোন অ্যাসিড থাকে?
গাড়ির ব্যাটারিতে কোন অ্যাসিড ব্যবহৃত হয়?
সাবান তৈরিতে কোন ক্ষারক ব্যবহৃত হয়?
অম্ল ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় কী উৎপন্ন হয়?
অম্লীয় মাটির অম্লত্ব কমাতে কী ব্যবহার করা হয়?