প্রকাশনা

''ক্রিকেট ও রান এ যেন শিক্ষার্থীদের প্রাণ''

মোহাম্মদ মহসিন মিয়া ০৪ অক্টোবর,২০১৮ ১৪৪ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ রেটিং ( )

খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বিশেষ সহায়ক হলেও এখনকার ছেলে মেয়েরা নিজে খেলাধুলা করার চেয়ে টিভিতে খেলা দেখতেই যেন বেশি পছন্দ করে ৷ এমন ছেলে মেয়ে পাওয়া যাবে না বললেই চলে, যারা ক্রিকেট খেলা দেখে না ৷ তবে এমন অনেক ছেলে মেয়ে পাওয়া যাবে যারা ক্রিকেট খেলে না ৷ ক্রিকেট বাংলাদেশের এক গৌরবময় অধ্যায়ের নাম ৷ বিশ্ববাসি ক্রিকেটের চোঁখে বাংলাদেশকে চিনেছে বা দেখছে কথাটি বললেও যেন ভুল হবার নয় ৷ কারন অন্য যত অবদানের কারনে বিশ্ব বাংলাদেশকে চিনেছে ও জেনেছে তার চেয়েও বেশি চিনেছে বিশ্ব ক্রিকেট মাঠে বাংলাদেশকে দেখে ৷ অামাদের এই সোনার দেশে অামরা সোনা ফলাতে না পারলেও ক্রিকেটের মাঠে সোনা ফলছে ৷ এ যেন যত শুনি মধুর লাগে, যত বলি অানন্দ বাড়ে ৷ কিন্তু অামাদের সোনার দেশের শিক্ষার্থীরা তো দিন দিন তামায় পরিনত হয়ে যাচ্ছে ! স্কুলে যাবার অাগে রান স্কোর দেখে রওয়ানা দেয়া; মধ্য পথে কারো বাড়িতে টিভির শব্দ শুনলে একটু উঁকি দিয়ে স্কোরটা দেখা- এ যেন শিক্ষার্থীদের অভ্যাসে পরিনত হয়েছে ৷এমনকি কেউ কেউ পাবলিক পরীক্ষার সময়ও পড়াশোনায় মনোযোগ না দিয়ে ক্রিকেটে মনোযোগী হয়ে থাকে ৷ অাবার যেদিন এ খেলা থাকে সেদিন ক্লাশে শিক্ষক কী বলছেন বা কী পড়াচ্ছেন সেদিকে শিক্ষার্থীরা বেশি একটা মনোযোগীও হয় না ৷ তাদের খেয়াল থাকে কখন শিক্ষক মশাই ক্লাশ ত্যাগ করবেন এবং ওনার পিছনে পিছনে ছাত্ররা বেড়িয়ে পাশের কোনো বাড়িতে গিয়ে স্কোরটা দেখে অাসবে কিংবা সুযোগ করতে পারলেই লুকিয়ে রাখা মোবাইলটা বের করে নেট থেকে ক্রিকেট স্কোরটা দেখে মনটাকে শান্তি দিবে ৷এ যেন শিক্ষার্থীরা নেশার দিকে ছুটছে! কিছু শিক্ষার্থীদের স্কুলে কোন দিন কোন বিষয় ক্লাশ হবে তা স্মরণ না থাকলেও কোন দেশের সাথে কোন দিন কোন দেশের খেলা অনুষ্ঠিত হবে তা কখনো ভুলে না বলেই চলে ৷ বাংলাদেশের সাথে অন্য দেশের খেলা থাকলে সেদিন তো শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে ছুটির দরখাস্ত নিয়েই স্কুলে যায় ৷ অাবার যদি তারা বুঝতে পারে সেদিন স্কুল ছুটি হবার কোন সম্ভাবণা নাই, সেদিন তো অসুস্থতার ভান করে পৃথক ছুটির দরখাস্ত দিয়ে কেউ কেউ স্কুল ত্যাগ করে কিংবা অবিনব কায়দায় অন্যেরা যেভাবেই হোক স্কুল ত্যাগ করবেই ৷ অামরা যারা শিক্ষক তারা অাবার খেলার রুটিন মনে রাখতে হয় না ৷ কারন ক্লাশে যেদিন বিপুল সংখ্যক ছাত্র ছাত্রী অনুপস্থিত অামরা ধরে নেই যে সেদিন ক্রিকেট খেলা চলছে ৷ অামরা শিক্ষক তাই বলে তো শিক্ষার্থীদের কিছুই বলতে পারি না ৷ কারন খেলা দেখতে বাঁধা দিলে অাবার শিক্ষার্থীদের মানসিক কষ্ট হবে,তার মানে মানসিক শাস্তি হবে ৷ ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক শাস্তি দিলে তাে অাবার শিক্ষকের বিরোদ্ধে শাস্তির বিধান অাছে ৷ এমন কোন মাস অাছে যে মাসে ক্রিকেট খেলা থাকে না? তাহলে সবাই ধরে নিতে পারেন যে, কোন মাসেই ছাত্র ছাত্রীরা শতভাগ পড়াশোনা করে না ৷ পড়া শেষে অবসরে খেলাধুলা করা সেটাই স্বাভাবিক ৷ কিন্তু শিক্ষার্থীরা খেলা থাকলে প্রতিযোগিতা করে কে কত সময় টিভির সামনে বসে থাকতে পারে?সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্র একদিন বলছে, ''অামি খেলা থাকলে একটা বলও মিস করি না৷'' তার মানে খেলা থাকলে সে স্কুলে যাওয়া থাক দূরের কথা খাবারও নাকি টিভির সামনে বসেই খায় ৷ মুরব্বিরা বলে থাকেন মানুষ অতিরিক্তটার দিকে নজর দেয় বেশি ৷ যেমন-চাকরি পেলে ঘুষ খোরেরা ঘুষের দিকে নজর দেয় বেশি, বিদেশ প্রবাসিরা অভার টাইমের প্রতি লক্ষ্য রাখে বেশি, মসজিদের ইমাম সাহেবেরা দাওয়াত পাওয়া ও খাওয়ার খবর রাখে বেশি, শিক্ষকেরা প্রাইভেটের দিকে নজর দেয় বেশি, তেমনি ছাত্র ছাত্রীরাও স্কুল ও পড়া ছেড়ে ক্রিকেটের দিকে নজর দেয় বেশি ৷ যদি কোন শিক্ষক কোন ক্লাশে ঘোষনা দেন যে, বন্ধের দিনে তাদেরকে একটি অতিরিক্ত ক্লাশ নেয়া হবে;সেদিন তাদের জন্য দূপুরে খাবারের ব্যবস্থা রাখলেও ৫০% শিক্ষার্থীও উপস্থিত হবে না বলেই তিনি ধরে নিতে পারেন ৷ অন্যদিকে যদি শিক্ষক স্কুল বন্ধের দিন বিদ্যালয়ের মাঠে একটি ক্রিকেট ম্যাচের কথা ঘোষনা দেন তাহলে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সারাদিন রৌদ্রে পূড়ে, পেটে ক্ষুধা নিয়ে স্ব-বান্ধবে দলে দলে স্টাইল করে হাসি মুখে মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ করে শিক্ষক মহোদয়কে অানন্দিত করে দিবে এবং ক্ষুধা নিয়েই খেলোয়ারদেরকে উৎসাহিত করতে হাতে তালি দিতেই থাকবে ৷ তা বলে অামি খেলার কোন ক্রমেই বিরোধীতা করছি না বরং নিয়মিত খেলাধুলা করার জন্য বিশেষ করে পরামর্শ দিচ্ছি ৷ অামার কথা হচ্ছে ছেলে মেয়েরা দৈনিক খেলাধুলা করবে ১-২ ঘণ্টা কিন্তু তারা খেলা দেখে সময় ব্যয় করছে ১০-১২ ঘণ্টা ৷ অামার মনে হয় কোনো কোনো শিক্ষার্থী এক মাসেও ১০-১২ ঘণ্টা পড়ার পিছনে সময় ব্যয় করে না ৷ তাহলে সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি হবে কিভাবে? শিক্ষার্থীদেরকে এ ক্রিকেট নেশা থেকে ফিরাতে না পারলে পড়ার প্রতি তাদের নেশা জাগানো মোটেই সম্ভব হবে না ৷ যেহেতু ক্রিকেট একটি দীর্ঘ সময়ের খেলা সেহেতু ছাত্ররা টিভিতে খেলা দেখলে একদিকে যেমন স্কুল ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা বাড়তে তেমনি পড়ার টেবিল ছেড়ে টিভির টেবিলে বসার প্রবণতাও বাড়ে ৷ অন্যদিকে মেয়েদের জন্য তো ভারতীয় টিভি চ্যানেল নামক নেশা জাতীয় একটি বস্তু ঘরে অাছেই যা তাদেরকে টিভির সামনে শিকলে বেঁধে রাখছে ৷ পরিশেষে অামি বলতে চাই, শিক্ষকের পেশাগত দক্ষতার জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, কারিকুলাম উন্নয়ণের জন্য দেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিকগণ কর্তৃক পরামর্শ নিয়ে তা উন্নতি করা হয়, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ে নতুন ভবন তৈরি করা হয়; কিন্তু যাদের জন্যর এত অায়োজন তারাই যদি টিভির সামনে বসে থাকে তাহলে শিক্ষার উন্নতি হবে কিভাবে? তাই শিক্ষার্থীরা ক্রিকেটকে নেশা হিসেবে না নিয়ে বিনোদন হিসেবে যাতে গ্রহণ করতে পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকার, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের বিশেষ দৃষ্টি অাকর্ষণ করছি ৷ মোঃ মহসিন মিয়া সহকারি শিক্ষক, ইংরেজি বড় গোবিন্দপুর এএমবি উচ্চ বিদ্যালয় চান্দিনা, কুমিল্লা ৷

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মেফতাহুন নাহার
২৫ মে, ২০২০ ০৯:০৩ অপরাহ্ণ

শুভেচ্ছা -অভিনন্দন ও শুভকামনা। আমার কনটেন্টগুলো দেখে রেটিং, লাইক ও কমেন্ট দেয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল।