প্রকাশনা

ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে চেয়ে হতভাগা!

মোহাম্মদ মহসিন মিয়া ১৪ অক্টোবর,২০১৮ ১৫৩ বার দেখা হয়েছে লাইক কমেন্ট ৫.০০ রেটিং ( )

গরীবদের রক্ত চুষে যেমন ধনীরা অারো ধনী হয় তেমনি ধনীদের একটু ছোঁয়ার গরীব প্রাণ ফিরে পায়৷ পৃথিবী ব্যাপী দূর্বলদের প্রতি সবলদের অর্থনৈতিক অত্যাচার যত বেড়েছে তার চেয়ে অধিক হারে বেড়েছে যৌনাচার ও ব্যাভিচার৷ কর্ম ক্ষেত্র থেকে শুরু করে যুদ্ধ ক্ষেত্র পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রেই যৌনাচার বেড়েই চলছে৷ কাজের বিনিময়ে বেতন না হয়ে যৌনাচারের বিনিময়ে অর্থ দূর্বলদেরকে অারো ভাবিয়ে তোলছে৷ মানুষ কি মুনুষ্যত্ব চিরতরে হারিয়ে ফেলছে নাকি অর্থের প্রভাবে যা ইচ্ছা তাই করছে? সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে বাংলাদেশসহ শ্রম বিক্রির দেশগুলো থেকে নারী গৃহ কর্মি পাঠানোর পরে তাদের মুখের ভাষ্য শুনলে জাহেলিয়া যুগের দিকে ফিরে তাকানোর মত মনে হয়৷ সাথী নামের মেয়েটিকে দেখলেই কেউ কেউ এনাফ(Enough) বলে মশকরা করে৷ এটি ভাষাটি শুনলে মেয়েটি খুব ক্ষেপে যায় কিন্তু লজ্জায় কাউকে তেমন গালি দেয় না৷ বিষয়টি জানার খুব ইচ্ছা ছিল৷ অবশেষে জানলাম- সাথীর অারো ছোট দু'টি বোন অাছে৷ তার বাবা তার মাকে ছেড়ে অাজমির শরীফ চলে গেছে দ্বীন দুনিয়ার কথা ভুল৷ তখন সে ছোট৷ তার মাকে কিছুদিন স্বামির বাড়িতে থাকলেও অবশেষে পেটের তাগিদে একটু জুট মিলের পাশে তাদেরকে নিয়ে বাসায় চলে অাসছে৷ সাথী একটু বড় হলে তাকে তার মায়ের সাথে মিলে শ্রমিকের চাকরি দিয়ে দিল৷ মা-মেয়ের উপার্জনে সংসার ভালোই চলে৷ সাথী সুন্দরী ও শারীরিক গঠন দেখলে তাকে শ্রমিক ভাবার কোনো সুযোগ নাই৷ হঠাৎ সাথীর বাবার বাড়ির এক নারী এলো তার মায়ের কাছে৷ তাদের খোজ খবর নেওয়ায় সাথীর মা বেজায় খুশি৷ সে সৌদি অারবে নারী কর্মী পাঠায়৷ সাথীর জন্য একটা ভিসার খবর নিয়ে এলো৷ সৌদী এক পরিবারের স্বামি-স্ত্রী দুই জন চাকরি করে তাদের এক মাত্র সন্তানকে দেখবে ও দু'বেলা রান্না করবে৷ এ কথা বলাতেই সাথীর মা বাকি মেয়েগুলোর ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাকে বিদেশে পাঠাতে রাজি হলো৷ দালাল চক্র সাথীকে ঢাকায় নিয়ে ১৫দিন রান্নাও শিখালো৷ নির্দিষ্ট দিনে সাথী সৌদী অারবের বিমান বন্দরে পৌছালো৷ তাকে রিসিভ করার জন্য তিনজন লোক অপেক্ষা করছিল সেখানে৷ সাথীকে পেয়েই তারা একে অপরে কি যেন বলতে লাগল৷ তবে একটি কথা সাথী বুঝতে পারলো-'এনাফ'৷ যে কথা ও কাজের চুক্তি করে তাকে বিদেশ নিয়েছে সে কথা ও কাজের কোনো মিল পেল না সে৷ সেখানে নাই কোনো নারী৷ অাছে শুধু রাক্ষসরূপী কিছু পুরুষ৷ কোনো রকমে জীবনটা বাচিয়ে ৪-৫ মাস পরে সে দেশে ফিরে অাসলো৷ হযরত শাহজালাল অান্তর্জাতিক বিমান বন্ধরে তালাশ টিম সৌদী ফেরত একটি নারী কর্মিকে কেন দেশে ফিরে অাসছে প্রশ্ন করলো৷ মেয়েটি ক্ষিপ্ত হয়ে উত্তর দিল, সে দেশে মানুষ থাকে? দানব, রাক্ষস, জানোয়ার চিনেন? সব জানোয়ার!'' কাজের সন্ধানে টাকা অর্জন করতে গিয়ে হতভাগা দারিদ্র কুমারী মেয়েরা কেউ অন্তসত্ত্বা, অাবার কেউ কোলের বাচ্চা নিয়ে ফিরতেও দেখা যায়৷ গরীব হয়ে জন্মানো কোনো অপরাধ নয়, কিন্তু গরীব থেকেই মরে যাওয়া অপরাধ৷ মানুষ তার গরীব অবস্থা গুচাবে কী করে? কোনো শ্রমিক সারা জীবন জুট মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে কি সে তার গরীবত্ব দূর করতে পারবে? না পারার অাশংকায়ই তো পিতৃহীন, স্বামিহীন কিংবা সহায় সম্বলহীন অসহায় মানুষগুলো নিজ মাতৃভূমি পাড়ি দিয়ে প্রবাস জীবন বরণ করে নেয়৷ এ মানবতাহীন কাজের জন্য দায়ী কে? কোনো দেশের মানুষ অন্যদেশের নারীদের যা-তা কাজে নিযুক্ত করতে পারবে না যদি নিজ দেশের লোক এর সাথে জড়িত না থাকে৷ সে সকল দালাল শ্রেণির লোকদের কি দৃষ্টান্তমুলক কোনো শাস্তি হয়েছে? জাতি কি জানতে পারছে যে, কারা এ হীন কর্মের সাথে জড়িত এবং তাদের শাস্তি কী হয়েছে? এভাবে চলতে থাকলে এ সোনার বাংলার অসহায় নারী কর্মীদের পৃথিবীতে বসবাসের স্থান অনুপযোক্ত হিসেবে বিবেচনা হবে৷ বেদনা ও যাতনা সইতে না পেরে যে কোনো অঘটন ঘটতে পারে৷ তাই এখনই এ সকল অপতৎপরতাকারীদের মুখোশ উম্মোচন করে দিয়ে অসহায় নারীদের বাঁচার বিহিত ব্যবস্থা করে দিতে হবে৷ মোহাম্মদ মহসিন মিয়া শিক্ষক

মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
মেফতাহুন নাহার
২৫ মে, ২০২০ ০৮:৪২ অপরাহ্ণ

শুভেচ্ছা -অভিনন্দন ও শুভকামনা। আমার কনটেন্টগুলো দেখে রেটিং, লাইক ও কমেন্ট দেয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল।