সিনিয়র শিক্ষক
২৫ অক্টোবর, ২০১৯ ১২:১৩ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
11 জুন ২০১৫ এগারটার দিকে একটি সরকারি হাইস্কুলে গেলাম। এই উচ্চ বিদ্যালয়টির নাম কুইন এলিজাবেথ গ্রামার স্কুল। এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৫৮৯ সালে। খুব পুরাতন স্কুল। প্রায় ১২০০ ছাত্র-ছাত্রী এখানে অধ্যয়ন করে। এই প্রতিষ্ঠানটি আরো উন্নত । কুইন এলিজাবেথ গ্রামার স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাদেরকে একজন গাইড দিল। এই গাইডের নামো ক্রিস। এই ক্রিস সাহেব এখানকার নামকরা শিক্ষক। ক্রিস স্যার আমাকে রান্নাশালায় নিয়ে গেল। রান্নার কক্ষের বাহিরে একটি সুগ্রাণ পেলাম। ভিতরে ডুকেই টেবিলসেট চুলা দেখতে পেলাম। এটা যে একটা রান্নাঘর তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। সকল কিছু পরিস্কার পরিছন্ন। এখানকার রন্ধনশালার প্রধান এর অনুমোতি নিয়ে অনেকগুলো ছবি তোললাম। রন্ধনশালার প্রধান একজন মহিলা। আমার কাদের উপর হাত রেখে একটি ছবি তোলেছে যা আমার কাছে আরো বিস্ময়কর। খুব দ্রুত আমাকে আপন করে নিল। মোট কথা আমাকে যে আন্তরিকতার সহিত এখানকার রান্নার চুলা এবং অন্যান্য সরঞ্জাম দেখাল তা আমার কাছে কল্পনীয়। এখানে রান্নার প্রতিযোগিতা হয়।
রন্ধনশালা থেকে বের হয়ে আমরা মাঠের দিকে হেটে চললাম। চারদিকে সবুজ সমারোহে সাদা বিল্ডিং, দেখতে খুবই সুন্দর মনে হচ্ছে। বিশাল মাঠে বিভিন্ন খেলাধুলার কোর্ট আছে। ক্রিস আমাকে ক্রিকেট খেলার প্র্যাক্টিস কক্ষে নিয়ে গেল। খেলাধুলার আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও আছে। এই জীবনের প্রথম ক্রিকেট খেলার প্র্যাক্টিসে যন্ত্রের ব্যবহার দেখলাম। ব্যাটসম্যানের দুপাশে জালি আছে আর সামনে এক ল্যান্স দূরবীনের মত একটি লম্বা পাইপ আছে যার সাহায্য বল মারা হয়। মেসিনের সাহায্যে বলের গতি বা বাউন্স করা যায়। এটা বাংলাদেশে আছে কি না আমি জানি না। তবে তাদের এই প্র্যাক্টিসটা আমার কাছে নতুন মনে হল। ক্রিস আমাকে দিয়ে কয়েকটা বল করালো।
ক্রিস ও লরা লিন্ডা আমাকে তাদের বিশাল ক্যাম্পাস দেখাল। আমাদের বিদ্যালয়টি তিন একর জায়গার উপর অবস্থিত এবং ছাত্র/ছাত্রী প্রায় পনেরশত আর এখানকার কুইন এলিজাবেথ গ্রামার স্কুলেও পনেরশত ছাত্র/ছাত্রী। অতছ আয়তনে এবং অবকাঠামোতে শতগুন বড় হবে। খেলাধুলার প্রতিযোগিতা হয়। বিশাল একটি লাইব্রেরি আছে। লাইব্রেরিতে আমাদের ইসলাম ধর্মের বই আছে। আছে অন্যান্য ধর্মের বই। নানান রকমের বইয়ে সমারহে এটাকে জ্ঞানের সমুদ্র বলা যায়। ক্রিসের সাথে ক্রিসের একজন ছাত্রীও ছিল।আমাকে ই-বুকের কক্ষে নিয়ে গেল। এখানে ইবুক পড়ার সুযোগ সুবিধাও আছে। আছে পর্যাপ্ত ডেক্সটপ, ল্যাপটপ ও ট্যাব। এটা কাগজহীন বইয়ের মহাজগত।
আজ এই বিদ্যালয়ে যা দেখি তাই আমার কাছে প্রথম ও নতুন মনে হয়। কিন্তু তাদের কাছে এইগুলো স্বাভাবিক বা পুরাতন। আমাকে দুতলা বা উপরে উঠার জন্য লিফট , সিঁড়ি এবং উড়ন্ত সিড়ির ব্যবহার দেখাল। প্রতিবন্ধীদের যাতায়নের ব্যবস্থাও দেখাল। ক্রিস ঘুরে ঘুরে আমাদেরকে পদার্থ, রসায়ন, ভূগোল প্রভৃতি ক্লাশ দেখাল। দেখাল পরীক্ষার কক্ষ। এখানে পরীক্ষার কক্ষো আলাদা। হাটার সময় ক্রিস আমাদের মুখের উপর হাত রেখে চুপি চুপি হাটতে বলল। হাটার একটু পরই ক্রিস ব্যাখ্যা করল, এটা পরীক্ষার কক্ষ তাই কথা বা সাউন্ড করা যাবে না। আমি পরীক্ষা কক্ষ দেখার আবদার করলাম। ক্রিস কার কাছে যেন ফোন করে পরীক্ষার কক্ষে ডুকার অনুমোতি নিল। আমরা চুপি চুপি একটা পরীক্ষার কক্ষ দেখালাম। একটি ভুগোল ক্লাশে গেলাম। ছাত্ররা আমাকে প্রশ্ন, আপনার দেশের নাম কী বা কোথায়? কক্ষে পৃথিবী বিশাল এক মানচিত্র ছিল, আমি বাংলাদেশের এবং এশিয়ার অবস্থান দেখিয়ে তাদের সাথে পরিচিত হলাম। ভুগোল ক্লাশটা আমিও এনজয় করলাম। এখানকার ছেলেমেয়েরা আমাদেরকে তাদের জানা জ্ঞান শ্যায়ার করল। আমি কিছু না বুঝলে লরা লিন্ডা আমাকে ধীরে ধীরে বুঝিয়ে দিত। পড়ার কক্ষ, পরিক্ষার কক্ষ, শ্রেণি কক্ষ, খেলাধুলার কক্ষ, ল্যাব, ইত্যাদি কক্ষের অভাব নাই। আছে ইন্ডোর, আউটডোরের সুবিধা।
কুইন এলিজাবেথ গ্রামার স্কুল এর প্রধান শিক্ষক এবং চাইল্ড প্রট্রেশন অফিসারদের সাথে ছোট পরিসর মিটিং করলাম। শিশু নিরাপত্তা সম্পর্কে আমাদেরকে বিস্তারিত জানাল। প্রধান শিক্ষক কুইন এলিজাবেথ গ্রামার স্কুল সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করেছে। বিদায়ের বেলা আমাকে কুইন এলিজাবেথ গ্রামার স্কুল এর ক্যালোগ্রাফি সম্বলিত একটি পেইন্ট উপহার দিল। লরা আমাদেরকে কুইন এলিজাবেথ গ্রামার স্কুল থেকে বের হয়ে গাড়ি পার্কিং এর দিকে নিয়ে আসল। গাড়ি পার্কিং এর স্থানটা অনেক বড়। এখানে স্থানীয় বড় বড় গাছ আছে।