Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৬ এপ্রিল, ২০২০ ১১:০১ পূর্বাহ্ণ

মাগুর মাছের চাষ
<?xml encoding="utf-8" ?>

মাগুর মাছ এক প্রকার জিওল মাছ। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, চিন, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশে এই মাছের বিস্তার। এই মাছ ফুলকার সাহায্যে জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র দিয়ে বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে। অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র থাকার ফলে মাগুর মাছ জলের বাইরে অনেকক্ষণ পর্যন্ত বাঁচতে পারে। এই জন্য এদের জিওল মাছ বলে। এদের দেহে আঁশ নেই, বক্ষ পাখনায় কাটা আছে এবং মুখে চার জোড়া শুঁড় আছে। এদের ক্যাট ফিশও বলা হয়। মাগুর মাছ সহজেই বক্ষ পাখনার দুই কাঁটার সাহায্যে শুকনো স্থান দিয়ে অতি দ্রুত পুকুর থেকে চলে যেতে পারে। আমাদের দেশে বর্তমানে তিনটি প্রজাতির মাগুর মাছ পাওয়া যায় —

  • ১) দেশি মাগুর বা এশিয়ান ক্যাটফিশ (Clarias batrachus)
  • ২) আফ্রিকান মাগুর বা আফ্রিকান ক্যাটফিশ (Clarias gariepinus)
  • ৩) থাই মাগুর বা থাই ক্যাটফিশ (Clarias macrocephalus)

এদের মধ্যে থাই মাগুর অল্প সংখ্যায় পাওয়া যায়। বর্তমানে আমাদের দেশে আফ্রিকান মাগুরের প্রবেশের ফলে অনেকে দেশি ও বিদেশি মাগুরের তফাত হঠাৎ করে বুঝতে পারেন না। ছোট অবস্থায় এই তিন ধরনের মাগুর দেখতে প্রায়ই একই রকম। আফ্রিকান মাগুরের গায়ের রঙ অন্য দুই মাগুর মাছের থেকে একটু আলাদা। এদের গায়ের রঙ হালকা ছাই এবং পেটের দিক সাদা। দেশি মাগুর মাছের গায়ের রঙ কালচে বা হলুদাভ হয়। এদের সনাক্তকরণের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল মাথার খুলির খাঁজ।

উচ্চ পুষ্টিগুণ ও সহজপাচ্য

মাগুর মাছ অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং সহজে হজম হয়। এতে প্রোটিনের এবং আয়রনের শতকরা পরিমাণ খুবও বেশি। অথচ ফ্যাট কম থাকে তাই সহজ পাচ্য। প্রতি ১০০ গ্রাম মাগুর মাছে রয়েছে —

ক)জলীয় পদার্থ

৭৮.২০ গ্রাম

খ )প্রোটিন

১৫.০০ গ্রাম

গ )খনিজ পদার্থ

১.৩৯ গ্রাম

ঘ )স্নেহ পদার্থ

১.০০ গ্রাম

ঙ )ফসফরাস

২৯০ মিলিগ্রাম

চ )ক্যালসিয়াম

২১০ মিলিগ্রাম

ছ )লৌহ

৭৪ মিলিগ্রাম

জ )গ্রহণযোগ্য লৌহ

৭০ মিলিগ্রাম

এই মাছ অত্যন্ত সুস্বাদু ও কাঁটাবিহীন। রোগীর এবং শিশুর খাদ্য হিসাবে এর উপযোগিতা প্রচণ্ড

উচ্চ বাজারদর

সমস্ত জিওল মাছের মধ্যে মাগুর মাছ খুব তাড়াতাড়ি বাড়ে। এক বছরে ১০০ থেকে ১২০ গ্রামের মতো হয় এবং ক্রেতার অত্যন্ত পছন্দের তালিকায় থাকায় এর বাজারদরও বেশ ভালো। সুতরাং এই মাছ চাষ করলে চাষির তুলনামূলক ভাবে লাভের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। মাগুরের আরও একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল ৬ মাসেই এই মাছ বাজারকৃত করার আকার ধারণ করে।

বাজারীকরণের জন্য বেশি সময় ধরে পরিবহণের সুবিধা

প্রত্যন্ত গ্রামে পোনামাছ চাষ করলে যথোপযুক্ত বাজারদর পাওয়ার জন্য দূরবর্তী শহরের বাজারে পাঠাতে হয়। পোনামাছ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে পচে যেতে শুরু করে। কিন্তু মাগুর মাছ জল ছাড়া অবস্থায় বেঁচে থাকতে সক্ষম হওয়ায় দূরবর্তী বাজারে তাকে বিক্রি করতে অসুবিধা হয় না।

অব্যবহৃত মরসুমী জলাশয় এবং অনিয়ন্ত্রিত জলাশয়ের ব্যবহার

আমাদের রাজ্যে একটা বড় পরিমাণ জলাশয়ে সারা বছর জল থাকে না। বর্ষার সময় ভর্তি হওয়া এই জলাশয়গুলিতে সাধারণত ৫ – ৬ মাস জল থাকে। এই সমস্ত জলাশয়ে যেখানে পোনা মাছ চাষ করা যায় না সেখানে মাগুর মাছ চাষ করা সম্ভব এবং স্বল্পকালীন চাষ করে যা বৃদ্ধি হবে তা বাজারজাত করে ভালো মূল্য পাওয়া যাবে। গ্রামে যে সমস্ত হাজা-মজা পুকুর এবং কচুরিপানা আবৃত বড় বড় বিল আছে যার থেকে কোনও উপার্জন তো হয় না উপরন্তু গ্রামীণ পরিবেশকে দূষিত করে, সেই সমস্ত বিল এবং ডোবাকে মাগুর মাছ চাষের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এই ধরনের জলাশয়ে সাধারণত অক্সিজেনের পরিমাণ কম ও অন্যান্য ক্ষতিকারক গ্যাসের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই এখানে পোনা মাছ চাষ করা যায় না। কিন্তু মাগুর মাছের অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র থাকায় এরা বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন নিতে পারে। ফলে এদের চাষ অনায়াসে এখানে করা যায়। ফলত, মাগুর মাছ চাষের মাধ্যমে এ ভাবে এক ব্যাপক পরিমাণ প্রায় অব্যাবহৃত জলাশয়কে মাছ চাষের আওতায় আনা সম্ভব।

ধান চাষের সাথে মাগুরের সমন্বিত চাষ

পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে (বিশেষত উত্তর ও দিক্ষণ চব্বিশ পরগনা, মেদিনীপুর) প্রচুর পরিমাণে ধান জমি আছে যাতে প্রায় ৫ – ৬ মাস গড়ে ৩ ফুট উচ্চতায় জল থাকে। এই সমস্ত জমিতে ধান চাষের সাথে সম্বনিত চাষের ক্ষেত্রে মাগুর মাছকে পছন্দের প্রজাতি হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে। এখানে জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকায় মাগুর চাষ করা ভালো। এ ছাড়া ধান জমিতে থাকা প্রাণীকণা এবং পোকামাকড় মাগুরের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হওয়ার সুযোগ থাকে। এ ছাড়াও পাশাপাশি মাগুরের ঠুকরানো স্বভাবের জন্য ধান গাছের গোড়ায় জন্মানো শ্যাওলার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ধান গাছ মুক্ত থাকে। আর চাষি ধানের সাথে মাছ থেকেও কিছু পরিমাণ অতিরিক্ত আয় করে।

দেশি মাগুর মাছের প্রজনন

দেশি মাগুর সাধারণত আমিষ জাতীয় খাদ্য পছন্দ করে। এরা কীটপতঙ্গ, গেঁড়ি, গুগলি, ঝিনুকের মাংস, প্রাণীদেহের পচা গলা অংশ, কেঁচো, পোকামাকড়ের লার্ভা খেতে অভ্যস্ত। মাগুর মাছ পুকুরে চাষ করার সময় বাইরে থেকে পরিবেশন করা খাদ্যও গ্রহণ করে। এই মাছ চাষের জন্য সরষের খোল, শুকনো চিংড়ি বা মাছের গুঁড়ো, চালের কুঁড়ো এক সঙ্গে মিশিয়ে পরিপূরক খাদ্য হিসাবে দেওয়া হয়।

সাধারণত মিষ্টি জলে এদের বাসস্থান। নদী, নালা, খাল, বিল, ধানক্ষেত এবং পুকুরে এরা থাকে। পরিত্যক্ত পচা ডোবা পুকুরেও এরা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে। এরা মিষ্টি জলের মাছ হলেও অনেকটা নোনাজল (৬ – ৮ পিপিটি লবণাক্ত) সহ্য করে বেঁচে থাকতে পারে। বর্ষাকালে এদের প্রজনন হয়। মে মাস থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত স্ত্রী মাছের পেটে ডিম পাওয়া যায়। বর্ষাকালে পরিযায়ী স্বভাবের পরিপক্ক পুরুষ ও স্ত্রী মাছ পুকুর, খাল বা নালা থেকে উঠে আসে এবং যৌনমিলনের জন্য নতুন জলজ পরিবেশ খোঁজ করে। ধানক্ষেত কিংবা আগাছাপূর্ণ জলাশয়ে এরা ডিম পাড়ে। মাগুর মাছের ডিম জলীয় আগাছার সঙ্গে যুক্ত থাকে। এই সমস্ত জায়গায় বর্ষার পরে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর অবধি মাসগুলিতে ৮ – ১২ গ্রাম ওজনের মাগুর মাছের চারা পাওয়া যায়। স্ত্রী মাগুর মাছের ডিমের সংখ্যা খুবই কম। স্ত্রী মাছের ডিমের সংখ্যা দেহের ওজনের উপর নির্ভর করে। সাধারণত একটি ১০০ গ্রাম ওজনবিশিষ্ট স্ত্রী মাছে ৩৫০০ – ৪০০০ ডিম পাওয়া যেতে পারে। দেশি মাগুর মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ছাড়াও এদের কৃত্রিম ভাবে প্রজনন করানো হয়।

প্রজনন ঋতুতে পুরুষ ও স্ত্রী মাছ চেনার উপায়

পুরুষ মাগুর মাছ

স্ত্রী মাগুর মাছ

১)পেট স্বাভাবিক থাকে।১)ডিম থাকার জন্য পেট স্ফীত থাকে।
২)জনন অঙ্গ লম্বাটে, সূঁচালো এবং আগায় লাল বিন্দু থাকে।২)জনন অঙ্গ গোলাকার বা ডিম্বাকৃতি, ফোলা ও মাঝখানে স্পষ্ট কাটা দাগ থাকে।
৩)পেটে হাল্কা চাপ দিলে কোনও তরল পদার্থ শুক্রাণু বের হয় না।৩)ফোলা পেটে হাল্কা চাপ দিলে জনন অঙ্গ দিয়ে ডিম বের হয়।

মাগুর মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন

দেশি মাগুর মাছ অনুকূল পরিবেশে পুকুর, বিল এবং অন্যান্য বদ্ধ জলাশয়েও ডিম পাড়ে। বর্ষাকালে স্ত্রী মাগুর জলাশয়ের কিনারায় জলতলের ৩০ – ৪০ সেমি নীচে ঘাসযুক্ত অগভীর অংশে গর্ত করে বাসা বাঁধে। গর্ত প্রায় গোলাকার হয়। এর গভীরতা ২০ থেকে ৩০ সেমি মতো হয় এবং গর্তের ব্যাস ২০ – ২৫ সেমি হয়। স্ত্রী ও পুরুষ মাছ একত্রে গর্তের মধ্যে মিলিত হয়। এই গর্তের মধ্যে স্ত্রী মাছ ডিম পাড়ে। ডিমগুলো আঠালো হওয়ায় মাটির গায়ে গর্তের মধ্যে থাকা ঘাসের মধ্যে আটকে থাকে। স্ত্রী মাছ গর্ত থেকে বেরিয়ে যায় এবং আশপাশে থাকে। পুরুষ মাছ গর্তের মধ্যে থেকে ডিমভর্তি বাসা পাহারা দেয়। ডিমগুলো গোলাকার, হলুদাভ – বাদামি বর্ণের হয় এবং এদের ব্যাস ১.৩ – ১.৬ মিলিমিটার হয়। ২৫ – ৩২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ১৮ – ২০ ঘণ্টার মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বেরোয় এবং গর্তের মধ্যে ঝাঁক বেঁধে থাকে। ফ্রাই বা বাচ্চাগুলো তিন চার দিন কোনও খাদ্য গ্রহণ করে না। এই সময় তারা নিজেদের কুসুমথলি থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে। এর পর ধীরে ধীরে এরা খাদ্যের খোঁজে গর্তের বাইরে বেরিয়ে আসে। একটা গর্ত থেকে ২০০০ – ১৫০০০ মতো ফ্রাই পাওয়া যেতে পারে।

দেশি মাগুর মাছের কৃত্রিম প্রজনন

স্ট্রিপিং পদ্ধতি এবং মাছ সংগ্রহ ও যত্ন

বর্তমানে প্রণোদিত প্রজননের মাধ্যমে মাগুর মাছের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। মাগুর মাছের প্রণোদিত প্রজনন ও পোনা মাছের প্রণোদিত প্রজননের মধ্যে মূল পার্থক্য হল পোনা মাছকে হরমোন ইনজেকশন দ্বারা উদ্দীপিত করে স্রোতযুক্ত জলাধারে ছাড়া হয়। কিন্তু মাগুর মাছের ক্ষেত্রে পুরুষ মাছের শুক্রাণু ও স্ত্রী মাছের ডিম্বাণু সংগ্রহ করে কৃত্রিম উপায়ে নিষেক ক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এই পদ্ধতিকে স্ট্রিপিং বা চাপ পদ্ধতি বলা হয়।

প্রজননকারী মাছ সংগ্রহ ও যত্ন

কৃত্রিম প্রজননের জন্য বড় মাগুর মাছ নির্বাচন করা দরকার। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে এক বছর বয়সের ১০০ – ১৫০ গ্রামবিশিষ্ট মাছ বাজার থেকে কিংবা কোনও প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে সংগ্রহ করে আগে থেকে নির্মিত কোনও পুকুরে কিংবা সিমেন্টের তৈরি জলাধারে রাখতে হবে। পুকুরের বা সিমেন্টের জলাধারে জলের পরিবেশ ভালো রাখতে হবে এবং উচ্চ প্রোটিন জাতীয় খাদ্য প্রত্যহ দিতে হবে। প্রজননকারী মাছের স্বাস্থ্য যাতে ভালো থাকে তার জন্য সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। মাছের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে ডিমের পরিমাণ বেশি হয়। মাছকে প্রত্যহ গুঁড়ো শুকনো মাছ ও চালের কুঁড়ো ৯ : ১ অনুপাতে মিশিয়ে মাছের দেহের ওজনের ১০ শতাংশ হারে প্রয়োগ করতে হবে। পুকুরে বা সিমেন্টের চৌবাচ্চায় প্রজননকারী মাছ ছাড়ার ঘনত্ব (স্টকিং ডেনসিটি) প্রতি ৪ বর্গমিটারে এক জোড়া (একটি স্ত্রী ও একটি পুরুষ)।

স্ট্রিপিং পদ্ধতিতে প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ
  • ১) মাছ হাতের মধ্যে ধরে রাখার জন্য পরিষ্কার নরম কাপড়
  • ২) যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার জন্য অ্যাবসোলিউট অ্যালকোহল
  • ৩) পুরুষ মাগুর মাছের পেট কেটে শুক্রাশয় বের করার জন্য সার্জিকাল ব্লেড
  • ৪) শুক্রাশয়কে পেট থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য চিমটে
  • ৫) শুক্রাশয়কে টুকরো টুকরো করার জন্য কাঁচি
  • ৬) শুক্রাশয়কে ভালো ভাবে পেষাই করে শুক্ররস বের করার জন্য খুব সূক্ষ্ম ফাঁসের একখানি জাল
  • ৭) স্ট্রিপিং–এর সময় ডিম সংগ্রহের জন্য গোল এনামেলের গামলা
  • ৮) শুক্রাশয় থেকে রক্ত মোছার জন্য পরিষ্কার তুলো
  • ৯) শুক্রাণুগুলিকে সচল রাখার জন্য ০.৯ শতাংশ নরম্যাল স্যালাইন
  • ১০) ০.৯ শতাংশ নরম্যাল স্যালাইন-সহ শুক্ররস ধরে রাখার জন্য ছোট কাচের পাত্র
  • ১১) ডিমের উপর শুক্ররসকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ড্রপার
  • ১২) শুক্ররস ও ডিমকে ভালো ভাবে মেশানোর জন্য নরম ব্রাশ
  • ১৩) শুক্ররস ও ডিমের মিশ্রণ পরিষ্কার করার জন্য ডিসটিলড ওয়াটার
  • ১৪) স্ত্রী মাছকে হরমোন নির্যাস দেওয়ার জন্য পিটুইটারি গ্রন্থি
  • ১৫) মাছ ও পিটুইটারি গ্রন্থি ওজনের জন্য দাঁড়িপাল্লা ও তুলাযন্ত্র
  • ১৬) ইনজেকশন দেওয়ার জন্য সিরিঞ্জ ও সূঁচ
  • ১৭) মাছকে চেতনাহীন করার জন্য ১ : ৪ অনুপাতে লবঙ্গ তেল ও অ্যাবসোলিউট অ্যালকোহলের দ্রবণ
  • ১৮) নিষিক্ত ডিমগুলোকে জলের নীচে ছড়িয়ে রাখার জন্য মশারির জাল-সহ একটি লোহার ফ্রেম
  • ১৯) হ্যাচিং–এর জন্য জল পরিবর্তনের ব্যবস্থা সহ বৃত্তাকার হ্যাচারি পুল
  • ২০) প্রয়োজনে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য কিছু ছোট ছোট বায়ু সঞ্চালক যন্ত্র (এরেটর)
  • ২১) ধানীপোনা পালনের জন্য কয়েকটি জল সরবরাহযুক্ত সিমেন্ট বা প্লাস্টিক বা ফাইবার ট্যাঙ্ক

প্রজননের জন্য মাছ প্রস্তুত করা

স্ত্রী মাছ প্রস্তুত করা

বাহ্যিক লক্ষণ দেখে স্ত্রী মাছকে সনাক্ত করে আলাদা করতে হয়। এর পর পোনামাছের প্রণোদিত প্রজননের জন্য যে ভাবে পিটুইটারি গ্রন্থির নির্যাস প্রস্তুত করা হয় সেই ভাবেই তৈরি করে স্ত্রী মাছের দেহে এই নির্যাস প্রয়োগ করতে হয়। প্রতি কিলোগ্রাম দৈহিক ওজনের জন্য ৩০ – ৪০ মিলিগ্রাম পিটুইটারি গ্রন্থির নির্যাস বা হরমোন প্রয়োগ করতে হয়। বর্তমানে বাজারে বাণিজ্যিক ভাবে বিভিন্ন ধরনের সিন্থেটিক হরমোন (ওভাপ্রিম, ওভাটাইড, ওভা এফ এইচ) ইত্যাদি পাওয়া যায়। এদের ব্যবহার করা যেতে পারে। মাগুর মাছের দেহে নিম্নলিখিত তিনটি অংশের যে কোনও একটি অংশে এই ইনজেকশন দেওয়া হয়ে থাকে —

  • ১) ইনট্রা–মাসকুলার ইনজেকশন যা মাংসপেশির মধ্যে প্রবেশ করানো হয়। এই পদ্ধতিতে শরীরের মাঝ বরাবর পৃষ্ঠ পাখনা ও পার্শ্বপাখনা ও পার্শ্বরেখার মাঝামাঝি জায়গায় ইনজেকশন দেওয়া হয়।
  • ২) সাব–কিউটেনিয়াস ইনজেকশন যা চামড়া ও মাংসপেশির মধ্যবর্তী অঞ্চলে প্রবেশ করানো হয়। এই পদ্ধতিতে শরীরের পায়ু পাখনাদ্বয়ের ঠিক নীচে জনন অঙ্গের দু’ ধারে ইনজেকশন দেওয়া হয়।
  • ৩) ইন্ট্রা- পেরিটোনিয়াল ইনজেকশন যা মাথার কাছাকাছি জায়গায় প্রবেশ করানো হয়। এই পদ্ধতিতে মাছের বক্ষ পাখনা দ্বয়ের ঠিক নীচে মাংসল অংশে ইনজেকশন দেওয়া হয়।

স্ত্রী মাছকে হরমোন প্রয়োগের কারণ হল এদের মধ্যে উত্তেজনা আনা এবং ডিম্বাশয়ের মধ্যে আটকে থাকা ডিমগুলোকে ক্রমশ বন্ধনমুক্ত করা যা পরবর্তীতে হাল্কা চাপ দিলে দেহের বাইরে বেরিয়ে আসবে। স্ত্রী মাছকে ইনজেকশন দেওয়ার পর মাছকে জলভর্তি অ্যাকোরিয়াম বা চৌবাচ্চায় বা প্লাস্টিক গামলায় রাখা হয়। ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা পরে এই মাছগুলোকে চাপ বা স্ট্রিপিং-এর জন্য ব্যবহার করা হয়।

স্ত্রী মাছের স্ট্রিপিং ও ডিমের নিষিক্তকরণ

শুক্রাশয় থেকে শুক্রাণু সংগ্রহের সঙ্গে সঙ্গে আগে থেকে হরমোন ইনজেকশন দেওয়া স্ত্রী মাছটির মাথায় চেপে ধরে পেটে হাল্কা চাপ দিয়ে নির্গত ডিমগুলোকে একটি পরিষ্কার বড় এনামেল গামলাতে সংগ্রহ করা হয়। এই অবস্থাকে বলে ডিমের ফ্রি ফ্লোয়িং কন্ডিশন। স্ট্রিপিং–এর সময় পেটে যেন খুব জোরে চাপ না পড়ে সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। চাপ জোরে হলে মাছের দেহের অভ্যন্তরের সম্পূর্ণ যন্ত্র নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং জননছিদ্র দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসে। স্ত্রী মাছের পেট থেকে যতক্ষণ না সম্পূর্ণ ডিম বেরিয়ে আসে ততক্ষণ হাল্কা চাপ দিয়ে যেতে হবে। হলুদাভ খয়েরি রঙের ডিমগুলো পেট থেকে বেরিয়ে গামলায় জমা হবে। পেটে চাপ দিতে দিতে যখন দেখা যাবে জননঅঙ্গে হাল্কা রক্তের দ্রবণ বেরোতে শুরু করবে তখন বোঝা যাবে সম্পূর্ণ ডিম বেরিয়ে গেছে, এই সময় চাপ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। সাধারণত একটি ১০০ গ্রাম মাগুর মাছ থেকে ৩ – ৪ হাজার ডিম বেরোতে পারে। ডিম নির্গমণ শেষ হলে স্ত্রী মাছটিকে জলের পাত্রে ছেড়ে দিলে পুনরায় সতেজ হয়ে যায়। মাছটিকে ২ – ৩ ঘণ্টা রেখে সম্পূর্ণ উজ্জীবিত হলে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দ্রবণে ৫ – ১০ মিনিট ডুবিয়ে রেখে পুকুরে ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে।

ডিমের নিষিক্তকরণ

ডিম সংগ্রহ শুরু হলেই শুক্রাণু মিশ্রিত স্যালাইন দ্রবণ ড্রপার দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা করে ডিমের উপর ফেলে নরম তুলি দিয়ে ভালো ভাবে মেশাতে হবে যাতে ডিমের নিষিক্তকরণ ভালো হয়। এর পর ডিম সমেত গামলাটিকে ভালো ভাবে নাড়াতে হবে। এর ফলে শুক্রাণুগুলো সমস্ত ডিমের উপর সমান ভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং নিষেকের হার বৃদ্ধি পায়। এর পরে আবার কিছুটা পরিষ্কার জল দিয়ে নিষিক্ত ডিমগুলিকে ভালো ভাবে ধুয়ে নিতে হয়। এর ফলে অতিরিক্ত মিল্ট বা শুক্ররস ধুয়ে যায় এবং ডিমের চটচটে ভাব প্রায় থাকে না।

শুক্রাশয় থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ, স্ত্রী মাছের পেট থেকে ডিম বের করা এবং ডিমের নিষিক্তকরণ এই সমস্ত পদ্ধতিগুলি ২ – ৩ মিনিটের মধ্যে হওয়া দরকার। এর বেশি সময় অতিবাহিত হলে নিষেকের মাত্রা কমতে থাকে।

পুরুষ মাছ প্রস্তুত করা

পুরুষ মাছে কোনও পিটুইটারি গ্রন্থির নির্যাস প্রয়োগ করতে হয় না। কারণ পরিণত মাছের শুক্রাশয় কেটে স্ত্রী মাছের ডিম্বাণুর সঙ্গে নিষিক্তকরণ করা হয়। এর ফলে পুরুষ মাছটি মারা যায়। যে স্ত্রী মাছের ডিমের সঙ্গে নিষিক্ততকরণ হবে সেই স্ত্রী মাছের সমান ওজনের পুরুষ মাছ নির্বাচিত করতে হবে। অনেক সময় পুরুষ মাছের শুক্রাশয় থেকে সংগৃহীত শুক্রাণুর পরিমাণ কম হয় তাই দু’টো পুরুষ মাছ নির্বাচিত করে কোনও চৌবাচ্চা বা প্লাস্টিক গামলায় পৃথক করে রাখতে হবে।

পুরুষ মাছের শুক্রাশয় ছেদন ও শুক্রাণু সংগ্রহ

যে হেতু মাগুর মাছে কাঁটা থাকে এবং শুক্রাণু ও ডিম্বাণু সংগ্রহের জন্য নাড়ানাড়ি করতে হয় তাই কাজের সুবিধার জন্য এদেরকে অচেতন করে নিতে হয়। পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে লবঙ্গ তেল ও অ্যাবসোলিউট অ্যালকোহলের দ্রবণ মিশ্রিত জলে ছাড়া হয়। লবঙ্গ তেল ও অ্যাবসোলিউট অ্যালকোহলের মিশ্রণের অনুপাত ১ : ৪। ৫০ লিটার জলে ৫ মিলিলিটার দ্রবণ ভালো ভাবে মিশিয়ে দিতে হয়। এই মিশ্রণটি চেতনানাশকের কাজ করে। পাত্রে অবশ্যই বায়ু সঞ্চালনের ব্যবস্থা রাখা উচিত। ২০ – ২৫ মিনিটের মধ্যে মাছ চেতনা হারায়। অচেতন মাছকে প্রয়োজনমতো নাড়াচাড়া করা যায়। আবার কাজ হয়ে গেলে পরিষ্কার জলের স্রোতে রাখলে পুনরায় চেতনা ফিরে আসে। যাঁরা এই কাজে অভিজ্ঞ তাঁরা সরাসরি জ্যান্ত মাছকে নিয়ে কাজ করতে পারেন।

পুরুষ মাছের শুক্রাণু ছেদনের মাধ্যমে ০.৯ শতাংশ নর্মাল স্যালাইন দ্রবণে শুক্রাণু সংগ্রহ পুরুষ মাছটির পেট উপর দিকে করে সার্জিক্যাল ব্লেড দিয়ে পেট চিরে ক্ষুদ্রান্তের নীচে থেকে শুক্রাশয় দু’টি বের করা হয়। তুলো দিয়ে শুক্রাশয় দু’টিকে পরিষ্কার করে নিতে হয় যাতে এর গায়ে রক্ত, মাংসপিণ্ড লেগে না থাকে। এর পর শুক্রাশয় দু’টিকে কাঁচির সাহায্যে ছোট ছোট করে কেটে নিতে হয় এবং সংগৃহীত টুকরোগুলোকে খুব সূক্ষ্ম ফাঁসযুক্ত জালে বা কাপড়ে সংগ্রহ করে কাচের বাটিতে ০.৯ শতাংশ নর্মাল স্যালাইন দ্রবণে রাখতে হবে। ছোট ছোট কাচের বাটিতে প্রায় ২ মিলিলিটার নর্মাল স্যালাইন দ্রবণ রাখা হয়। ঘন ফাঁসের জালের মধ্যে থাকা টুকরো শুক্রাশয়গুলিকে আঙুলের দ্বারা চাপ দিলে যে মিল্ট বা শুক্ররস বেরোবে তা নর্মাল স্যালাইন দ্রবণে সংগৃহীত হবে। দেখা গেছে নর্মাল স্যালাইনের মধ্যে শুক্রাণু ৩ মিনিট পর্যন্ত সক্রিয় অবস্থায় বেঁচে থাকতে পারে। সুতরাং এই শুক্রাণু ৪ মিনিটের মধ্যে ব্যবহার করে ফেলতে হবে, তা না হলে নিষেকের মাত্রা অত্যাধিক কম বা একেবারেই হবে না।

নিষিক্ত ডিম থেকে হ্যাচলিং দশা

নিষিক্ত ডিমগুলিকে একটি মশারির জালের ফ্রেমের উপর নরম ব্রাশের সাহায্যে এমন ভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে যেন একটি ডিম আর একটি ডিমের সঙ্গে লেগে না থাকে। এই মশারির জালটি লোহার ফ্রেমের সঙ্গে টান টান করে লাগানো হয়। নেট ফ্রেমটি কোনও সিমেন্টের চৌবাচ্চা বা প্লাস্টিক ট্যাঙ্ক বা ফাইবারের ট্যাঙ্কে এমন ভাবে বসাতে হবে যাতে এই ডিম-সহ ফ্রেমটি জলের উপরিতল থেকে ২ ইঞ্চি নীচে থাকে। এই চৌবাচ্চা বা ট্যাঙ্কের জলের গভীরতা ৪ – ৫ ইঞ্চি হওয়া বাঞ্ছনীয়। এই ট্যাঙ্কে সর্বক্ষণ জল পরিবর্তনের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন এবং নিষিক্ত ডিমগুলোর উপর দিয়ে সর্বদা একটি হাল্কা জলের স্রোত থাকবে। এর জন্য ট্যাঙ্কের জল প্রবেশের দ্বার বা ইনলেট এবং জল নির্গমনের দ্বার বা আউটলেট থাকবে। আউটলেট বা জল নির্গমনের পথটি ট্যাঙ্কের নীচের দিকে এমন ভাবে করতে হবে যাতে ট্যাঙ্কের দূষিত জল অনায়াসে বেরিয়ে যায়। এ ছাড়া এই ব্যবস্থা থাকার ফলে ডিমগুলি সর্বদা অক্সিজেনযুক্ত জল পাবে এবং অনিষিক্ত ডিমের খোসা পচে জল দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। যাতে মাগুরের পোনা বা হ্যাচলিং ট্যাঙ্ক থেকে বেরিয়ে যেতে না পারে তার জন্য ইনলেট ও আউটলেটের মুখ সূক্ষ্ম নেট দ্বারা আটকানো থাকবে।

নিষিক্ত ডিমগুলিকে দেখতে স্বচ্ছ হবে এবং অনিষিক্ত ডিমগুলি অস্বচ্ছ হবে। এই ভাবে ডিমগুলোর উপর দিয়ে জলপ্রবাহ থাকার ১৮ – ২২ ঘণ্টার মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। এদেরকে হ্যাচলিং বলে। হ্যাচলিং-এর পেটের কাছে একটি কুসুমথলি থাকে। প্রায় ৪ দিন পর্যন্ত হ্যাচলিং কুসুমথলি থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। এই সময় এরা বাইরের খাবার খায় না। জলে পিএইচ ৭.০ – ৭.৫ এবং তাপমাত্রা ২৮ – ৩১ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেডের মধ্যে থাকা উচিত। তাপমাত্রার পরিবর্তনের উপর হ্যাচিং-এর সময়কাল বাড়ে বা কমে। হ্যাচিং সম্পূর্ণ হওয়ার পর ট্যাঙ্ক থেকে অনিষিক্ত ডিম, ডিমের খোসা সাইফন করে বের করে দিতে হবে। সর্বক্ষণ জলের প্রবাহ ছাড়াও প্রতি ৩ – ৪ ঘণ্টা অন্তর ট্যাঙ্কের নীচের জল সাইফনের মাধ্যমে বের করে দেওয়া দরকার। যতক্ষণ না হ্যাচলিং দশা স্পন দশায় পৌঁছয় ততক্ষণ পর্যন্ত এই ভাবে ট্যাঙ্কের নীচের জল বের করে দিতে হবে। হ্যাচলিং অবস্থায় এদের দৈর্ঘ্য ৪ – ৫ মিলিমিটার এবং ওজনে ২৮ – ৩.২ মিলিগ্রাম হয়।

ধানীপোনা ও তার পরিচর্যা

মাগুরের চারার বয়স ১৫ দিন হলে এদের ধানীপোনা বা ফ্রাই বলা হয়। এই সময় এরা দৈর্ঘ্যে ১৫ – ২০ মিলিমিটার পর্যন্ত হয় এবং ওজনে প্রায় ৩০ – ৫০ মিলিগ্রাম মতো হয়। এই বয়সের পোনাকে প্রতি বর্গমিটারে ১০০০ – ১২০০টির বেশি না রাখা ভাল। ধানীপোনার বৃদ্ধি খুব দ্রুত হারে হয় এবং এদেরকে তৈরি করা খাবার বা জীবন্ত টিউবিফ্যাক্স খাবার হিসাবে দিতে হয়। পরিপূরক খাবার হিসাবে ঝিনুক, ডিম ও সোয়াবিনের বড়ি ভালো ভাবে সেদ্ধ করে মিক্সার মেশিনে দিয়ে লেই বানানোর পর তার সঙ্গে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স ও ভিটামিন সি মেশানো হয়। দিনে কমপক্ষে ৪ বার খাবার দেওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত খাবার যাতে পড়ে না থাকে সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। বাড়তি খাবার সাইফনের মাধ্যমে বের করে দিতে হবে, তা না হলে জল যেমন দূষিত হবে সেই সঙ্গে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ দেখা যাবে। অক্সিজেনের ঘাটতি মেটাতে এবং জল পরিবর্তনের জন্য ফোয়ারার সাহায্যে জল ফেলা দরকার এবং সেই সঙ্গে নিকাশি ব্যবস্থার দ্বারা তা বের করা প্রয়োজন। মাগুর মাছের একটি বৈশিষ্ট্য হল হ্যাচিং–এর ১০ – ১২ দিন পরে এদের অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র সৃষ্টি হয় এবং এরা উলম্ব ভাবে জলের উপর ভেসে উঠে গিয়ে বাতাসে অক্সিজেন নেয়। এই ভাবে জলের নীচ থেকে জলের উপরিতলে যাওয়ার জন্য এদের প্রচুর শক্তি ক্ষয় হয়। জলে পরিমাণমতো অক্সিজেন থাকলেও এদের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের জন্য অতি অবশ্যই মাঝে মাঝে জলের উপরিতলে উলম্ব ভাবে এসে বাতাস থেকে অক্সিজেন নিতে হবে। এদের এই ধরনের বৈশিষ্ট্যের কথা মাথায় রেখে লালন ট্যাঙ্কের জলের উচ্চতা বেশি রাখা চলবে না। জলের উচ্চতা খুব বেশি হলে এই ছোট ছোট বাচ্চারা জলের উপরিভাগে আসার দূরত্ব অতিক্রম করতে প্রচুর শক্তি নষ্ট করবে বা যদি এরা বায়ু থেকে অক্সিজেন (যেটা এদের বাধ্যতামূলক করতে হবে) এই ভাবে নিতে না পারে তবে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই সব চিন্তাভাবনা করে লালন ট্যাঙ্কে প্রথমে জলের গভীরতা ৪ – ৫ ইঞ্চি হওয়া এবং ফ্রাইগুলোর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলের গভীরতা ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে। তবে জলের গভীরতা যেন কোনও সময় ৮ ইঞ্চির উপর না হয়। এই লালন ট্যাঙ্কে ফ্রাইকে আরও ১২ – ১৫ দিন রাখা হয়। এই সময়ের মধ্যে এরা ৩ – ৪ সেন্টিমিটার হয়ে যায় এবং ওজনে ১ – ১.৫ গ্রাম হয়।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট