"শিক্ষার উন্নয়নের জন্য নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ"
কাজী মোঃ আবদুল হান্নান,
অধ্যক্ষ- বখতিয়ার পাড়া চারপীর আউলিয়া আলিম মাদ্রাসা, আনোয়ারা, চট্রগ্রাম, মোবাইল-০১৮১৯৩৩০৫৪৯ সঠিক নেতৃত্ব ছাড়া কখনো কোন কাজ সুপরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম সুসম্পন্ন করা যায়না।
চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলার বখতিয়ার পাড়া চারপীর আউলিয়া আলিম মাদ্রাসায় ২০১১ ইং সালে আমি অধ্যক্ষ পদে যোগদান করি। যোগদানের পর মাদ্রাসাকে নিয়ে একটি পাঁচসালা পরিকল্পনা গ্রহণ করি। যা ক্রমানুসারে গভর্নিং বডি ও শিক্ষকদের নিয়ে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করি। নিম্নের কাজগুলো করে সাধারণ একটি মাদরাসারকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মাদরাসা করতে পেরেছি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী----- **
প্রথমেই ৫টি শুন্যে পদে শিক্ষক নিয়োগ দেই কারণ শিক্ষকরাই প্রতিষ্ঠানের প্রাণশক্তি।
ট্রেনিং - সকল শিক্ষকদের সরকারি বিভিন্ন ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করি। ট্রেনিং থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানকে ইন-হাউজ ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে সকল শিক্ষকদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে চেষ্টা করি, আলহামদুলিল্লাহ আমাদের মাদরাসার সকল শিক্ষকই কম্পিউটার ট্রেনিং প্রাপ্ত।
শিক্ষার্থী - ২০১১ সালে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ছিল ৩৫৫ জন। আলহামদুলিল্লাহ ২০২০ সালে ছাত্র-ছাত্রী ৮৯০ জন।
অভিভাবক - প্রতি বছর ৫-৬ টি অভিভাবক ও মা সমাবেশ করে তাদেরকে পড়ালেখা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করে, তাদেরকে আরো আগ্রহী ও অনুপ্রানিত করি।
সুধী সমাবেশ - প্রতিষ্ঠান পড়ালেখা উন্নয়নের লক্ষে মতবিনিময় করে, প্রাপ্ত জ্ঞানকে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করি। সিসিটিভি - প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে এবং ওয়াই-ফাই যুক্ত করে যেকোনো জায়গা থেকে ক্লাস পর্যবেক্ষণ করা যায়, যার ফলে শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয় সতর্কত থাকেন।
** ই-হাজিরা- শিক্ষার্থীদের এবং শিক্ষকগণের আগমন- প্রস্থানের রেকর্ডের জন্য ই হাজিরা মেশিন (ফিঙ্গার প্রিন্ট) স্থাপন করে আসা- যাওয়ার নির্ধারিত সময় রেকর্ড করা হয়।
** মাল্টিমিডিয়া রুটিন অনুযায়ী শিক্ষকগণ মাল্টিমিডিয়া ক্লাস করে এমএমসি তে নিয়মিত আপলোড করেন ।
** ওয়াইফাই- মাদ্রাসায় ওয়াইফাই সংযুক্ত আছে তাই শিক্ষকগণ ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে অনলাইনের যাবতীয় কাজ করতে পারেন।
** শিক্ষক বাতায়ন- আমাদের মাদরাসার সকল শিক্ষক বাতায়নের প্রোফাইল ১০০% আপডেট আছে।
** অধ্যক্ষ হিসেবে আমি উপজেলা পর্যায়ে ২০১৬,২০১৭ ২০১৯ সালে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি।
** অত্র মাদরাসার জনাব মুহাম্মাদ আরিফ উদ্দিন জেলা এম্বাসেডর ও মাষ্টার ট্রেইনার এবং উপজেলা শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক স্বীকৃত।
** ৫ম,৮ম,দাখিল ও আলিম কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় শতভাগ পাসের রেকর্ড।
** সাফলতা- জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপজেলা পর্যায়ে ২০১৫, ২০১৬,২০১৭,২০১৮ সালে এবং ২০১৯ সালে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মাদরাসা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
** আর্থিক - আর্থিক সচ্ছলতার জন্য শিক্ষক ও গভর্নিং বডির সদস্যদের নিয়ে নিরীক্ষা ও ক্রয় কমিটি গঠন করে আর্থিক সচ্ছলতা রাখা হয়।
** অবকাঠামো - দিনদিন শিক্ষার্থী বেড়ে যাওয়ায় জনগণের আর্থিক সাহায্য ও মাদরাসার ফান্ড দ্বারা চারতলা নতুন একটি বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়।
আমি নিম্নোক্ত কথাগুলো মনেপ্রাণে মানি এবং অনুসরণ করি।
* শিক্ষা উন্নয়ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়।
* শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্য উন্নয়ন হয়।
* সহকর্মীদের কার্য সমম্বয় হয়।
* শিক্ষা প্রশাসনিক কার্য জবাবদিহিতা আনা যায়।
* দায়িত্ব সচেতনতা জাগ্রত করা যায়।
* নিয়মানুবর্তিতার অনুশীলন হয়।
* অনিয়ম ও অনৈতিকতা প্রতিরোধ করা যায়।
* শিক্ষার উন্নয়নে সম্মিলিত স্বতঃস্ফূর্ত প্রচেষ্টা প্রয়োগ হয়।
* সাংগঠনিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি পায়।
* সময়মতো সকল কার্য সম্পাদন হয়।
* পরিচ্ছন্ন চেতনা ও ন্যায় নীতির প্রতিষ্ঠা হয়।
* ক্ষমতা ও কর্তত্বের মাঝে গণতন্ত্র চর্চা হয়।
* সর্বোপরি জাতীয় শিক্ষানীতি ও পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হয়।