সহকারী শিক্ষক
২৩ আগস্ট, ২০২০ ০৯:২৭ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ সপ্তম
বিষয়ঃ ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ দ্বিতীয় অধ্যায়
রমাযানের ২৯ বা ৩০ তারিখের সন্ধ্যায় পশ্চিমাকাশে যখন শাওয়ালের এক ফালি সরু বা বাঁকা চাঁদ ওঠে তখন সারা পৃথিবীর সব মুসলিমের মনে এক অনাবিল খুশির বান ডাকে। পরিশ্রমের জন্য পারিশ্রমিক আর কষ্টের জন্য রয়েছে আনন্দ। দীর্ঘ এক মাস রোযা কষ্টের সাথে পালনের পরই আসে পুরস্কারের আনন্দ। রোযা, তারাবীহ ও কদরে মুসলিমদের ক্ষমা করা হয়। তাই ঈদে এ তিনটি ক্ষমাই একসাথে পাওয়া যায়।
নবীজির (সা) মক্কায় থাকাবস্থায় ঈদের অস্তিত্ব ছিল না। মদীনায় হিজরত করার পর নবীজি ও সাহাবীরা দেখেন মদীনার মুশরিকরা বছরে দু’দিন ইচ্ছামত রং-তামাশা, গান বাজনা ও লাগামহীন উচ্ছৃঙ্খলতায় কাটায়। এসব দেখে বাপ দাদার ভিটেমাটি ত্যাগ করে আসা মুহাজিরদের মনটা কেমন করে উঠে। তখন আল্লাহ তা‘আলা বছরে দু’টি ঈদের ব্যবস্থা করে দেন। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। এ ব্যাপারে আনাস (রা) এর বর্ণনাও রয়েছে। (নাসায়ী, আবু দাউদ, মিশকাত-১২৬)
আরবী আওদ হতে ঈদ এসেছে। অর্থ বার বার আসা। ঈদ বছরে দু’বার ফিরে আসে এজন্য ইসলামী শরীয়ায় ঈদ বলা হয়। (মুফরাদাতু গরাবিল কুরআন-৩৫৮)
আরেকটি অর্থ হলো অভ্যাস। মহান আল্লাহ প্রতিবছর ঈদের মাধ্যমে বান্দাকে তাঁর দয়া, এহসান ও করুণা ভোগে অভ্যস্ত করে তুলেন। এটা আল্লাহর পক্ষ হতে আতিথেয়তা।
ফিতর অর্থ ভাঙ্গা। রোযা ভাঙ্গা। ঈদের দিন প্রথম কাজ হলো রোযা ভাঙ্গা। নবীজি মিষ্টি খেজুর দ্বারা ঈদের সূচনা করতেন। আবার ফিতর ফিতরাত হতে এসেছে। এর অর্থ স্বভাব-প্রকৃতি। স্বভাব-প্রকৃতি সম্মত ঈদ। একমাস কষ্ট করার পর সুখের প্রয়োজন। ঈদুল ফিতর সে সুখ দেয়।
হিন্দুরা দুর্গাপূজা, বৌদ্ধরা বৌদ্ধ পূর্ণিমা, গ্রীক ও রোমানরা বাকুস এবং খৃস্টানরা বড়দিন বা ক্রিস্টমাস ডে পালন করে। এছাড়া ইংরেজি নববর্ষও উৎসব হিসেবে পালন করে। এ জাতিগুলোর এসব উৎসব পালনে অপচয়, অশালীনতা, নগ্নতা ও বেহায়াপনার সয়লাব বয়ে যায়।
অন্যদিকে মুসলিমদের ঈদ ইবাদাত। নামাযের মাধ্যমে ঈদ আরম্ভ হয়। এরপর আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পাড়া প্রতিবেশীর সাথে ভাব বিনিময় হয়। গরিবদের খাবার দেয়া হয়। গরিব ধনী নির্বিশেষে সবাই এ আনন্দ ভাগ করে নেয়। এদিন স্বর্গীয় আনন্দ বিরাজ করে। এ আনন্দ মার্জিত ও যুক্তিসঙ্গত।
ঈদের দিনে সর্বপ্রথম আল্লাহর শুকরিয়া ও নবীজির ওপর দুরূদ পাঠ করা উচিত। তারপর সারাদিন তাকবীর পাঠ করতে হবে। ঈদের দিন গোসল করতে হবে। নতুন জামা বা পুরাতন জামা পরিষ্কার করে পরতে হবে। খুশবু ব্যবহার করতে হবে। সম্ভব হলে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যেতে হবে।
ঈদুল ফিতরের দিন বেজোড় খেজুর খেয়ে বের হতে হবে। আর ঈদুল আযহার দিন নামায শেষে খেতে হবে। এক রাস্তা দিয়ে যেতে হবে আর এক রাস্তা দিয়ে আসতে হবে। যাওয়ার সময় তাকবীর বলতে হবে। (বুখারী, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, নাসায়ী, যাদুল মাআদ, ইবনে খুযাইমা, মিশকাত, ফাতহুল উম্ম, ফাতহুল আল্লাম, বুলগুল মারাম, তালখিসুল হাবীর)। ঈদের দিনে সালাম ও মোসাফাহা করা যাবে। তবে যাদের সাথে অনেক দিন পরে দেখা হয়েছে তাদের কোলাকোলি করা যেতে পারে। ঈদের দিনে, আগে বা পরে নাটক, ফিল্ম, অশ্লীল গান-বাজনা ইত্যাদি পরিত্যাগ করা উচিত।