সহকারী প্রধান শিক্ষক
২৫ আগস্ট, ২০২০ ০১:৪১ পূর্বাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
আমি মোঃ রওশন জামিল, সহকারী প্রধান শিক্ষক, রঘুনাথপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নবাবগন্জ, দিনাজপুর। অত্র বিদ্যালয়ে আমি ২০০১ সালে নিয়োগ প্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক (কৃষি) হিসেবে। পরবর্তীতে ২০১২ ইং সালে পুনঃরায় সহকারী শিক্ষক পদে একই বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হই।
বিদ্যালয়টি প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় এবং অধিকাংশ অভিভাবক নিম্ন আয়ের ও সচেতনতার অভাবে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম (শিশুশ্রম, শেষ করে উপজাতী শিক্ষার্থীদের) এই দুই কারণে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ছিল ব্যাপক। আমাদের প্রধান শিক্ষক মহোদয় বিদ্যালয়ের সব বিষয়ে আন্তরিক। তিনি প্রায়ই আমার এবং সহকর্মীদের সাথে এই সমস্যাগুলো নিয়ে পরমর্শ করতেন। পরবর্তীতে স্যারের হৃদরোগের কারনে বাইপাস সার্জারী করতে হয়, সেই সাথে ডায়াবেটিস রোগসহ অন্যান্য রোগে স্যার শারিরিক ও মানসিক ভাবে বিপযর্স্ত থাকায় আমাকেই কাঁধে নিতে হয় বিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয়। স্যার সবসময় পাশে থেকে সুপরামর্শ দিয়েই চলেছেন অদ্যাবধি।
বাল্যবিবাহ রোধে প্রশাসনের পর্যাপ্ত সহযোগীতা থাকলেও প্রথমের দিকে প্রশাসনের সহযোগীতা নিয়ে দেখেছি, গ্রামের কিছু অভিভাবকগণ মেয়েদের বিদ্যালয়ে ভর্তি না করিয়ে বাড়ীতেই রেখেদেন। কারণ, তারা ভাবেন- বিদ্যালয়ে ভর্তি করালে বিবাহ দিতে শিক্ষক+ প্রশাসনের ঝামালা পোহাতে হবে।
তাই পরবর্তীতে হীড বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে 'সিস্টেম মেকার' হিসেবে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটিতে স্থান পাই।
প্রশিক্ষণের প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা নিজ বিদ্যালয়ে প্রয়োগ শুরু করি।
১। বছরে ২/৩ বার 'মা সমাবেশ' করে সচেতনতা বৃদ্ধি করি।
২। বিদ্যালয়ে সব শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্যানিটারী ন্যাপকিন বিতরণ করি।
৩। প্রতি সপ্তাহে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করি।
৪। উপজেলায় প্রথম সকল শিক্ষক মাল্টিমিডিয়া ক্লাস চালু করি।
৫। জে এস সি ও এস এস সি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষকগণ বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে রাত ১০ টা হতে ১২টা পর্যন্ত তদারকির ব্যবস্থা।
৬। শিক্ষর্থীদের মাঝে মৌসুমী ফল বিতরণের ব্যবস্থা।
৭। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ ফি ফ্রি। ( পরীক্ষা ফি, রেজিঃফি, শিক্ষাসফর, ফরম পূরণ ও চিকিৎসা
ফলাফলঃ
★ উপস্থিতির হার বৃদ্ধি।
★ শতভাগ পাস সহ A+ এর সংখ্যা বৃদ্ধি।
★ জে এস সি ও এস,এস,সি তে বৃত্তি।
★ উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের পুরস্কার প্রাপ্তি।
★ বাল্যবিবাহের হার অনেকাংশে কমে গেছে।
আগামীতে আরো ভাল হবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। এভাবেই জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে উঠবে ইন্ শা আল্লাহ্।।