Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০১:৩৭ অপরাহ্ণ

বাংলার রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলন

পৃথিবীর প্রায় ৩০ কোটি লোকের মাতৃভাষা বাংলা। মাতৃভাষার বিবেচনায় সারা বিশ্বে বাংলা ভাষার স্থান চতুর্থ। বিশ্বে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভাষা প্রচলিত আছে। ভাষা মানবজাতির জন্যে আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত, সেরাদান বা কথা বলার ক্ষমতা। এ ক্ষমতাই মানুষকে অন্য সকল প্রাণী থেকে পৃথক ও বৈশিষ্ট্যম-িত করেছে। মহান আল্লাহ এ বিষয়ে বলেন, “দয়াময় আল্লাহ, তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন, তিনিই সৃষ্টি করেছেন মানুষ। তিনিই তাকে শিক্ষা দিয়েছেন ভাব প্রকাশের ক্ষমতা বা কথা বলার ক্ষমতা। (সূরা আর-রাহমান: ১-৪)
ভাষা বর্ণের বৈচিত্র আল্লাহর সৃষ্টির নিদর্শন। আল-কুরআনের ভাষায়- “আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে আকাশম-লী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র। এতে জ্ঞানীদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে” (সূরা রুম-২২)। ভাষা যেহেতু আল্লাহর নিদর্শন; তাই সব ভাষাই আল্লাহর অনুমোদিত ভাষা। কোনো ভাষাই বিচারে শ্রেষ্ঠ বা নিকৃষ্ট নয়। বিভিন্ন ভাষায়ই আল্লাহ নবী পাঠিয়েছেন; মহান আল্লাহ বলেন, “স্বজাতির ভাষা বা মাতৃভাষা ছাড়া আমি কোনো রাসূলই প্রেরণ করিনি” (সূরা ইবরাহীম-৪)। ইসলামের এ মূলনীতির ভিত্তিতে বিশ্বের সকল দেশের মুসলিম  জনগোষ্ঠি তাঁর মাতৃভাষাকে যথাযথ মর্যাদা ও গুরুত্ব দিয়েছে। মাতৃভাষা অন্য সকল জ্ঞানের ন্যায় ইসলামী জ্ঞানেরও চর্চা করেছে এবং মাতৃভাষাকে ইসলামী সাহিত্যকর্মে সমৃদ্ধ করেছে। আরবি ভাষাকে যেহেতু মহান আল্লাহ তাঁর মহান গ্রন্থ আল-কুরআন ও মহান নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছেন এ জন্যে আরবি ভাষাকে বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্ব প্রদান করা বিশ্বের সকল ভাষার সকল মুসলিমের ইমানি দায়িত্ব। আরবির মর্যাদা ও গুরুত্ব প্রদানের পাশাপাশি তারা মাতৃভাষাকে সমৃদ্ধ করেছেন।
বাংলা ভাষায় মুসলমানদের অবদান : আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা বাংলার বিকাশেও মুসলমানদের অবদান ছিল ব্যাপক। বাংলায় মুসলিম আগমনের পূর্বে আর্য ও ব্রাহ্মণ শাসিত ভারতীয় সমাাজে বাংলা ভাষাকে অত্যন্ত ঘৃণার চোখে দেখা হতো। মুসলিম শাসনামলে সুলতানগণ বাংলাভাষা চর্চায় উৎসাহ দেন। তাদের উৎসাহে বাংলা ভাষা চর্চায় ব্যাপকতা লাভ করে এবং রামায়ণ, মহাভারত ইত্যাদি ধর্মগ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করা হয়। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, পরবর্তী কালে হিন্দু প-িতগণ বাংলাকে হিন্দু ধর্মীয় ভাষা, “বাঙালী” মানেই হিন্দু এবং “বাঙালী জাতীয়তা” মানেই হিন্দু জাতীয়তা বলে দাবি করতে থাকেন। যদিও বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ছিলেন মুসলমান, যেমন আমরা দেখি যে, হিন্দু ও মুসলমান ছেলেদের মধ্যকার খেলার কথা বলতে গিয়ে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেন, “বাঙালী ও মুসলমান ছেলে”। এখনো পশ্চিম বঙ্গে মুসলমানদের পরিচয়ে বাঙালী লিখতে আপত্তি করা হয়। তাদের মতে, বাঙালীত্ব মানেই হিন্দুত্ব এবং হিন্দুত্ব মানে আর্য ধর্ম ও ধর্মীয় সংস্কৃতি। হিন্দু প-িতগণের এরূপ উন্নাসিকতার বিপরীতে অনেক বাঙালী মুসলিমের মধ্যেও এ বিষয়ে উদ্ভট মুর্খতা বিদ্যমান। অজ্ঞতা ও সরলতা বশত অনেক সাধারণ বাঙালী মুসলিম ও আলিম বাংলা ভাষায় ইসলাম চর্চা অবহেলা করেছেন। তারা ধারণা করেছেন যে, বাংলা ভাষায় দেবদেবীর নাম আছে বা হিন্দুরা এ ভাষা ব্যবহার করেন। কাজেই ভাষাটি বোধ হয় হিন্দুদেরই ভাষা, অথবা এ ভাষায় বোধ হয় কুরআন, হাদীস, ফিক্হ উসূল ও অন্যান্য ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা উচিত নয় বা সম্ভব নয়। এরূপ চিন্তা একেবারেই অজ্ঞতা বিধায় অত্যন্ত আপত্তিকর। ইসলামের আগমনের পূর্বে আরবি ভাষা ছিল পৌত্তলিক মুশরিকের ভাষা। উর্দু ভাষা ভারতের সংস্কৃত ভাষা থেকে উদ্ভুত ও ভারতীয় হিন্দু-মুসলিম সকলের ব্যবহৃত একটি সমৃদ্ধ ভাষা। এ সকল ভাষার অনুসারীরা নিজেদের ভাষায় ইসলাম চর্চা করেছেন এবং এ সকল ভাষা ইসলামী সভ্যতার অংশ হয়ে গিয়েছে।
ভাষা আন্দোলন :
১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির প্রেক্ষাপটে ইংরেজদের দেওয়া ওয়াদা মোতাবেক ভারতকে “স্বরাজ” প্রদানের রাজনৈতিক ইস্যুটি তৎকালীন ভারতীয় রাজনীতিতে প্রাধান্য পায়। এরই সাথে স্বাধীন ভারতের সাধারণ ভাষা বা “লিংগুয়া ফ্রাঙ্কা” কী হবে তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। মহাত্মা গান্ধী এ বিষয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতামত চান। কবিগুরু লিখিত মতামত প্রদান করেন যে, একমাত্র হিন্দি ভাষাই ভারতের “লিংগুয়া ফ্রাঙ্কা” বা সাধারণ ভাষা বা “রাষ্ট্রভাষা” হতে পারে। দু বছর পরে ১৯২০সালে শান্তি নিকেতনের বিশ্ব ভারতীতে ভারতের “লিংগুয়া ফ্রাঙ্কা” সম্পর্কে আলোচনার জন্যে এক মহা সভার আয়োজন করা হয়। এ মহা সভায় কবিগুরু ইংরেজি অথবা হিন্দিকে “লিংগুয়া ফ্রাঙ্কা” বা রাষ্ট্রভাষার পক্ষে মত প্রকাশ করেন। কিন্তু বরণ্যে ভাষাবিদ ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ভাষা বিষয়ে তথ্যাদির ভিত্তিতে প্রমাণ করেন যে, হিন্দির চেয়ে বাংলা অনেক উন্নত ভাষা এবং বাংলা ভাষাই ভারতের “লিংগুয়া ফ্রাঙ্কা” হওয়ার যোগ্যতা রাখে। প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে এ দিন প্রথম আওয়াজ ওঠে।
বাংলা ভাষার পক্ষে হিন্দিকে অত্যন্ত শক্ত যুক্তি উত্থাপনের পর ও হিন্দিকে স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রভাষাও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবি করা হয়। বস্তুত উর্দু ও হিন্দি একই ভাষার দুটি রূপ বা প্রকাশ মাত্র। উত্তর ও মধ্য ভারতের মুসলিমগণ “উর্দু” রূপ ব্যবহার করেন আর হিন্দুগণ “হিন্দি” রূপ ব্যবহার করেন। উর্দু ভাষা বাংলার মত সংস্কৃতি থেকে জন্মপ্রাপ্ত ভারতীয় ভাষা। তবে বাংলা ভাষা উর্দুর চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ ও উন্নত। ১৯৪৭  সালে তমদ্দুন মজলিস ও অন্যান্য সংগঠন ও ব্যক্তি পূর্বপাকিস্তানের সরকারি ভাষা বাংলা করার জোর দাবি জানান। যা এদেশের মানুষের গণ দাবিতে পরিণত হয়। ১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চ এ দাবির পক্ষে ঢাকায় সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়।
১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পূর্ব পাকিস্তান সফরে আসেন। তিনি ঢাকায় দুটি সভায় তথা ২১ মার্চ রমনায় তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন এবং দু জায়গাতেই বাংলা ভাষার দাবি উপেক্ষা করে একমাত্র উর্দুকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন।  এ সময় সমগ্র পূর্বপাকিস্তানে ভাষা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৫২ সালের শুরু থেকে ভাষা আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। এ সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা রাখার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন এবং বাংলার দাবি একেবারে উপেক্ষা করেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন ১৩৫৯ বঙ্গাব্দ) সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল, জনসভা ও বিক্ষোভ মিছিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকার পাল্টা ১৪৪ ধারা জারি করে। ছাত্ররা ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ গুলি চালায় এবং রফিক উদ্দীন আহমদ, আব্দুল জব্বার, আবুল বরকত, আব্দুস সালামসহ অনেকই নিহত এবং আরো অনেক আহত হন।
অধিকার আদায় ও আন্তর্জাতিক  স্বীকৃতি লাভঃ
আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৫৬ সালে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ভাষা পরের বছর থেকে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটি বাঙালির শহীদ দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২১শে ফ্রেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির দিন ঘোষিত হয়। এ দিন শহীদ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতি রক্তের বিনিময়ে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছিল। বিশ্বের ইতিহাসে তা এক অনন্য সাধারণ ঘটনা। ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে ইউনেস্কোর অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে  “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০০ খ্রিস্টাব্দের একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে এই দিবস আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে। এভাবে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন আন্তর্জাতিক মর্যাদায় ভূষিত হয়। যার ফলে একুশে ফেব্রুয়ারি দিবসটি জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।
অধিকার আদায়ের মৃত্যু শহীদি মৃত্যুঃ
যাদের ত্যাগ কুরবানীর বিনিময়ে আমরা ভাষার স্বাধীনতা পেলাম তাদের জন্যে আমাদের অনেক করণীয় রয়েছে। যারা নিজের সম্পদ, প্রাণ, পরিবার বা বৈধ অধিকার আদায়ের জন্য কথা বলে, দাবি করে বা চেষ্টা করে নিহত হয় তবে তারা শহীদ হন বলে হাদীসে বলা হয়েছে।
ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- “যে ব্যক্তি নিজের অধিকার রক্ষা করতে নিহত হয়, সে শহিদ” (সূনানে নাসাঈ ৭/১১৬)
অন্য হাদীসে সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- “ব্যক্তি নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা বা রক্ষা করতে মৃত্যুবরণ করে, তার মৃত্যু খুবই ভাল মৃত্যু”। (মুসনাদে আহমদ ১/১৮৪)
অতএব এ দেশের মানুষের মাতৃভাষায় সকল কার্য সম্পাদন করার জন্মগত ও ইসলাম নির্দেশিত অধিকার রক্ষার জন্য কথা বলে যারা নিহত হয়েছেন তাদের মৃত্যু শহিদি মৃত্যু বলে এ সকল হাদীসের আলোকে প্রতীয়মান হয়। এ সকল শহিদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব হলো প্রথমত, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। দ্বিতীয়ত, তাদের আখেরাতের কল্যাণের উদ্দেশ্যে সাদকায়ে জারিয়া হিসেবে তাদের স্মৃতিতে মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান তৈরি করা। তৃতীয়ত, আমাদের প্রিয় মাতৃভাষাকে সমৃদ্ধ করে আন্তর্জাতিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করা।
সকল ভাষা জ্ঞান জরুরীঃ
মাতৃভাষার পাশাপাশি যে ভাষাটি শিক্ষা করা আমাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় তা হলো আরবি ভাষা। আরবি আমাদের প্রতিটি মুসলিমের হৃদয়ের ভাষা, ঈমানের ভাষা ও দ্বীনের ভাষা। অনুরূপ ইংরেজি, উর্দু, ফার্সি, তুর্কি, মালয় ও সোহেলী ভাষাসহ অন্যান্য ভাষা ও শিক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। প্রসিদ্ধ সাহাবী যাইদ ইবনু সাবিত আনসারী (রা:) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মদীনায় হিজরত করে আসলেন তখন আমি ১১/১২ বৎসরের তরুণ। ইতোমধ্যে আমি কুরআনের অনেকগুলি সূরা মুখস্থ করেছি। রাসূলুল্লাহ (সা.) সূরাগুলি শুনে আনন্দিত হন। আমার মেধা দেখে তিনি বলেন, সাইদ তুমি ইহুদীদের ভাষা, হিব্রু ভাষা ও সিরীয় ভাষা শিক্ষা কর। তারা কী লিখে ও বলে সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত হতে চাই। তখন আমি মাত্র ১৫ বা ১৭ দিনের মধ্যে তাদের ভাষা শিক্ষা করি। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) ইহুদীদেরকে কিছু লিখতে চাইলে আমি তা লিখে দিতাম এবং ইহুদী-খৃষ্টানগণ কিছু লিখলে আমি তা তাকে পড়ে শুনাতাম। (বুখারী ৬/২৬৩১)
আমাদের করণীয়ঃ
বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। এ ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা আমাদের কতর্ব্য। এ ভাষাকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। মাতৃভাষাকে উপেক্ষা করে কোনো জাতি উন্নতি লাভ করতে পারে না। বাংলা ভাষা মূলত মুসলমানদের হাতেই লালিত ও সমৃদ্ধ হয়েছে। বাঙালী মুসলমানদের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অপরিহার্য অংশ হলো বাংলা ভাষা। ডক্টর দীনেশ চন্দ্র সেনও বাংলা ভাষার নব জন্মের জন্য মুসলিম শাসনামলের প্রশংসা করেছেন। তার মতে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে বাংলা ভাষা হয়তো তার অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলতো। যা হোক অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আমাদের মাতৃভাষা আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। এটা আমাদের জন্য সত্যিই গৌরবজনক। তবে যদি আমরা বাংলা ভাষার হিসেব কষি তাহলে দেখা যায় যে, বাংলা ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ, শুদ্ধ বানান ও পাবলিক পরীক্ষাসমূহে ভালো গ্রেডের পরিমাণ প্রত্যাশ্যার অনেক নিচে অবস্থান করছে। যা নিতান্তই দুঃখজনক। অতএব মাতৃভাষার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন, এর শুদ্ধ চর্চা, বিকাশ ও সমৃদ্ধির মাধ্যমে আমাদের এ গৌরবময় অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের তাওফিক দান করুন।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট