সহকারী শিক্ষক
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০১:১৯ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ প্রথম অধ্যায়
আধুনিক জীবনযাপনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুুক্তি মানুষের জীবনকে করেছে উন্নত, জীবনযাত্রাকে করছে সহজ। তথ্যপ্রযুক্তি মূলত একটি সমন্বিত মাধ্যম, যা অডিও, ভিডিও, টেলিযোগাযোগ, কম্পিউটিং, সম্প্রচারসহ আরো বহুবিধ প্রযুক্তির সম্মিলনে দীর্ঘদিন ধরে চর্চার ফলে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধি লাভ করছে। তথ্যপ্রযুক্তির বিপুল বিকাশের ফলে সমাজের বিভিন্ন স্তরে নানা ধরনের পরিবর্তন সূচিত হচ্ছে। এর ফলে অসংখ্য নতুন নতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষা, চিকিৎসা, গবেষণা, যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনোদনসহ নানা ধরনের সেবা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ফোনের ব্যাপক প্রসারের ফলে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সঙ্গে সারা বিশ্বের যোগাযোগ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ইন্টারনেট, ইমেইলের মাধ্যমে সারা পৃথিবীর মানুষ আজ একে অন্যের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করতে পারছে। ইন্টারনেটের বিকাশের ফলে বর্তমানে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জনগণ ঘরে বসে অন্য দেশের কাজ করে আত্মকর্মসংস্থানে সক্ষম হচ্ছে। বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান থেকে শুরু করে ফরম ফিলআপ, ফলাফল প্রকাশ ইত্যাদি নানা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে চাকরিদাতা ও প্রার্থী অনলাইনে খুব সহজে যোগাযোগ করতে পারছে। অনলাইনের মাধ্যমে পণ্যের প্রচার এবং বিক্রিও এখন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি কর্মকাণ্ডে তথ্যপ্রযুক্তি সবচেয়ে উদ্ভাবনী ও কুশলী প্রয়োগ হলো জনগণের কাছে নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়া। মোবাইল ফোন, রেডিও, টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে নাগরিকসেবাগুলো সরাসরি নাগরিকদের দোরগোড়ায় এবং তার হাতের মুঠোয় পৌঁছে দেওয়া যায়। চিকিৎসা ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে রোগীর রোগ নির্ণয় করা সহজ হয়েছে। টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা এখন আরো সময় সাশ্রয়ী ও সহজতর হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির কারণে গবেষণাজগতে সম্পূর্ণ নতুন একটি মাত্রা যোগ হয়েছে। মানুষ এখন সাহিত্য, শিল্প, গণিত, প্রযুক্তি আর বিজ্ঞান, যা নিয়েই গবেষণা করুক না কেন, তারা কম্পিউটার এবং তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য ছাড়া সেই গবেষণার কথা চিন্তা করতে পারে না।
উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করতে, মানবজাতির কল্যাণে এবং উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম এবং প্রতিনিয়ত তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২। কর্মসৃজন ও কর্মপ্রাপ্তিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর : আধুনিক জীবনযাপনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুুক্তি মানুষের জীবনকে করেছে উন্নত, জীবনযাত্রাকে করছে সহজ। তথ্যপ্রযুক্তির বিপুল বিকাশের ফলে সমাজের বিভিন্ন স্তরে নানা ধরনের পরিবর্তন সূচিত হচ্ছে। এর ফলে অসংখ্য নতুন নতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ফোনের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে নতুন কর্মসৃজন হয়েছে- দেশের সব মোবাইল অপারেটর কম্পানিতে বিপুলসংখ্যক কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে। দেশের প্রায় সাড়ে ১০ কোটি মোবাইল গ্রাহককে মোবাইল ফোনসেট সরবরাহ, সেগুলোর বিপণন, বিক্রয় এবং পরবর্তী সময়ে বিক্রয়োত্তর সেবার জন্য বিপুলসংখ্যক কর্মীর চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। মোবাইল ফোনে বিল পরিশোধের জন্য দেশে প্রায় ৩০ সহস্রাধিক বিল পরিশোধ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এসব কেন্দ্রে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। রেডিও, টেলিভিশন, কম্পিউটার এবং নানা মিডিয়াতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শুধু কর্মসৃজনই নয়, কর্মপ্রত্যাশীদের কাজের সুযোগ প্রাপ্তিতেও তথ্যপ্রযুক্তির বড় ভূমিকা রয়েছে। আইসিটি ও ইন্টারনেটের বিকাশের ফলে বর্তমানে 'জবসাইট' নামে নতুন এক ধরনের সেবা চালু হয়েছে। এসব জবসাইটে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সরাসরি তাদের বিজ্ঞপ্তি প্রচার করতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট কিংবা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ সাইটেও বিনা মূল্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারে। ফলে কর্মপ্রত্যাশীরা সে সম্পর্কে অবগত হয়ে অনলাইনেই আবেদন করতে পারেন। এ ছাড়া এরূপ কোনো কোনো সাইটে কর্মপ্রত্যাশীরা নিজেদের নিবন্ধিত করে রাখতে পারেন। সে ক্ষেত্রে যেকোনো নতুন কাজের খবর প্রকাশিত হওয়া মাত্রই নিবন্ধিত ব্যক্তি ইমেইলে বা এসএমএসে এ সম্পর্কে অবহিত হতে পারেন। ইন্টারনেটের বিকাশের ফলে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জনগণ ঘরে বসেই 'আউটসোর্সিং'-এর মাধ্যমে অন্য দেশের কাজ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে। বিভিন্ন দেশের নানা প্রতিষ্ঠান তাদের নিজেদের অনেক কাজ যেমন- ওয়েবসাইট উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, মাসিক বেতন-ভাতার বিল প্রস্তুতকরণ, গ্রাফিঙ্ ডিজাইন ইত্যাদি অন্য দেশের কর্মীর মাধ্যমে সম্পন্ন করে থাকে।
তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের ফলে কিছু কিছু সনাতনী কাজ বিলুপ্ত হয়েছে বটে, তবে অসংখ্য নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তার পাশাপাশি প্রযুক্তির প্রসারের ফলে নতুন নতুন অনেক কর্মপ্রাপ্তির সুযোগ তৈরি এবং সহজলভ্য হয়েছে।