সিনিয়র শিক্ষক
১৬ অক্টোবর, ২০২০ ১০:৩০ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ প্রথম অধ্যায়
চার্লস ব্যাবেজ (1791-1871):
আধুনিক কম্পিউটারের বিকাশ ঘটে বা প্রচলন শুরু হয় চার্লস ব্যাবেজের হাত ধরে । তিনি ছিলেন একজন প্রকৌশলী ও গণিতবিদ । অনেকে তাকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলে থাকেন । তিনি গণনার জন্য দুটি ইজ্ঞিন তৈরি করেন ।একটি হল ডিফারেনস ইজ্ঞিন ও অন্যটি হল এনালিটিক্যাল ইজ্ঞিন ।লন্ডনের একটি বিজ্ঞান জাদুঘরে চার্লস ব্যাবেজের বর্ননা অনুসারে একটি ইজ্ঞিন তৈরি করা হয় এবং গবেষনায় দেখা যায় মেশিনটি সঠিকভাবে কাজ করছে । এই থেকে শুরু হয় মেশিন গুলো আরও উন্নত করার ।
অ্যাডা লাভলেস (1815-1852):
কিভাবে গণনার কাজটি আরও কার্যকর এবং গতিশীল করা যায় তা নিয়ে ভাবেন অ্যাডা লাভলেস । তিনি ছিলেন কবি লর্ড বায়নের কন্যা ।১৮৩৩ সালে চার্লস ব্যাবেজের সঙ্গে তার পরিচয় হয় । চার্লস ব্যাবেজের এ্যানালিটিক্যাল ইজ্ঞিনকে কাজে লাগানোর জন্য প্রোগ্রামিং ধারনাকে সামনে নিয়ে আসেন । এজন্য অ্যাডা লাভলেসকে প্রোগ্রামিং ধারণার প্রবর্তক হিসেবে সন্মানিত করা হয় । অ্যাডার মৃত্যুর ১০০ বছর পর তার গবেষনা পত্রটি ১৯৫৩ সালে আবারও প্রকাশিত হয় । যার ফলে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন অ্যাডা লাভলেস অ্যালগরিদম প্রোগ্রামিংয়ের ধারনাটাই আসলে প্রকাশ করেছিলেন ।
জেমস ক্লার্ক ম্যাক্যওয়েল(1831-1879):
ব্যাবেজ আর অ্যাডার এই কার্যক্রম পাশাপাশি সে সময় পদার্থ বিজ্ঞানের অগ্রগতি সাধিত হতে থাকে । তেমনই একজন বিজ্ঞানি ছিলেন জেমস ক্লার্ক ম্যাক্যওয়েল । তিনি আবিস্কার করেন তড়িৎ ও চৌম্বক শক্তি বা বলকে একত্র করে তড়িৎ চৌম্বকীয় বলের ধারনা । যা বিনা তারে বার্তা বা তথ্য আদান প্রদানের একটি সম্ভাবনাকে প্রকাশ করে ।
জগদীশ চন্দ্র বসু(1858-1937):
জগদীশ চন্দ্র বসুকে চিনেন না এমন শিক্ষার্থী খুব কমই আছেন । তিনি ছিলেন একজন বাঙালি বিজ্ঞানী । বিনা তারে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তথ্য বা বার্তা আদান প্রদানে সফল বিজ্ঞানী ছিলেন তিনি । ১৮৯৫ সালে প্রথম অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ ব্যবহার করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তথ্য প্রেরন করেন ।
তবে বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে একই কাজে সফল হন ইতালির বিজ্ঞানী গুগলেয়েলমো মার্কনি । এজন্য তাকে বেতার যন্ত্রের আবিস্কারক হিসাবে স্বাীকৃতি দেওয়া হয় ।
রেমন্ড স্যামুয়েল টমলিনসন:
বিশ শতকের ইলেকট্রোনিক্যের বিকাশের পর প্রথমে আইবিএম কোম্পানি মেইনফ্রেম কম্পিউটার তেরি করে । ১৯৭১ সালে মাইক্রোপ্রসেসর তৈরি হলে সাশ্রয়ী কম্পিউটার তৈরির পথ সুগম হয় ।
বিশ শতকের ষাট সত্তরের দশকে প্রথম ইন্টারনেট প্রটোকল(Internet Protocol) আবিস্কার হয় । যা আরপানেট (Arpanet) নামে পরিচিত । আর এই বিশেষ উদ্ভবের ফলে তৈরি হয় ইন্টারনেট। তখন থেকে শুরু হয় কম্পিউটার সমূহের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করে তথ্য আদান। ১৯৭১ সালে আরপানেট ব্যবহার করে প্রথম ইলেকট্রোনিক মেইল বা পত্রালাপের সূচনা করেন আমেরিকার প্রোগ্রামার রেমন্ড স্যামুয়েল টমলিনসন । তিনিই প্রথম ই-মেইল প্রযুক্তির আবিস্কারক ।
স্টিভ জবস(১৯৫৫-২০১১):
মাইক্রোপ্রসেসরের আবিস্কারের পর এই ডিভাইসকে ব্যবহার করে পারসোনাল কম্পিউটার তৈরির ধারনা শুুরু হয় । স্টিভ জবস ও তার দুই বন্ধু মিলে স্টিভ জজনিয়াক ও রোনাল্ড ওয়েনে ১৯৭৬ সালে ১লা এপ্রিল অ্যাপল নামক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন । আর এই বর্তমান বিশ্বে এখনো সুনামের সাথে কম্পিউটারের বিভিন্ন বিষয় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে apple ।
উইলিয়াম হেনরি ”বিল” গেটস::::::::::::---------
বিলগেটসের জন্ম ১৯৫৫ সালে । ১৯৮১ সালে আইবিএম কোম্পানি তাদের তৈরি করা পার্সোনাল কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করার জন্য তৃতীয় উইলিয়াম হেনরি বিল গেটস ও তার বন্ধুদের প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের দায়িত্ব দেন । সেই প্রতিষ্ঠান থেকে তৈরি হতে থাকে ডস ও উইনডোস অপারেটিং সিস্টেম । যা আজ বিশ্বের অধিকাংশ কম্পিউটার পরিচালিত হয় মাইক্রোসফটের এই অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে । মাইক্রোসফট এখন বিশ্বের প্রথম সারির সফটওয়্যার ফার্ম । যেখানে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ সহ নানা বিষয়ের সফটওয়্যার তৈরি হয়ে থাকে ।
স্যার টিমোথি জন ”টিম” বার্নাস-লি:::::::::::-------
১৯৮৯ সালে একজন ব্রিটিশ কম্পিউটার বিজ্ঞানী প্রথমে হাইপারটেক্যট ট্রান্সফার প্রটোকল (http) ব্যবহার করে তথ্য ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব করেন এবং তা বাস্তবায়ন করেন । সেই থেকে স্যার ওয়াল্ড ওয়াইড ওয়েবের (www)জনক বলে পরিচিত । এই ইন্টারনেট প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা । যার মাধ্যমে বিস্তৃত হচ্ছে অর্থনৈতিক বাজার ।
মার্ক জাকারবার্গ:::::::::-------
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে অবদান রাখা ব্যক্তিদের নিয়ে আজ আমরা আলোচনা করছিলাম । আমরা অালোচনার শেষ প্রান্তে । যাকে দিয়ে শেষ করব তাকে ছোট বড় থেকে হয়ত অনেকে চিনবেন। তিনি হলেন মার্ক জাকারবার্গ । তার জন্ম ১৪মে ১৯৮৪ সালে । তিনি ছিলেন হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র । তিনি আর কেউ নন ফেইসবুক প্রতিষ্ঠাতা অর্থ্যাৎ সবচেয়ে বড় সোস্যাল নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা জাকারবার্গ । চার বন্ধু মিলে হাতে খড়ি হয়েছিল ফেইসবুকের । প্রথমে তাদের ক্যাম্পাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে তা বিশ্বের জন্য ব্যবহার উপযোগী করা হয় । যা আজ বিশ্বের মাসিক সক্রিয়তার হিসেবে ফেসবুক ব্যবহারকারী সংখ্যা ১৮৬ কোটি পেরিয়েছে।
উপরিক্ত যেসকল ব্যক্তিদের নিয়ে আমরা আলোচনা করলাম তাদের ভুমিকা আজ আধুন্কি যুগে অতুলনীয় । তথ্য প্রযুক্তি যতদিন পৃথিবীতে টিকে থাকবে প্রযুক্তি প্রেমীরা তাদের ততদিন শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করবে ।