টনসিল সমস্যায় হোমিও চিকিৎসা
টনসিল আক্রান্তের কারণ ও
লক্ষণসমূহ,,
টনসিল প্রদাহের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
টনসিল হচ্ছে দুটি লিম্ফনোড, যা মুখের পিছনে এবং গলার উপর দিকে অবস্থিত। এর কাজ হল রোগ প্রতিরোধ করা। এরা ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণুকে বের করে দিয়ে দেহকে সংক্রমণের হাত থেকে প্রতিরোধ করে। কিন্তু ব্যাকটেরিয়া (স্ট্রেপটোকক্কাস) অথবা ভাইরাসের কারণে টনসিল আক্রান্ত হতে পারে।
টনসিল আক্রান্তের কারণসমূহ
জনাকীর্ণ স্থানে বসবাস, কাজ, এবং অবস্থান করলে,,
ধূমপান,,
ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী অসুখ থাকলে,,
লক্ষণসমূহঃ-
গিলতে কষ্ট হয়, কানে ব্যথা, জ্বর এবং ঠাণ্ডা অনুভূত হওয়া, মাথা ব্যথা, গলায় ক্ষত, চোয়াল এবং গলায় স্পর্শকাতরতা, গলার দুই পাশের গ্রন্থি বা লিম্ফনোড বড় হয়ে যাওয়া, গলায় সাদা বা হলুদ দাগ থাকতে পারে, শিশুদের মধ্যে ক্ষুধামন্দা থাকা দেখা দিতে পারে,
নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা, টনসিল খুব বড় হলে খাবার খেতে বা পান করতে সমস্যা হতে পারে।
টনসিল প্রদাহের জটিলতা
দীর্ঘস্থায়ী টনসিল প্রদাহ,
দীর্ঘস্থায়ী উপরের শ্বাসনালী বাধা ঘুমের মধ্যে শ্বাস কষ্ট বা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে
নিদ্রাহীনতা বা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে
খেতে বা গিলতে সমস্যা
কথা বার্তায় অস্বাভাবিকতা
কানের প্রদাহ
হার্টের কপাটিকার রোগ
ফোঁড়া
ব্যাকটেরিয়াল এন্ডোকার্ডাইটিস। এ ছাড়াও স্কারলেট জ্বর, বাতজ্বর এবং হৃদরোগও হতে পারে।
টনসিল প্রদাহ নির্ণয়
গলা কালচার করলে সংক্রমণকারী জীবাণু সম্পর্কে জানা যেতে পারে।
CBC-তে সাধারণত শ্বেত রক্তকণিকা বাড়া প্রকাশ পায়।
বায়োপসি করে ফোড়া থেকে সেলুলিটিস পার্থক্য করা যায়।
টনসিল প্রদাহের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
হোমিওপ্যাথি সবচেয়ে জনপ্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থা। সম্পূর্ণ লক্ষণ সংগ্রহের মাধ্যমে, স্বতন্ত্র ওষুধ নির্বাচন করে অবশ্যই টনসিল প্রদাহ আরোগ্য করা সম্ভব। সঠিক চিকিৎসার জন্য রোগীর অবশ্যই একজন যোগ্য ও দক্ষ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। টনসিল প্রদাহ আরোগ্য করে এমন কিছু সহায়ক হোমিওপ্যাথিক ওষুধের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিম্নে দেওয়া হল—
Baryta Carb- প্রত্যেকবার ঠাণ্ডার পর টনসিল প্রদাহ হলে, খাবার গিলতে গেলে গলায় অস্বস্তি অনুভব হলে, গলায় প্লাগের মতো বেদনা অনুভূত হলে।
Belladonna- টনসিল প্রদাহ, অংশবিশেষ উজ্জ্বল লাল থাকে। গিলার সময় মনে হয় গলা খুবই সরু হয়ে গেছে। রক্ত সঞ্চয়ের লক্ষণ। তরল খাবার খেতেই বেশি খারাপ অবস্থা হয়। ডান টনসিল সবচেয়ে বেশী আক্রান্ত হলে।
Alumen- টনসিল প্রদাহ হওয়ার প্রবণতা,গলায় শ্লেষ্মা জমা; কথা বলা এবং তরল খাবার গ্রহণের সময় গলায় ক্ষত অনুভবএবং শুষ্ক হয়; গলার উভয় পাশে খুবই শুষ্কতা অনুভব করে।
Hepar Sulph- ; গলায় মাছের কাঁটা থাকার মতো অনুভূতি; গলা সেলাইয়ের মতো অনুভূতি, যা কান পর্যন্ত বিস্তৃত।
Calcaria Phos- মধ্য কর্ণের প্রদাহসহ দীর্ঘস্থায়ী টনসিল প্রদাহ; গলা ব্যথা কিছু গিলিবার সময় অনেক বৃদ্ধি পায়।
Calcaria Carb- ভাল্ব বড় হয় এবং টনসিল প্রদাহ হয়; গিলার সময় মনে হয় গলা সংকুচিত হয়েছে। ব্যথা গলা থেকে কান পর্যন্ত বিস্তৃত।
Baryta Iod- টনসিল বড় হয়; দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্ধন এবং টনসিলের কঠিনীভাব তৈরি হয়; লিম্ফনোড বা লসিকানালী গ্রন্থি ফোলা, এটা প্রায়ই পুঁজ তৈরিতে বাঁধা
দেয়।
Apis Mel- গিলিবার সময় কাঁটাবিধারমতো ব্যথা, জ্বালা; মুখ এবং গলায় শুষ্কতা; লাল এবং টনসিলে অনেক প্রদাহ; তাপ বা গরম পানীয়ে বাড়ে, ঠাণ্ডা বা ঠাণ্ডা পানীয়ে ভাল অনুভব করে।
Silicea- গভীর ক্ষত, এমনকি পচা ঘা বা গ্যাংগ্রিন হয়; টনসিল ফুলে গলাধকরণে বাঁধা তৈরি করে; টনসিল প্রদাহ, গ্রন্থিতে পুঁজ তৈরি হয়, যা সহজে আরোগ্য হয় না; গলায় পিন থাকার মতো অনুভূতি, যা গলা কাশি ঘটায়; গলার বাম পাশে বেশি ঘটে।
Lachesis- টনসিল প্রদাহের জন্য অনেক ভালো ওষুধ; টনসিলে পুঁজ তৈরি হয়; টনসিল ফুলে যায়, ডান পাশের প্রদাহ প্রবণতার সঙ্গে বাম পাশের টনসিলে অনেক বাড়ে; গলাধকরণে অক্ষমতা, সজোরে দমবন্ধ হয়ে যায়।
Lac can- টনসিল প্রদাহ, ক্ষত বা কালশিটে খুবই উজ্জ্বল জ্বলজ্বলে, গলার এত কাছে চলে আসে যাতে গলা বন্ধ হয়ে যায়; পুঁজ তৈরি হয় ডান থেকে বামের টনসিলে, বা এপাশ-ওপাশ পরিবর্তন, বা উভয় টনসিল সমানভাবে প্রভাবিত; গোটা গলার পিছনের অংশ ফোলে যায়।
Psorinum- টনসিল প্রদাহ, সাব ম্যাক্সিলারি গ্রন্থি বা উপ-চোয়াল গ্রন্থি ফোলে, গলা জ্বলে, মনে হয় গলা পুড়ে গেছে এমন অনুভূতি, লালা গিলতে গেলেও ব্যথা, ডান পাশের টনসিলে আলসার বা ক্ষত, কণ্ঠ জ্বলে, গলার গভীরে অনেক ব্যথা।