Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০৯:১৩ পূর্বাহ্ণ

পারিবারিক আদালতে মামলা দায়েরের পদ্ধতি:

পারিবারিক আদালতে মামলা দায়েরের পদ্ধতি:

 

পারিবারিক আদালত নিম্নোক্ত পাঁচটি বিষয়ের সবগুলোর বা যে কোনটির সাথে সর্ম্পকিত বা উদ্ভূত যে কোন মামলা গ্রহণ,বিচার নিস্পত্তি  করতে পারে৷

. বিবাহ বিচ্ছেদ

. দাম্পত্য সর্ম্পক পুনরুদ্ধার

. মোহরানা

. ভরণপোষণ

. সন্তানের অভিভাকত্ব তত্ত্বাবধান

(ধারা-, পাঃ আঃ অঃ-১ঌ৮৫)

. মামলার অভিযোগ সর্ম্পকিত আরজিটি উপস্থাপন করতে হবে যে আদালতের স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে-

.নালিশের কারণটি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে উদ্ভূত হয়েছে

.মামলার পক্ষগণ বসবাস করেন অথবা সর্বশেষ একসঙ্গে বসবাস করেছিলেন৷

তবে শর্ত হচ্ছে যে,বিবাহ বিচ্ছেদ,দেনমোহর অথবা ভরণপোষণের মামলার ক্ষেত্রে যে এলাকায় স্ত্রী সাধারণত বসবাস করছে সেই এলাকার আদালতেও মামলা করা যাবে৷

 

. যদি আরজিটি এমন আদালতে উপস্থাপন করা হয় যে আদালতের উক্ত মামলাটি পরিচালনার এখতিয়ার নেই সেক্ষেত্রে-

. আদালত যেখানে আরজিটি উপস্থাপন করা উচিত সেখানে উপস্থাপনের জন্য ফেরত পাঠাবেন৷

. আরজি ফেরতদানকারী আদালত প্রদানরত আদালত বরাবরে উপস্থাপনের তারিখ,দাখিলকারী পক্ষের নাম,ফেরত দানের কারণ আরজির উপর লিপিবদ্ধ করবেন৷

 

. আরজিতে বিরোধ সম্মন্ধীয় বিষয়ের বিস্তারিত তথ্যসহ,একটি তফসিল দিবে হবে যেখানে আরজির সমর্থনে সাক্ষ্য দিতে ইচ্ছুক সাক্ষীগনের সাম ঠিকানা অর্ন্তভূক্ত থাকবে৷

তবে শর্ত থাকে যে,বাদী মামলা প্রমানের প্রয়োজনে আদালতের অনুমতিক্রমে মামলার যে কোন স্তরে যে কোন সাক্ষী ডাকতে পারে  যদি আদালত ন্যায়বিচারের স্বার্থে উক্ত সাক্ষ্য নেয়া উপযুক্ত বলে মনে করেন৷

 

. মামলার আরজিতে যে বিষয়গুলির উল্লেখ থাকতে হবে-

.যে আদালতে মামলা দায়ের করা হচ্ছে সে আদালতের নাম:

.বাদীর নাম,বর্ণণা বাসস্থান

.বিবাদীর নাম,বর্ণণা বাসস্থান

.বাদী বা বিবাদী নাবালক অথবা অপ্রকৃতিস্থ হলে সে সর্ম্পকিত বর্ণণা

.নালিশের কারণ সর্ম্পকিত তথ্য সহ , যে স্থানে যে তারিখে কারণের উদ্ভব হয়েছিলো তার বিবরণ৷

.সংশ্লিষ্ট আদালতের যে মামলাটি পরিচালনার এখতিয়ার আছে সে সর্ম্পকিত তথ্য৷

.বাদীর প্রার্থিত প্রতিকার৷

.বাদী তার দাবীর সমর্থনে যদি কোন দলিলের উপর নির্ভর করে এবং দলিলটি যদি তার দখলে   থাকে তবে আরজি উত্থাপনের সময় দলিলটি আদালতে পেশ করতে হবে৷ দলিলটির অবিকল ফটোকৃত প্রতিলিপি আরজির সারথ নথিভূক্তির জন্য দিতে হবে৷

 

. বাদী তার দাবীর সমর্থনে এমন কোন দলিলের উপর নির্ভর করে এবং দলিলটি যদি তার দখলে  না থাকে সেক্ষেত্রে দলিলটি কার দখলে বা আয়ত্বাধীনে আছে সে বিষয়টি উল্লেখকরত আরজি দাখিল করতে হবে৷

মামলার বিবাদীগনের উপর জারীর জন্য বিবাদীগণের সংখ্যার দ্বিগুণ সংখ্যক তপসিলসহ আরজির সত্যায়িত প্রতিলিপি এবং দলিলের তালিকা দ্বিগুণ পরিমাণ আরজির সাথে থাকবে৷

 

. যে সকল কারনে আরজি অগ্রাহ্য বা নাকচ হতে পারে-

. উপধারা অনুযায়ী যেক্ষেত্রে আরজির সাথে তপসিল দেয়া হয়নি৷

. যেক্ষেত্রে সমন জারীর খরচ এবং নোটিশের জন্য পোস্টাল খরচ পরিশোধ করা হয়নি৷

. যেক্ষেত্রে ২২ ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত কোর্ট ফি দেয়া হয়নি৷
. যেক্ষেত্রে আরজি উপস্থাপনের সময় বাদীর কোন দলিল দাখিল করা উচিত ছিল অথবা আরজির সাথে সংযুক্ত করার জন্য কোন লিস্টভূক্ত করা উচিত এবং যদি সেটি সঠিকরূপে দাখিল বা লিস্টভূক্ত করা না হয় তবে মামলার শুনানীর সময় আদালতের অনুমতি ছাড়া সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না৷

তবে শর্ত থাকে যে,বিশেষ অবস্থা ছাড়া আদালত এমন অনুমতি দেবেন না৷

(ধারা-,পাঃ আঃ অঃ-১ঌ৮৫)

 

মামলা দাখিল পরবর্তী আদালতের কার্যক্রমের উপস্থাপনা:

. সমন নোটিশ জারি

 

বিবাদির ওপর দু ভাগে সমন জারি করা যাবে-

. বিবাদির ওপর ব্যক্তিগতভাবে সমন জারি

যে আদালতে মামলা দায়েব করা হয়েছে বিবাদি যদি তার এখতিয়ারভুক্ত এলাকার মধ্যে বসবাস করেন অথবা বিবাদির পক্ষে সেই এলাকায় সমন গ্রহণ করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিনিধি থাকে তবে আদালত বাদির খরচে তার ওপর সমন জারি করবে৷ বিবাদির সংখ্যা একাধিক হলে প্রত্যোকের ওপর সমন জারি করতে হবে৷ বিবাদির ওপর ব্যক্তিগতভাবে তা সম্ভব না হলে তার পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিনিধি না পাওয়া গেলে বিবাদির সাথে বসবাসকারী এক পরিবারভুক্ত যে কোনো সাবালক পুরুষ ব্যক্তির ওপর সমন জারি করা যাবে৷ তবে ভৃত্য, পরিবারের লোক বলে গণ্য হবে না৷ সমন জারির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী প্রাপ্তি স্বীকার স্বরূপ মূল সমনের ওপর সমন গ্রহণকারীর স্বীকৃতিমূলক স্বাক্ষর গ্রহণ করবেন৷ যদি বিবাদি প্রাপ্তি স্বীকারমূলক স্বাক্ষর প্রদান না করেন বা সর্বপ্রকার চেষ্টা সত্ত্বেও যদি উক্ত কর্মচারী বিবাদিকে না পায় বা ন্যায়সংগত সময়ের মধ্যে বিবাদির ফেরার সম্ভাবনা না থাকে বা তার পক্ষে সমন গ্রহণ করার ক্ষমতা সম্পন্ন কারও সন্ধান পাওয়া না যায় কিংবা সমন গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় তাহলে যে গৃহে বিবাদি সাধারণত বসবাস করে বা ব্যবসা করে, সংশ্লিষ্ট কর্মচারী সেই গৃহের বর্হিদ্বারে বা গৃহের অন্য কোনো প্রকাশ্য অংশে সমন লটকিয়ে জারি করতে পারবে৷ যে পরিস্থিতিতে এটা করা হয়েছে, যে ব্যক্তি উক্ত গৃহ সনাক্ত করেছে এবং যাদের সাক্ষাতে এভাবে সমন জারি করা হয়েছে, তাদের নাম, ঠিকানা, সম্ভব হলে স্বাক্ষর মূল সমনের পাতায় লিখে মূল সমনটি সংশ্লিষ্ট কর্মচারী একটি এফিডেভিট সংবলিত বিবৃতিসহ আদালতে ফেরত দিবে৷

 

. বিবাদির প্রতি ডাকযোগে নোটিশ জারি

আদালত ডাকযোগে নোটিশ প্রেরণের মাধ্যমেও সমন জারি করতে পারবে৷ বিবাদি কারাগারে আটক থাকলে কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে সমন জারি হতে পারে৷ বিবাদি যদি বাংলাদেশের বাইরে বসবাস করেন এবং দেশে তার কোনো ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি না থাকে তবে বিবাদির বিদেশস্থ ঠিকানায় ডাকযোগে সমন প্রেরণ করা যাব৷

বিবাদি যদি কোনো সরকারী কর্মচারী, রেল কর্মচারী বা স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হয়, তবে বিবাদির ওপর জারি করার অনুরোধপত্রসহ সমন এবং বিবাদিকে দেয়ার জন্য এর একটি নকল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট বা সেই অফিসের প্রধান কর্মকর্তার নিকট ডাকযোগে প্রেরণ করা যাবে৷ বিবাদি যদি সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিক হয়, তবে আদালত উক্ত সমন তার একটি নকল বিবাদিকে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ডাকযোগে প্রেরণ করবেন৷ সেটা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী বিবাদির ওপর জারি করে এবং সম্ভব হলে বিবাদির লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারসহ উক্ত সমন আদালতের নিকট ফেরত পাঠাতে বাধ্য থাকবেন৷ কাজগুলো করা বাদির ওপর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে৷ বিবাদির বরাবরে প্রেরিত নোটিশের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র আদালতে ফেরত আসলে, অথবা অনুরূপ প্রেরিত নোটিশটি বিবাদি গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন এই মর্মে ডাক কর্মচারীর লিখিত মন্তব্য সংবলিত হয়ে আদালতে ফেরত আসলে, নোটিশটি যথাযথভাবে জারি হয়েছে বলে বিবেচিত হবে৷ নোটিশটি সঠিক ঠিকানা, পরিশোধিত ডাকমাসুল এবং প্রাপ্তি স্বীকারপত্রসহ রেজিষ্ট্রি ডাকযোগে প্রেরিত হয়ে থাকলে এবং প্রেরণের তারিখ হতে ত্রিশদিন অতিবাহিত হলে, নোটিশের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র হারিয়ে গেলে বা বিপথে চালিত হলে অথবা ত্রিশ দিন সময়ের মধ্যে অন্য কোনো কারণে তা আদালতে ফেরত না আসলেও নোটিশ বিবাদির ওপর যথাযথভাবে জারি হয়েছে বলে বিবেচিত হবে৷ সমন জারি খরচ, নোটিশের ডাক খরচ, এগুলো আর্জি দাখিলের সময় বাদি কর্তৃক প্রদান করতে হবে৷

বিবাদির প্রতি প্রেরিত ডাক সমনের রসিদ আদালতে জমা দিতে হবে৷

 

. লিখিত জবাব:

 

পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত বিবাদি বা বিবাদিদের জবাব দেয়ার সুযোগ প্রদান করবেন৷

. বিবাদির হাজিরার জন্য ধার্য তারিখে, বাদি বিবাদি পারিবারিক আদালতে হাজির হবেন এবং বিবাদি   তার আত্নপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিল করবেন৷

. বিবাদি পক্ষের সমর্থনে যে সকল সাক্ষী উপস্থিত করা হবে তাদের নাম ঠিকানা লিখিত জবাবের অন্তর্ভূক্ত থাকবে৷ পরবর্তীকালে নতুন কোনো সাক্ষীকে উপস্্থাপন করা যাবে না৷ তবে শর্ত এই যে, আদালতের অনুমতিক্রমে পরবর্তী যে-কোনো পর্যায়ে বিবাদি অন্য সাক্ষী ডাকতে পারেন, যদি আদালত ন্যায়বিচারের স্বার্থে অনুরূপ সাক্ষ্য গ্রহণ সমীচীন মনে করেন৷

. বিবাদির আত্নপক্ষ সমর্থনের প্রমাণ তার দখলে বা আওতাধীনে থাকা কোনো দলিলের ওপর নির্ভরশীল হলে লিখিত জবাব দাখিলের সময় তিনি সেই দলিল বা তার অবিকল নকল বা ফটোষ্ট্যাট কপি লিখিত জবাবের সাথে আদালতে দাখিল করবেন এবং শুনানিকালে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দ্বারা প্রদর্শন করাতে হবে৷

. বিবাদির আত্নপক্ষ সমর্থনের প্রমাণ নিজের দখলে বা আওতাধীনে নেই এমন কোনো দলিলের ওপর নির্ভরশীল হলে সেই দলিলটি লিখিত জবাবের সাথে সংযুক্তকরণার্থে দলিলটি কার দখলাধীনে বা আয়ত্বাধীনে রয়েছে তা উল্লেখ করবেন এবং উক্ত দলিল আটককৃত ব্যক্তি কর্তৃক আদালতে উপস্থাপন করার আদেশের জন্য শুনানিকালে দরখাস্ত করবেন৷

. তফশীলসহ লিখিত জবাবের নকল, আদালতে উপস্থিত বাদিকে বা তার পক্ষে যে কার্যকর করবেন তাকে অথবা তার আইনজীবীকে প্রদান করতে হবে৷

 

. পক্ষসমূহের অনুপস্থিতির ফলাফল

  • বিবাদি হাজির হওয়ার নির্দিষ্ট দিনে মামলা শুনানির সময় কোনো পক্ষ উপস্থিত না থাকলে আদালত মামলাটি খারিজ করে দিতে পারেন৷

  • মামলার শুনানির সময় বাদি হাজির হলে এবং বিবাদি হাজির না হলে-

. যদি প্রমানিত হয় যে সমন বা নোটিশ বিবাদির ওপর যথাযথ জারি হয়েছে, সেক্ষেত্রে আদালত এক তরফাভাবে অগ্রসর হতে পারেন:

. সমন বা নোটিশ বিবাদির ওপর যথাযথভাবে জারি হয়েছে প্রমানিত না হলে, আদালত বিবাদির ওপর নতুন করে সমন বা নোটিশ প্রেরণ জারি করার নির্দেশ দিবেন;

. যদি প্রমানিত হয় যে, বিবাদির উপস্থিতির জন্য ধার্য দিনে তার পক্ষ উপস্থিত হতে জবাব দিতে সমর্থ হওয়ার মতো যথেষ্ট সময় না দিয়ে তার প্রতি সমন নোটিশ জারি করা হয়েছিল, তা হলে আদালত তত্কর্তৃক [অনধিক একুশ দিনের জন্য] নির্ধারিত কোনো আগামী দিন পর্যন্্ত শুনানি স্থগিত রাখবেন এবং বিবাদিকে উক্ত দিন সম্পর্কে নোটিশ প্রদান করবেন৷

  • আদালত কর্তৃক কোনো মোকদ্দমার একতরফা শুনানি মুলতবি থাকলে এবং বিবাদি হাজিরার নির্ধারিত তারিখে বা তত্পূর্বে আদালতে হাজির হয়ে এর পূর্বে গরহাজির থাকার গ্রহণযোগ্য কারণ দর্শালে আদালত যেমন উপযুক্ত মনে করেন সেরকম শর্তে পূর্বের ধার্যকৃত দিনে বিবাদি হাজির হলে যেভাবে শুনানি গ্রহণ করতেন, অনুরূপভাবেই বিবাদির জবাবের শুনানি গ্রহণ করতে পারেন৷

  • মামলাটি শুনানির জন্য ডাকা হলে বিবাদি পক্ষ হাজির এবং বাদি পক্ষ গরহাজির থাকলে বিবাদি বাদির সম্পূর্ণ বা আংশিক দাবি স্বীকার না করলে আদালত মামলাটি খারিজ করবেন৷ বিবাদি বাদির দাবি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে স্বীকার করলে আলামত বিবাদির স্বীকৃতি অনুযায়ী বিবাদির বিরুদ্ধে ডিক্রি প্রদান করবেনএবং   অবশিষ্ট দাবি বাবদ মামলাটি খারিজ হবে৷

  • কোনো মামলা দুপক্ষের অনুপস্থিতিতেই খারিজ হলে কিংবা বিবাদির স্বীকৃতি অনুসারে সম্পূর্ণ বা আংশিক খারিজ হলে ত্রিশ দিনের মধ্যে হুকুমদানকারী আদালতে খারিজ হুকুমটি রদ করার জন্য বাদি আবেদন করতে পারেনএবং তিনি যদি আদালতকে এই মর্মে সন্তষ্ট করেন যে মামলাটি শুনানির সময়ে তা গরহাজির থাকার সঙ্গত কারণ ছিল, সেক্ষেত্রে আদালত খারিজের হুকুমটি বাতিলের আদেশ দান করবেন এবং মামলাটি নিয়ে হাজির হওয়ার জন্য একটি দিন ধার্য করবেন৷

  • কোনো বিবাদির বিরুদ্ধে একতরফা ডিক্রি প্রদত্ত হলে, ডিক্রি প্রদানের তারিখ হতে ত্রিশ দিনের মধ্যে বিবাদি তা রদ করার জন্য আবেদন করতে পারেন এবং তিনি যদি এই মর্মে আদালতকে সন্তষ্ট করেন যে শুনানির সময় তার (বিবাদির) গরহাজির থাকার যথেষ্ট কারণ ছিল, সেক্ষেত্রে আদালত বিবাদির বিরুদ্ধে প্রদত্ত একতরফা ডিক্রিটি বাতিলের আদেশ প্রদান করবেন এবং মামলাটি নিয়ে অগ্রসর হওয়ার জন্য একটি দিন ধার্য করবেন৷

 

. বিচারপূর্ব কার্যব্যবস্থা

. লিখিত জবাব দাখিল হলে, পারিবারিক আদালত সাধারণত ত্রিশ দিনের মধ্যে বিচারপূর্ব শুনানির তারিখ ধার্য করেন৷

. আদালত বিচারপূর্ব শুনানির নির্ধারিত তারিখে আর্জি লিখিত, জবাব, সাক্ষ্যের সারাংশ এবং পক্ষগণ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলাদি পরীক্ষা করে দেখবেন এবং উপযুক্ত মনে করলে পক্ষগণকে তার আইনজীবীদের শোনাবেন৷ আদালত যদি মনে করেন পক্ষগণের বক্তব্য শোনা যুক্তিযুক্ত তাহলে তাদের (পক্ষগণের) বক্তব্য শুনবেন এবং বিরোধের বিষয়গুলো অর্থাত্বিচার্য বিষয়গুলো নির্ণয় করবেন৷

. আদালত বিচারপূর্ব শুনানিকালে পক্ষগণের মধ্যে বিরোধেয় বিষয়গুলো নির্ণয় করার পর পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা পূনর্মিলনের চেষ্টা করবেন৷ পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ আইনের অধীনৈ কোন বিচারকের ক্ষেত্রে এটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ৷ আপোষ মীমাংসার কার্যক্রমে পক্ষগণ নিজে বা তার প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হতে পারেন৷

. যদি কোনরূপর আপোষ অথবা পুনর্মিলন সম্ভব না হয়, তাহলে আদালত সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য সাধারণত ত্রিশ দিনের মধ্যে একটি তারিখ ধার্য করবেন৷

. রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার

পারিবারিক আদালত উপযুক্ত মনে করলে এই অধ্যাদেশের অধীনে মামলার সম্পূর্ণ বিচার কার্যক্রম বা যে কোন অংশে রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত করতে পারেন৷

যে বিষয়সমূহ নিয়ে পারিবারিক আদালতে বিচারকার্য পরিচালিত হয় সেই বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবে ভিন্ন প্রকৃতির এবং সেই ভিন্ন প্রকৃতির কারণে পারিবারিক আদালতের বিচার ভিন্ন অবস্থায় হতে পারে৷ স্বামীর সাথে স্ত্রী, স্ত্রীর সাথে স্বামীর বা সন্তানের সাথে পিতামাতার বিরোধ অনেক সময় জনসমক্ষে প্রকাশ করা বিব্রতকর হয়ে পড়ে৷ সমস্ত কারণে আইন এই মামলা রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচারের ব্যবস্থা রেখেছে৷

আপোস বা পুনর্মিলনের জন্য আদালত খাস কামরায় উভয় পক্ষকে বা যে-কোনো পক্ষকে ডেকে চেষ্টা করতে পারেন অথবা আদালত কোনো মহিলা সাক্ষীর সাক্ষ্য খাস কামরায় গ্রহণ করতে পারেন৷ আদালত নিজের ইচ্ছায়    রুদ্ধদ্বার কক্ষে বা খাস কামরায় বিচারানুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে পারেন না৷ এজন্য আদালতকে উভয় পক্ষ কর্তৃক অনুরোধ করতে হবে৷ পক্ষগণ আদালতের কাছে আবেদন না করলে আদালত খাস কামরায় সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারেন না৷

. সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকরণ

মামলার উভয়পক্ষ কর্তৃক নিজ নিজ সাক্ষীদের নাম ঠিকানা আর্জি লিখিত জবাবের সাথে দিতে হবে৷ বিচারপূর্ব শুনানির তারিখেই বিচার্য বিষয় গঠণ করে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য সরাসরি তারিখ ধার্য করা হয়৷ শুধু যে সকল সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা কষ্টসাধ্য হয় সেই সকল সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন দিতে হবে৷ এজন্য বিচার্য বিষয় গঠন করার ত্রিশ দিনের মধ্যে সাক্ষীদের উপস্থিতির জন্য সমন দিতে হবে৷ তবে বিচার্য বিষয় স্থির করার তিন দিনের মধ্যে পক্ষগণ কর্তৃক আদালতের কাছে সাক্ষীকে উপস্থিত করার জন্য সমন জারির কথা জানাতে হবে৷ অন্যথায় উক্ত সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা সম্ভবপর নয়৷ সাক্ষী নির্দিষ্ট মঞ্চে উঠবেন এবং শপথ গ্রহণ করবেন৷ অতঃপর যে পক্ষ তাকে ডেকেছে সে পক্ষ তাকে প্রশ্ন করবেন৷ এভাবে জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে৷ জবানবন্দির পর অপর পক্ষ কর্তৃক তাকে জেরা করা হবে৷ সাক্ষীর জবানবন্দি জেরা শেষ হলে সেটি সাক্ষীকে পড়ে শোনাতে হবে এবং পড়া শেষে সাক্ষী তাতে স্বাক্ষর করবেন৷ সাক্ষীগণ তাদের নিজ নিজ ভাষায়ই সাক্ষ্য দিবেন৷

বিশেষ ক্ষেত্রে পারিবারিক আলামত সাক্ষীর বাড়িতে তার সাক্ষ্য রেকর্ডের অনুমতি দিতে পারেন৷ যে ব্যক্তি সাক্ষ্য রেকর্ড করবেন তিনি অবশ্যই আদালত কর্তৃক নিযুক্ত হবেন৷ তবে এরূপ করার কারণ আদালতকে লিপিবদ্ধ করতে হবে৷

যে পক্ষের ওপর বিচারের বিষয় প্রমাণের দায়িত্ব অর্পন করা হয়েছে সেই পক্ষকেই বিচারের বিষয় প্রমাণ করতে হবে৷ অন্যথায় তিনি প্রার্থিত প্রতিকার পাবেন না৷

যে পক্ষের ওপর বিচারের বিষয় প্রমাণের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে সেই পক্ষকেই বিচারের বিষয় প্রমাণ করতে হবে৷ অন্যথায় তিনি প্রার্থিত প্রতিকার পাবেন না৷

প্রত্যেক সাক্ষীরই সাক্ষ্য দেয়ার অধিকার আছে- এটাই সাধারণ নিয়ম৷ তবে যে প্রশ্ন সাক্ষীকে জিঞ্জাসা  করা হবে তার অর্থ তিনি বুঝতে অক্ষম হলে অথবা প্রশ্নের বোধগম্য উত্তর দিতে যিনি অপারগ তিনি সাক্ষী হওয়ার অযোগ্য৷

জবানবন্দিও জেরা বিচারের বিষয় এবং প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কিত হতে হবে৷ অশালীন, কুত্সাব্যঞ্জক, অশোভন বা অহেতুক আক্রমণাত্নক অথবা আদালতের বিবেচনায় অপমানজনক প্রশ্ন করা হতে আদালত প্রশ্নকারীকে বিরত রাখবেন৷ আদালত নিজেও সাক্ষীকে প্রশ্ন করতে পারেন৷ আদালত প্রত্যেক সাক্ষীর সাক্ষ্য আদালতের ভাষায় লিপিবদ্ধ করবেন এবং তাতে স্বাক্ষর প্রদান করবেন৷ সাক্ষ্য গৃহীত হওয়ার পর সাক্ষীকে তা পড়ে শোনাতে হবে এবং প্রয়োজনবোধে তা সংশোধন করা যাবে৷ সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করার ভাষা সাক্ষীর ভাষা হতে ভিন্ন হেল সাক্ষীকে তার দেয়া সাক্ষ্য তিনি যেই ভাষা বোঝেন সেই ভাষায় ব্যাখ্যা করে দিতে হবে৷

 

. বিচার সমাপ্তি

সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ করার পর রায় ঘোষণার পূর্বে পারিবারিক আদালত পক্ষগণের মধ্যে শেষ পর্যায়েও আপোষ মীমাংসার জন্য প্রচেষ্টা গ্রহণ করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে৷

যদি অনুরূপ আপোষ বা পুনর্মিলন সম্ভবপর না হয়, তা হলে আদালত তখনই অথবা ভবিষ্যতে অনধিক সাত দিনের মধ্যে যে-কোনো দিনে রায় ঘোষণা করবেন এবং ডিক্রি প্রদান করবেন৷

 

. আপোষমূলক ডিক্রি

পারিবারিক আদালতে মামলা নিষ্পত্তির দুটি পদ্ধতি আছে৷ প্রথমটি হচ্ছে আপোস, দ্বিতীয়টি বিচার৷ আপোস বা মীমাংসার মাধ্যমে কোনো বিরোধের সমাপ্তি হলে উভয়পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত আরোষ মীমাংসার আলোকে আদালত মামলার ডিক্রি বা সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন৷

 

. রায় লিপিবদ্ধকরণ

পারিবারিক আদালতের রায় বিচারক নিজেই লিখবেন৷ তার লেখার কোনো অসুবিধা হলে তিনি ডিক্টেশন দিবেন এবং অন্য কেউ লিখে দিবে৷ অতঃপর তিনি সেটি প্রকাশ্য আদালতে ঘোষণা করবেন এবং তারিখসহ স্বাক্ষর করবেন৷ রায় আদালতের ভাষায় লিখতে হবে৷

আপিলযোগ্য সকল রায় আদেশসমূহের ক্ষেত্রে রায় লিপিবদ্ধকরণে পারিবারিক আদালতের বিচারের বিষয়বস্তু, সিদ্ধান্ত তার যুক্তি এবং কারণ লিপিবদ্ধ করতে হবে৷

 

১০. ডিক্রি বলবত্করণ

. পারিবারিক আদালত নির্ধারিত ফরমে পদ্ধতিতে ডিক্রি প্রদান করবেন এবং তার বিবরণসমূহ নির্ধারিত ডিক্রি রেজিষ্ট্রর বইতে অন্তভু©ক্ত করবেন৷

 

. ডিক্রি মোতাবেক আদালতে নগদ টাকা পরিশোধিত হলে বা সম্পত্তি প্রদত্ত হলে অনুরূপ পরিশোধ প্রদানের বিষয়টি আদালত ডিক্রি রেজিষ্টার বইতে অন্তভু©ক্ত করবেন৷

 

. অর্থ আদায় সংক্রান্ত ডিক্রিতে ডিক্রির টাকা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার এক বছরের মধ্যে ডিক্রিদার কর্তৃক আবেদনের প্রেক্ষিতে ডিক্রি জারি করা হবে৷ ডিক্রিজারি ফরমে বিবাদির নিজস্ব সম্পদের বর্ণনা দিতে হবে যা থেকে আদালতে বাদির পাওনা টাকা প্রদানপূর্বক বাকি টাকা বা সম্পদ বিবাদিকে ফেরত দিবেন৷ বিবাদির সম্পদের বর্ণনা দেয়া সম্ভব না হলে ডিক্রি জারির উদ্দেশ্যে পারিবারিক আদালতের বিচারক একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট বলে গণ্য হবেন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে  সকল ক্ষমতাই সেই ম্যাজিষ্ট্রেটের থাকবে এবং তিনি ডিক্রিকৃত টাকা আদায়ের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির কোড- বর্ণিত পদ্ধতিতে ডিক্রি জারি করবেন৷ এক্ষেত্রে তিনি ডিক্রির সম্পূর্ণ বা আংশিক বকেয়া টাকার জন্য উর্ধ্বে মাস বা টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদান করতে পারেন৷ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, টাকার ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালতকে যথেষ্ট ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে৷

. ডিক্রি প্রদানকারী আদালত ডিক্রিটি নিজে জারি করতে পারেন বা তা জারি করার জন্য অন্য কোনো পারিবারিক আদালতে প্রেরণ করতে পারেন৷ ডিক্রি জারির জন্য যে আদালতে তা পাঠানো হবে সেই পারিবারিক আদালতের ডিক্রি প্রাদনকারী আদালতের এমন ক্ষমতা থাকবে, যেন সেই আদালতই ডিক্রি প্রদান করেছে৷ অথবা সেই আদালতের ডিক্রি প্রদানের সমস্ত ক্ষমতা থাকবে৷

) পারিবারিক আদালত ডিক্রির টাকা কিস্তিতে পরিশোধের আদেশ দিতে পারেন এবং ডিক্রি জারির আদালত নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিস্তির দফা নির্দিষ্ট করে দিতে পারেন৷

 

১১. আপিল

পারিবারিক আদালতের রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে আপিল করা যাবে৷ জেলা জজ আদালত দেওয়ানি আদালত বিধায় দেওয়ানি কার্যবিধি আইন এই আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে৷

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালতের রায় বা ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল চলে না৷-

. স্বামী যদি স্ত্রীর সম্পত্তি হস্তান্তর করেন বা উক্ত সম্পত্তির ওপর স্ত্রীর আইন সম্মত অধিকার প্রয়োগে বাধা দেন৷ এই অভিযোগে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের  মামলা করলে এই কারণে ব্যতীত অন্য কোনো কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালতের রায় বা ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না৷

. মোহরানার টাকা হাজার টাকার উর্ধ্বে না হলে আপিল চলবে না৷

আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালতের রায়, ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের সময় হতে সব কপি সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় সময় বাদ দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হবে৷ তবে জেলা জজ যথেষ্ট কারণের জন্য উক্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারেন৷

আপিলে কি কি বিষয় থাকবে

. আপিল অবশ্যই লিখিত হতে হবে
. যে সব কারণে আপিলকারী রায়, ডিক্রি বা আদেশ চ্যালেঞ্জ করতে চান তা উল্লেখ করতে হবে৷
. পক্ষগণের নাম, বিবরণ ঠিকানার উল্লেখ থাকবে৷
. আপিল করার মতো যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে মর্মে অ্যাডভোকেট কর্তৃক একটি সনদপত্র থাকবে৷

যে রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে আপিলের সাথে তার সত্যায়িত অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে৷

আপিল আদালত আপিলের আদেশ পারিবারিক আদালতে পাঠাবেন৷ পারিবারিক আদালত আপিল আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এর রায়, ডিক্রি বা আদেশ সংশোধন বা পরিবর্তন করবেন এবং ডিক্রির রেজিষ্ট্রার বইতে উপযুক্ত কলামে তা লিপিবদ্ধ করবেন৷

জেলা জজ অপর কোনো অতিরিক্ত জেলা জজ বা সব-জস আদালতে উক্ত আপিল শুনানি নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করতে পারেন অথবা ঐরূপ আদালত হতে আপিল প্রত্যাহারও করতে পারেন৷

 

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট