প্রভাষক
০১ মার্চ, ২০২১ ০৬:২৫ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ মাদ্রাসা শিক্ষা
শ্রেণিঃ একাদশ
বিষয়ঃ অর্থনীতি
অধ্যায়ঃ দ্বিতীয় অধ্যায়
শ্রেণিঃ আলিম প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষ
বিষয়: অর্থনীতি১ম
দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ ভোক্তা ও উৎপাদকের আচরণ (১ম ক্লাশ)
মহসিন স্যারঃ
--------------------------------------
উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাওঃ
বশির আম কিনতে বাজারে গেল। বাজারে গিয়ে সে এক কেজি আম ৫০ টাকা দিয়ে কিনল। বিক্রেতা তাকে আরো আম কিনতে অনুরোধ করল। কিন্তু দ্বিতীয় কেজি আমের জন্য সে ৪০ টাকার বেশি দিতে রাজি হলো না। এভাবে সে তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম কেজির জন্য যথাক্রমে ৩০ টাকা, ২০ টাকা, ১০ টাকা, ০ এবং -১ টাকা দিতে রাজি হলো।
(ক) প্রান্তিক উপযোগ কাকে বলে?
(খ) জোগান বলতে কী বোঝো?
(গ) বশিরের পর্যায়ক্রমে কেজিপ্রতি আমের দাম কম দেওয়ার প্রবণতা অর্থনীতির কোন বিধির আওতায় পড়ে? ব্যাখ্যা করো।
(ঘ) উদ্দীপকের আলোকে মোট উপযোগ এবং প্রান্তিক উপযোগ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর : (ক) অতিরিক্ত এক একক দ্রব্য বা সেবা ভোগ করে যে অতিরিক্ত উপযোগ বা তৃপ্তি পাওয়া যায়, তাকে প্রান্তিক উপযোগ বলে।
(খ) একজন বিক্রেতা কোনো একটি দ্রব্যের যে পরিমাণ একটি নির্দিষ্টি সময়ে এবং একটি নির্দিষ্ট দামে বিক্রয় করতে ইচ্ছুক ও সমর্থ থাকে, তাকে জোগান বলে।
বাজারে গেলে আমরা দেখব, বিক্রয়ের জন্য বিভিন্ন দ্রব্য নিয়ে বিক্রেতারা দোকান সাজিয়ে রেখেছেন। তবে আমরা এটাকেই জোগান বা সরবরাহ বলব না। অর্থনীতিতে জোগান বলতে একজন বিক্রেতা কোনো একটি দ্রব্যের যে পরিমাণ একটি নির্দিষ্টি সময়ে এবং একটি নির্দিষ্ট দামে বিক্রয় করতে ইচ্ছুক ও সমর্থ থাকে, তাকে জোগান বলে। উল্লেখ্য, একটি দ্রব্য, একটি নির্দিষ্ট সময় ও একটি নির্দিষ্ট দাম এখানে বিবেচ্য। অতএব, বিক্রেতা বিভিন্ন দামে দ্রব্যের যে বিভিন্ন পরিমাণ বিক্রয় করতে ইচ্ছুক, তাকেই অর্থনীতিতে জোগান বলে।
(গ) বশিরের পর্যায়ক্রমে কেজিপ্রতি আমের দাম কম দেওয়ার প্রবণতা অর্থনীতির ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগবিধির আওতায় পড়ে।
ভোক্তা কোনো একটি দ্রব্য যত বেশি ভোগ করে, তার কাছে ওই দ্রব্যের প্রান্তিক উপযোগ তত কমে যেতে থাকে। ভোগের একক বৃদ্ধির ফলে প্রান্তিক উপযোগ কমে যাওয়ার এ প্রবণতাকে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগবিধি বলে।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যাচ্ছে, বশির বারবার একই পরিমাণ আম কিনতে গিয়ে আমের প্রতি তার আগ্রহ ক্রমেই কমে যাচ্ছে। ফলে উপযোগও কমে যাচ্ছে। উপযোগ কমে যাওয়ার ফলে তিনি অতিরিক্ত আম ক্রয়ের জন্য দাম কম দিতে চান। সুতরাং লক্ষ করা যাচ্ছে যে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগবিধির ফলেই বশিরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে কেজিপ্রতি আমের দাম কম দেওয়ার প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে। ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগবিধিটি রেখাচিত্রের সাহায্যে প্রকাশ করা যায়।
যেমন—
চিত্র : ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ রেখা
চিত্রে ভূমি অক্ষে আমের পরিমাণ এবং লম্ব অক্ষে প্রান্তিক উপযোগ ও দাম নির্দেশ করা হয়েছে। এখানে বশির প্রথম ১ কেজি আম থেকে ধধষ পরিমাণ উপযোগ তথা প্রান্তিক উপযোগ লাভ করে এবং ১ কেজি আমের জন্য ৫০ টাকা দাম দেয়। ভোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম কেজি আম থেকে যথাক্রমে bbl, ccl, ddl এবং eel প্রান্তিক উপযোগ লাভ করে। অর্থাৎ ভোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম কেজি আমের জন্য যথাক্রমে ৪০, ৩০, ২০, ১০ টাকা দিতে রাজি হয়। তার ষষ্ঠ কেজি আমের প্রান্তিক উপযোগ শূন্য এবং সপ্তম কেজি আমের প্রান্তিক উপযোগ ঋণাত্মক, অর্থাৎ -১ টাকা। এখানে al, bl, cl, dl, el, f এবং gl বিন্দুগুলো যোগ করে প্রান্তিক উপযোগ রেখা পাওয়া যায়। রেখাটি ডান দিকে নিম্নগামী। সুতরাং লক্ষ করা যাচ্ছে, ভোগের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রান্তিক উপযোগ ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে।
(ঘ) উদ্দীপকে বশিরের আম কেনার ঘটনার মধ্য দিয়ে অর্থনীতির দুটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মোট উপযোগ ও প্রান্তিক উপযোগ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করা যায়।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দ্রব্যের বিভিন্ন একক থেকে প্রাপ্ত তৃপ্তির সমষ্টিকে মোট উপযোগ বলে এবং অতিরিক্ত একক দ্রব্য বা সেবা ভোগ করে যে অতিরিক্ত উপযোগ বা তৃপ্তি পাওয়া যায়, তাকে প্রান্তিক উপযোগ বলে।
উদ্দীপকে বশির আম কিনতে বাজারে গিয়ে প্রথমে এক কেজি আম ৫০ টাকা দিয়ে কেনে। এরপর দ্বিতীয় কেজি আমের জন্য সে ৪০ টাকা দিতে রাজি হয়। এভাবে সে তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম কেজির জন্য যথাক্রমে ৩০ টাকা, ২০ টাকা, ১০ টাকা, ০ এবং -১ টাকা দিতে রাজি হয়। এখানে লক্ষ করা যাচ্ছে যে বশির প্রথম এক কেজি আম ভোগ করার পর দ্বিতীয়বার আম কেনার প্রতি তার আগ্রহ কমে গেছে। এভাবে তৃতীয় ও চতুর্থবার আম কেনার ক্ষেত্রে তার আগ্রহ আরো কমে গেছে। একপর্যায়ে সে আর আম কিনতে রাজি হচ্ছে না। অর্থাৎ আমের উপযোগ কমতে কমতে একপর্যায়ে তার কাছে এর উপযোগ শূন্য হয়ে গেছে। এভাবে ক্রমহ্রাসমান উপযোগের সমষ্টিকে মোট উপযোগ বলা হয়। এখানে বশিরের পাঁচ কেজি আমের মোট উপযোগ হচ্ছে (৫০+৪০+৩০+২০+১০)=১৫০। অপর দিকে বশিরের পঞ্চমবার এক কেজি আম কেনার পর তার আর আম কেনার আগ্রহ থাকে না। অর্থাৎ বশিরের পঞ্চমবার ক্রয়কৃত আম হচ্ছে প্রান্তিক আম। এই আম কিনে সে যে তৃপ্তি পায়, তা-ই হচ্ছে প্রান্তিক উপযোগ। উদ্দীপকের আলোকে বশিরের আম কেনার ঘটনা থেকে প্রাপ্ত মোট উপযোগ এবং প্রান্তিক উপযোগ একটি সূচির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো।