Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

০১ মে, ২০২১ ০৪:৩১ অপরাহ্ণ

বিশ্বভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

 

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ও শ্রীনিকেতন

 

Where the world makes a home in a single nest

ধরন- কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়

স্থাপিত- ২৩ ডিসেম্বর ১৯২১

আচার্য- ভারতের প্রধানমন্ত্রী

উপাচার্য- বিদ্যুৎ চক্রবর্তী

শিক্ষার্থী- ৬৫০০

অবস্থান-  শান্তিনিকেতন, বোলপুর, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

শিক্ষাঙ্গন- ২ পল্লীঅঞ্চল (শান্তিনিকেতন ও শ্রীনিকেতন)

সংক্ষিপ্ত নাম- বিশ্বভারতী

অধিভুক্তি- বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ভারত) , জাতীয় মূল্যায়ন ও প্রত্যয়ন পরিষদ, কমনওয়েলথ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সমিতি , ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সমিতি

ওয়েবসাইট-www.visva-bharati.ac.in

 

বিশ্বভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যাল ভারতের একটি কেন্দ্রী বিশ্ববিদ্যালএই বিশ্ববিদ্যালটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার বোলপুর শহরে অবস্থিত। ১৯২১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫১ সালে এটি কেন্দ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করে। কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য। দেশবিদেশ থেকে প্রচুর ছাত্রছাত্রী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা করতে আসেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য প্রাক্তনীদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, অস্কারবিজয়ী চিত্র-পরিচালক সত্যজিৎ রা, পুরের রানী তথা কোচবিহারের রাজকন্যা গায়েত্রী দেবী, ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী প্রমুখ।

 

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শুনেনি এমন ছাত্র-ছাত্রী হয়ত খুঁজে পাওয়া যাবে না। কেননা এটি এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় যার সাথে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি। তিনি যে নিজ হাতেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ১৯২১ সালে কবি পশ্চিমবঙ্গের বীরভুমের শান্তি নিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় সংস্কৃতি শিক্ষার মাধ্যমে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন সাধন করা। শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি ভারতীয় উপমহাদেশে অত্যন্ত গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। কেননা প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে এখানে খোলা
আকাশের নীচে আশ্রমের গাছের ছায়ায় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে জ্ঞান চর্চা করা হয়।
বিশ্বভারতীতে সারা বিশ্ব থেকেই শিক্ষার্থীরা ভারতীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে অধ্যয়ন করতে আসে। এছাড়া সাধারণ বিষয়গুলোতেও তাদের ভর্তির সুযোগ উন্মূক্ত।
মোট আসন সংখ্যার ১৫ শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারত সরকারের আইন অনুযায়ী এবং হোস্টেলের সীট থাকা সাপেক্ষে ভর্তির আবেদন বিবেচনা করা হয়।
বিশ্বভারতীতে বিভিন্ন পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এখানে উচ্চশিক্ষার যেসব পর্যায়ে পাঠদান করা হয় সেগুলো হচ্ছে:
- আন্ডার গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম
- পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম
- ডক্টরেট প্রোগ্রাম (PhD)
- ১ বৎসর মেয়াদী বিশেষ প্রোগ্রাম

কোর্সসমূহ
বিশ্বভারতীতে যেসব কোর্সে পাঠদান করা হয় সেগুলো হচ্ছে-
বিএ (অনার্স): বাংলা, অর্থনীতি, হিন্দী, ভূগোল, দর্শন, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সংস্কৃত, সমাজবিদ্যা, পরিসংখ্যান, কৃষি, উদ্ভিদ বিদ্যা, রসায়ন, গণিত, পদার্থ বিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা, বায়োটেকনোলজি।
নিচের বিষয় গুলোতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপ্লোমা কোর্স পড়ানো হয়
- চায়নীজ ভাষা শিক্ষা
- জাপানীজ ভাষা শিক্ষা
- উর্দু ভাষা শিক্ষা
- হিন্দী
- সংস্কৃত
আবেদনের নিয়ম
বিশ্বভারতীতে কোনো কোর্সে ভর্তির আবেদন করার পূর্বে আগ্রহী শিক্ষার্থীকে অবশ্যই ঐ কোর্সের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। শিক্ষার্থীকে অবশ্যই পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে এমনভাবে আবেদন করতে হবে যেন এপ্রিল মাসের ভেতরে সবধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয় এবং যেন তারা আগস্ট মাসে কোর্স শুরু করতে পারে।
আগ্রহী বিদেশি শিক্ষার্থীরা বিশ্বভারতী ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফর্ম ডাউনলোড করতে পারবে। এছাড়া বছরের যেকোন সময় বিশ্বভারতীয় ডেপুটি রেজিষ্ট্রার (শিক্ষা ও গবেষণা) এর দপ্তর থেকে বিনামূল্যে এই ফর্ম পাওয়া যেতে পারে।
বিদেশি শিক্ষার্থীরা পূরণকৃত আবেদনপত্র ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা ও গবেষণা) এর বরাবর জমা দিবে অথবা ইমেইল করবে। যদি আবেদন ফর্ম ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা হয় তবে তা জমা দেয়ার সময় অবশ্যই ১০ মার্কিন ডলারের ব্যাংক ড্রাফট ‘বিশ্বভারতী শান্তিনিকেতন এর অনুকূলে সংযুক্ত করতে হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
- আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কোর্সের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক সমমানের পরীক্ষায় ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে।
- পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্সে ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা হচ্ছে ২য় শ্রেণির স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি
- বিদেশি শিক্ষার্থীদের ১ বৎসর মেয়াদি কোর্সের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট।
এছাড়া এসব কোর্সে ভর্তির জন্য বিষয়ভিত্তিক আনুষঙ্গিক অন্যান্য কিছু শর্তও পূরণ করতে হবে।
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণার ও সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদেরকে অবশ্যই ভারত সরকারের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে। কোন সরকার বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুপারিশকৃত অথবা যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিশেষ কোনো গবেষণা কর্মসূচি যদি বিশ্বভারতী কর্তৃক গৃহীত হয় সেক্ষেত্রে গবেষণা সুবিধাদি এবং নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
মেধাভিত্তিক ফলাফলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধা বৃত্তিও প্রদান করা হয়। প্রি-ডিগ্রি, আন্ডার গ্র্যাজুয়েট এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই বৃত্তি প্রযোজ্য। এছাড়া কিছু সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান করে থাকে।
বিশ্বভারতীতে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্সে বাৎসরিক টিউশন ফি হল-
আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কোর্স- ৬০০-৯৫০ মার্কিন ডলার
পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স- ৭০০-১০০০ মার্কিন ডলার
আরো বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন
http://www.visvabharati.ac.in/

 

শ্রীনিকেতন

১৯১৬ সালের ১৬ এপ্রিল রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার বোলপুর শহরে অবস্থিত

ভূগোল

শ্রীনিকেতন ২৩.৬৬° উত্তর ৮৭.৬৬° পূর্ব অক্ষ-দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। এখানকার গড় উচ্চতা ৪৯ মিটার।

বোলপুর–শ্রীনিকেতন সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের প্রধান কার্যালয় শ্রীনিকেতনে অবস্থিত।

বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লকটি নিম্নলিখিত পঞ্চায়েতগুলি নিয়ে গঠিত: বাহিরি-পাঁচশোয়া, রায়পুর-সুপুর, সরপলেহানা-আলবাঁধা, সিংঘিকঙ্কালিতলা, রূপপুর, কসবা, সাত্তোর, ও সিয়ান মুলুক।

ইতিহাস

১৯১২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রায়পুরের জমিদার কর্নেল নরেন্দ্রপ্রসন্ন সিংহের কাছ থেকে সুরুল গ্রাম সন্নিহিত কুঠিবাড়িটি দশ হাজার টাকায় কেনেন। সুরুল গ্রামটি ছিল শান্তিনিকেতন থেকে তিন কিলোমিটার দূরে। ১৯০১ সালে শান্তিনিকেতনে  স্থাপনের পর থেকেই রবীন্দ্রনাথ পল্লিসংস্কার নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছিলেন। সুরুল কুঠিবাড়িটি কেনার পর সেই মত অল্পবিস্তর কাজও শুরু হয়। ১৯২১ সালের শেষভাগে রবীন্দ্রনাথ এখানে স্থাপন করেন “পল্লীসংগঠন কেন্দ্র”। ১৯২২ সালে ইংল্যান্ড থেকে ভারতে এসে লেনার্ড নাইট এলমহার্স্ট এই সংস্থার পরিচালনভার গ্রহণ করেন। তার সঙ্গে কাজে যোগ দেন কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সন্তোষচন্দ্র মজুমদার, গৌরগোপাল ঘোষ, কালীমোহন ঘোষ, সচ্চিদানন্দ রায়, কিম তারো কাসাহারা প্রমুখ কয়েকজন শিক্ষক এবং সুবীরেন্দ্রনাথ ঠাকুর, কুলপ্রসাদ সেন, দেবব্রত ভট্টাচার্য, হরিহরণ প্রমুখ শান্তিনিকেতনের দশ জন ছাত্র। এই সময় এটিকে বলা হত ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার, শান্তিনিকেতন।

শ্রীনিকেতন নামটির উল্লেখ পাওয়া যায়  ১৯২৩ সাল থেকে। পল্লীসংগঠন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়  ১৯২৩ সালেই। তবে সুরুল সমিতির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল আগেই। বিশ্বভারতীর দ্বিতীয় শিক্ষাপ্রাঙ্গন শ্রীনিকেতনের কাজের উদ্দেশ্য ছিল কৃষির উন্নতি, রোগ নিবারণ, সমবায় প্রথায় ধর্মগোলা স্থাপন, চিকিৎসার সুব্যবস্থা, ও স্বাস্থ্য বিষয়ে গ্রামবাসীদের সচেতন করে তোলা। পল্লী সংগঠন বিভাগ থেকে শিল্পভবন, শিক্ষাসত্র ও শিক্ষাচর্চাসদন ইত্যাদি কর্মকাণ্ড শান্তিনিকেতনের পাশাপাশি শ্রীনিকেতনেও বিস্তার লাভ করে।

শান্তিনিকেতনে ১৯২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাসত্রটি ১৯২৭ সালে শ্রীনিকেতনে উঠে আসে। ১৯৩৬ সালে দরিদ্রসাধারণের শিক্ষার সুযোগকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য স্থাপিত হয় লোক-শিক্ষা সংসদ। পরের বছর গ্রামীণ স্কুল শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য চালু হয় শিক্ষাচর্চা। ১৯৬৩ সালে একটি কৃষি মহাবিদ্যালয় “পল্লীশিক্ষাসদন” এবং ১৯৭৭ সালে “পল্লীচর্চাকেন্দ্র” স্থাপিত হয় শ্রীনিকেতনে।

১৯৪১ সালে সরকারি সহযোগিতায় শ্রীনিকেতনে প্রতিষ্ঠিত হয় “শিশু ও মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র”। ১৯৫১ সালে “পল্লী সংগঠন কেন্দ্র” ও “শিল্পসদন” সংযুক্ত হয়ে “পল্লীসংগঠন বিভাগ” গঠিত হয়। এই বিভাগের অন্তর্গত ছিল স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প-প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন, গো-পালন ইত্যাদি। ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে “শিক্ষাসত্র” বিদ্যালয়টি শান্তিনিকেতনের “পাঠভবন” বিদ্যালয়ের অনুরূপে একটি বিদ্যালয়ে পরিণত হয় পল্লীসংগঠন বিভাগের অধীনে আসে।

বর্তমান শ্রীনিকেতন

বর্তমানে পল্লীসংগঠন বিভাগের অধীনে রয়েছে “পল্লী সম্প্রসারণ কেন্দ্র”, “শিল্পসদন”, “পল্লীচর্চাকেন্দ্র”, “সংগীত-বিভাগ” ও “গ্রামীণ গ্রন্থাগার”। “পল্লীশিক্ষাভবন” (ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার) একটি স্বতন্ত্র ভবনের মর্যাদা পেয়েছে। এছাড়াও রয়েছে “শিক্ষাসত্র”, “শিক্ষাচর্চা” ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান ও অঙ্গনওয়াড়ি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ১৯১২ সালে রবীন্দ্রনাথ যে কুঠিবাড়িটি কিনেছিলেন তারও সংস্কার করা হয়েছে। এই বাড়িতেই বর্তমানে শ্রীনিকেতন জনসংযোগ দপ্তর, ডাকঘর ও পল্লীচর্চাকেন্দ্রের দপ্তর। শ্রীনিকেতনের বার্ষিক উৎসব পালিত হয় প্রতি বছর ৬-৯ ফেব্রুয়ারি।

 

মন্তব্য করুন