Loading..

শিক্ষায় অগ্রযাত্রা

রিসেট

১১ জুন, ২০২১ ১১:১২ পূর্বাহ্ণ

চীনের ভাষাসমূহ ও চীনের বিপদগ্রস্ত ভাষাসমূহের তালিকা

জনগোষ্ঠী

পৃথিবীর এক পঞ্চমাংশ জনগোষ্ঠী চীনে বাস করে। এদের মধ্যে ৯২% জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্গত। এছাড়াও চীনে আরো ৫৫ জাতিগোষ্ঠীর লোক বসবাস করে। জুলাই ২০০৬ এ হিসেব অনুযায়ী চীনের মোট জনসংখ্যা হবে ১৩১ কোটি ৩৯ লক্ষ ৭৩ হাজার ৭১৩ জন। এর ২০.৮% শতাংশের বয়স ১৪ বছরের নিচে, ৭১.৪% শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে এবং ৭.৭ শতাংশের বয়স ৬৫র উপরে। ২০০৬ সালে চীনের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল .৫৯%।

ভাষা

চীনের ভাষাজাতিগত গোষ্ঠীসমূহের মানচিত্র, ১৯৯০

চীনের সবচেয়ে বেশি কথিত ভাষাগুলি চৈনিক-তিব্বতি ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও চীনা ভাষার ভেতরে একাধিক প্রধান দল আছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কথিত ভাষাদলগুলি হল ম্যান্ডারিন চীনা ভাষা (চীনের জনসংখ্যার ৭০% এই দলের ভাষাগুলিতে কথা বলে)[২২]), (যার মধ্যে সাংহাই ভাষা পড়েছে), ইউয়ে ভাষা (যার মধ্যে ক্যান্টনীয় ভাষাতাইশানীয় ভাষা অন্তর্গত), মিন চীনা ভাষা (যার মধ্যে হোক্কিয়েনতেওচিউ উপভাষা অন্তর্গত), সিয়াং চীনা ভাষা, গান চীনা ভাষা, এবং হাক্কা চীনা ভাষা। আদিবাসী সংখ্যালঘু গোষ্ঠীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত অ-চৈনিক ভাষাগুলির মধ্যে রয়েছে চুয়াং ভাষাসমূহ, মঙ্গোলীয় ভাষা, তিব্বতি ভাষা, উইগুর ভাষা, হমং ভাষা এবং কোরীয় ভাষা[২৩] আদর্শ বা প্রমিত চীনা ভাষা ম্যান্ডারিন ভাষাদলের বেইজিং উপভাষার উপর ভিত্তি করে সৃষ্ট হয়েছে। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের জাতীয় ভাষা এবং বিশাল দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভাবে আদানপ্রদানের জন্য লিঙ্গুয়া ফ্রাংকা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।[২৪]

হাজার বছর ধরে ধ্রুপদী চীনা ভাষা লিখিত চীনা ভাষার আদর্শ মানদন্ড ছিল। এর ফলে চীনের বিভিন্ন পরস্পর-অবোধগম্য ভাষা ও উপভাষার বক্তারা নিজেদের মধ্যে লিখিত মাধ্যমের সাহায্যে যোগাযোগ করতে পারতেন। মিং রাজবংশের আমলে লেখা উপন্যাসগুলিতে ম্যান্ডারিন ভাষার উপর ভিত্তি করে যে লিখিত ভাষার মানদন্ডটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তার নাম পাইহুয়া। এই আদর্শটিকেই ব্যাপকভাবে পরিমার্জন করে ২০শ শতকের শুরুতে জাতীয় আদর্শের মর্যাদা দেওয়া হয়। আজও চীনের উচ্চবিদ্যালয়গুলির পাঠ্যক্রমে ধ্রুপদী চীনা ভাষা শিক্ষা দেওয়া হয়, ফলে বহু চীনাভাষী লোক এটি বুঝতে পারে। ১৯৫৬ সালে চীন সরকার সরলীকৃত চীনা অক্ষরের প্রবর্তন করেন। বর্তমানে এটিই চীনা ভাষার আদর্শ সরকারী লিপি, যা চীনের মূল ভূখন্ডে ব্যবহার করা হয়। ঐতিহ্যবাহী চীনা অক্ষরগুলি আর ব্যবহৃত হয় না।

নগরায়ন

জাতীয় প্রতীকসমূহ

জাতীয় পতাকা

চীনের জাতীয় পতাকাটি পাঁচটি তারকাখচিত একটি লাল পতাকা। এর দৈর্ঘ্য ও উচ্চতার অনুপাত হল ৩:২। চীনের জাতীয় পতাকার লাল রঙ বিপ্লবের নিদর্শন। পতাকাতে পাঁচটি হলুদ রঙের পাঁচ-কোনা তারকা আছে, যাদের মধ্যে একটি বড় ও মূল তারকা। চারটি ছোট তারকার প্রত্যেকটির একটি কোনা মূল তারকার কেন্দ্রস্থলের দিকে মুখ করে আছে। এটি কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী জনগণের ঐক্যের নিদর্শন।

জাতীয় প্রতীক

জাতীয় পতাকা, থিয়েন আনম্যান, চাকা আর ধানের শীষ নিয়ে গণচীনের জাতীয় প্রতীক গঠিত। চীনা সরকারের মতে এটি ৪ঠা মে আন্দোলনের পর চীনা জনগণের চালিত নতুন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী সংগ্রাম আর শ্রমিকশ্রেণীর নেতৃত্বাধীন শ্রমিক-কৃষক মৈত্রীর ভিত্তিতে গঠিত জনগণের গণতান্ত্রিক একনায়কত্বের নয়া চীনের প্রতিষ্ঠা

জাতীয় সঙ্গীত

গণচীনের জাতীয় সঙ্গীত মূলত এক বীরবাহিনীর অগ্রযাত্রার গান। গানটি ১৯৩৫ সালে রচনা করা হয়। গানের কথাগুলো লিখেছেন নাট্যকার থিয়েনহান, আর এটিতে সুর দিয়েছেন চীনের নতুন সংগীত-আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা নিয়ের আর। গানটি প্রকৃতপক্ষে সংগ্রামের অগ্রগামী সন্তানেরা নামক চীনা চলচ্চিত্রের থিম-সঙ্গীত। ১৯৩১ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর জাপান চীনের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের তিনটি প্রদেশ দখল করে। চীনারা জাপানিদের হটাতে যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে, চলচ্চিত্রটিতে সে কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাওয়ার পর এই সঙ্গীতটি সমগ্র চীনে মুক্তিসঙ্গীত হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে।

১৯৪৯ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর চীনা জনগণের রাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে গণচীনের জাতীয় সঙ্গীত আনুষ্ঠানিকভাবে তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বীরবাহিনীর অগ্রযাত্রার গানটিকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন