সহকারী অধ্যাপক
০৮ নভেম্বর, ২০২০ ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডার : বিবিধ প্রসঙ্গ
মো. অক্তারুজ্জামান,
বি এ (সম্মান), এম এ (বাংলা) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রভাষক (বাংলা) বিভাগ
মনিং গ্লোরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সাভার সেনানিবাস, ঢাকা।
সাহিত্য জীবনের প্রতিচ্ছবি ও সমাজের দর্পণ স্বরূপ। একটি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা ও চিন্তা-চেতনা প্রতিফলিত হয় সাহিত্যে। সাহিত্যের সাথে মানব জীবন ও সমাজের যোগাযোগ খুবই ঘনিষ্ঠ। জীবন ও সমাজকে নিয়েই সাহিত্য। জন্মগতভাবে প্রতিটি মানুষ সাহিত্যিক, হোক সে শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত, জ্ঞানি কিংবা মূর্খ। গ্রাম-বাংলার মাঠে-ঘাটে, আলো-বাতাসে, পথে-প্রান্তরে, শহর-নগর-বন্দরে , প্রত্যেক পরতে পরতে সাহিত্যের ভাণ্ডার মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে। গল্প, কবিতা, নাটক, উপন্যাস, রূপকথা ও প্রবন্ধের সংলাপ অনেকের মুখে শোভাপায়। স্বাধীনতা লাভের পর আমাদের দৃষ্টি অনেকখানি নিজের ঘরের দিকে, আত্ম-আবিষ্কারের দিকে পড়েছে। এটা অত্যন্ত সুখের কথা। কিন্তু সাহিত্যের জগৎ দেশ বা জাতির ঐতিহ্যানুগ হলেও মানোত্তীর্ণ সাহিত্য রচনায় আমরা এখনও উদাসীন। আশার বাণী হচ্ছে সম্প্রতি বাংলাদেশে বাংলা সাহিত্যের প্রতি সর্বসাধারণের শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হয়েছে। এ কারণে বাংলা সাহিত্য আরও গভীরভাবে পঠন-পাঠনের ও আলোচনার সৌন্দর্যার্থেই বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডার বা গুরুত্বপূর্ণ শাখ-প্রশাখা সম্পর্কে সম্মক জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
সাহিত্য
সহিত শব্দ থেকেই সাহিত্য শব্দের উৎপত্তি। অতএব ধাতুগত অর্থ ধরলে সাহিত্য শব্দের মধ্যে একটি মিলনের ভাব দেখতে
পাওয়া যায়। সে যে কেবল ভাষায়-ভাষায় ভাবে-ভাবে গ্রন্থে-গ্রন্থে মিলন তা নয়; মানুষের সাথে মানুষের, অতীতের সাথে
বর্তমানের, দূরের সাথে নিকটের অত্যন্ত অন্তরঙ্গ যোগষাধন সাহিত্য ব্যতীত আর কিছুর দ্বারাই সম্ভবপর নয়। সাহিত্য বলতে সর্বকালের বিভিনড়ব মানুষের হৃদয়ের ভাবকে আত্মগত করে আবার তাকে পরের করে প্রকাশই সাহিত্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১) ভাষায়,“অন্তরের জিনিসকে বাহিরের, ভাবের জিনিসকে ভাষায়, নিজের জিনিসকে বিশ্বমানবের ও ক্ষণকালের জিনিসকে চিরকালের করিয়া তোলা সাহিত্যের কাজ।”
বাংলা সাহিত্য
বাংলা ভাষায় রচিত সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্য নামে পরিচিত। আনুমানিক খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলা ভাষায় সাহিত্য রচনার সূত্রপাত হয়। বৌদ্ধ দোহা-সংকলন ‘চর্যাপদ’ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন। আবিষ্কারক হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আরও তিনটি গ্রন্থের সঙ্গে চর্যাপদের গানগুলো নিয়ে সম্পাদিত গ্রন্থের নাম দেন ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় রচিত বৌদ্ধ গান দোহা। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য ছিল কাব্যপ্রধান। হিন্দুধর্ম, ইসলাম ও বাংলার লৌকিক ধর্মবিশ্বাসগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল এ সময়কার বাংলা সাহিত্য। মঙ্গলকাব্য, পদাবলি, রাময়ণ, মহাভারত ও ভাগবতে বঙ্গানুবাদ, পীরসাহিত্য, নাথ সাহিত্য, বাউল পদাবলি এবং ইসলাস ধর্মসাহিত্য ছিল এ সাহিত্যের মূল বিষয়। ঊনবিংশ শতকে বাংলার নবজাগরনের যুগে কলকাতা শহরকে কেন্দ্র করে বাংলা সাহিত্যে এক গৌরবময় ও নতুন যুগের সূচনা হয়। এ সময় ধর্মীয় বিষয়বস্তর পরিবর্তে মানুষ, মানবতাবাদ ও মানব-মনস্তত্ত্ব বাংলা সাহিত্যের প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর বাংলা সাহিত্য দুটি ধারায় বিভক্ত হয় : কলকাতা-কেন্দ্রিক পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য ও ঢাকা-কেন্দ্রিক বাংলাদেশের সাহিত্য। বর্তমানে বাংলা সাহিত্য বিশ্বের একটি অন্যতম এবং সমৃদ্ধ সাহিত্যধারা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
কবি ও কবিতা
কবি : বাহিরের জগতের রূপ-রস-গন্ধ-স্পর্শ-শব্দ বা আপন মনের ভাবনা-বেদনা কল্পনাকে যে-লেখক অনুভূতি-স্নিগ্ধ ছন্দোবদ্ধ তনুশ্রী দান করতে পারেন, তাঁকেই আমরা কবি নামে বিশেষিত করি। অনেকে বলেন যে, যিনি জগতের একখানি যথাযথ স্বাভাবিক চিত্রপট এঁকে দিতে পাররেন, তিনিই যথার্থ কবি। গানে গানে যাঁরা ব্যক্তি বা দেশের মহিমা প্রচার করে তাঁদেরকে চারণ কবি বলে। আবার, জন্ম থেকে কবিত্বশক্তিযুক্ত ব্যক্তি বা যাঁর মধ্যে শিক্ষিত পটুত্বের চেয়ে স্বতঃস্ফূর্ততাই বেশি তাকে স্বভাব কবি বলে।
কবিতা : অন্যদিকে, সময়বিশেষে কোনো একটি বিশেষ সূত্রকে অবলম্বন করে কবির আনন্দ-বেদনা যখন ছন্দোবদ্ধ ভাষায় প্রকাশ পায়, তখনই কবিতার জন্ম হয়।
William Wordswort h(1770-1850) এর ভাষায়, ‘Poetry is the spontaneous overflow of powerful feeling.’ কবিতা প্রধানত দুই প্রকার। মন্ময় বা ব্যক্তিনিষ্ঠ ও তন্ময় বা বস্তুষ্ঠি কবিতা। কবি যখন নিজের অন্তর অনুভূতি, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, ভাবনাচিন্তা বা বহির্গত অনুভূতি তাঁর কাব্যের সামগ্রীমাত্র রূপে গ্রহণ করে আত্মপ্রকাশ করেন, তখন তাঁর সৃষ্টকর্মকে মন্ময় বা ব্যক্তিনিষ্ঠ কবিতা বলে। তন্ময় কবিতার মধ্যে ভক্তিমূলক, স্বদেশপ্রীতিমূলক, চিন্তামূলক, প্রেমমূলক, শোকগীতি, লঘু বৈঠকি-কবিতা, প্রকৃতিবিষয়ক, সনেট, স্তোত্র অন্যতম। অন্যদিকে, কবি যখন বস্তুজগৎকে যথাযথ রূপে প্রকাশ করেন, তখন আমরা তাকে তন্ময় বা বস্তুনিষ্ঠ কবিতা নামে অভিহিত করতে পারি। যেমন- গীতিকবিতা, মহাকাব্য, নীতিকবিতা, রূপক ব্যঙ্গকবিতা, লিপিকবিতা ইত্যাদি।
প্রসঙ্গμমে এখানে সনেট ও মহাকাব্য আলোকপাত করা যাক। সনেট (চতুর্দশপদী কবিতা) মন্ময় কবিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা ইতালীয় Sonnetto থেকে ইংরেজি Sonnet শব্দের উৎপত্তি। এর অর্থ Little sound বা ‘মৃদু ধ্বনি’। সনেটের প্রবর্তক ইতালীয় কবি Francesco Petrarca (1304-1374) । বাংলা সাহিত্যে ইতালীয় সাহিত্যের সেই মাধ্যমটি প্রথমে আত্মস্থ ও পরে প্রণয়ন ও প্রবর্তন করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। মহাকাব্য অতিশয় দীর্ঘ কাহিনী-কবিতা। মহাকাব্য রচিত হয় যুদ্ধবিগ্রহের কোনো কাহিনী অবলম্বন করে। মহাকাব্যের মূল লক্ষ্য গল্প বলা, তবে তাকে গদ্যে না লিখে পদ্যে লিখতে হয়। বাংলা ভাষায় সার্থক মহাকাব্যের চূড়ান্ত সফল রূপ প্রকাশ করেছেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর ‘মেঘনাদ-বধ’ কাব্যে।
নাটক
বিশ্বসাহিত্যে নাটক সর্বাপেক্ষা প্রাচীন যা সরাসরি সমাজকে ও পাঠকগোষ্ঠীকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়। সং¯‥ৃত আলঙ্কারিকবৃন্দ নাট্যসাহিত্যকে কাব্যসাহিত্যের মধ্যে স্থান দিয়েছেন। তাঁদের মতে কাব্য দুই প্রকার- দৃশ্যকাব্য ও শ্রব্যকাব্য। নাটক দৃশ্য ও শ্রব্যকাব্যের সমন্বয়ে রঙ্গমঞ্চের সাহায্যে গতিময় মানবজীবনের প্রতিচ্ছবি আমাদের সম্মুখে মূর্ত করে তোলে। নাটকের লক্ষ্য পাঠক নয়, নাটকের লক্ষ্য সর্বকালেই দর্শকসমাজ। বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাটকের নাম তারাচরণ শিকদারের ‘ভদ্রার্জুন। প্রথম সার্থক নাটক মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৪) রচিত ‘শর্মিষ্ঠা’। শ্রেণিবিন্যাসের বিবেচনায় নাটককে বহু শ্রেণিতে বিভক্ত করা সম্ভব। যেমন ধ্রুপদী (বা ক্ল্যাসিক্যাল) নাটক, রোম্যান্টিক নাটক, কাব্যধর্মী নাটক, সামাজিক নাটক, চুড়ান্তমূলক নাটক, ঐতিহাসিক নাটক, পৌরাণিক নাটক, প্রহসন। ট্র্যাজেডি, কমেডি ও প্রহসন প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে স্পষ্ট করা যাক।
ট্র্যাজেডি নাটক : রঙ্গমঞ্চে নায়ক -নায়িকার গতিমান জীবন-কাহিনীর দৃশ্য পরম্পরা উপস্থাপন করে যে নাটক দর্শক হৃদয়ে উদ্রেক, ভীতি ও করুণার সঞ্চার করে তার মনে করুণ রসের আনন্দ সৃষ্টি করে, তাকে ট্র্যাজেডি নাটক বা বিয়োগান্তক নাটক বলে।
কমেডি নাটক : আমাদের দৈনন্দিন জীবনের লঘু দিকটি যখন আনন্দোচ্ছলরূপে, নাটকের নায়ক-নায়িকার মিলন মাধুর্যে পরিসমাপ্তি লাভ করে, তাকে কমেডি নাটক বলে।
প্রহসন : সমাজের খারাপ-রীতি,কুসংস্কার শোধনার্থে রহস্যজনক ঘটনা সম্মলিত হাস্য-রসাত্মক প্রধান একাঙ্কিকা নাটককে প্রহসন বলে।
উপন্যাস
গ্রন্থগারের ব্যক্তিগত জীবন-দর্শন ও জীবনানুভূতি কোন বাস্তব কাহিনী অবলম্বন করে যে বর্ণনাত্মক শিল্পকর্মে রূপায়িত হয়, তাকে উপন্যাস বলে। বর্তমান যুগে পাঠক সমাজে উপন্যাসই সর্বাধিক বহুল পঠিত ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে। বাংলা ভাষায় প্রথম সার্থক ও কালজয়ী ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪)। বঙ্কিমচন্দ্রের পরে মহৎ ঔপন্যাসিক বলতে আমরা প্রধানত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে (১৮৭৬-১৯৩৮) বুঝি। একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পৃথিবীতে যেখানে যত বাঙালি রয়েছে তাদের ভিতরে শরৎচন্দ্রই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি পঠিত ও জনপ্রিয়। বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগে অবশ্য তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, বনফুল, সমবেশ বসু, শহীদুল্লা কায়সার, আবু ইসহাক, হাসান আজিজুল হক প্রমুখ বিভিনড়ব গল্পাকার ও ঔপন্যাসিক খ্যাতি অর্জন করেছেন। উপন্যাস বহু রকমের হতে পারে। যেমন- ঐতিহাসিক উপন্যাস, সামাজিক উপন্যাস, আঞ্চলিক উপন্যাস ,কাব্যধর্মী উপন্যাস, ডিটেকটিভ উপন্যাস, পত্রোপন্যাস, মনোবিশ্লেষণধর্মী উপন্যাস ও আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ইত্যাদি। বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাসের নাম, ‘আলালের ঘরের দুলাল’ লেখক প্যারিচাঁদ মিত্র। সার্থক উপন্যাসের নাম বঙ্কিমের ‘দুর্গেশ নন্দিনী’।
ছোট গল্প
সাহিত্যের যত শাখা আছে, সে-সবের মধ্যে ছোটগল্পই হচ্ছে বয়সে সর্বকনিষ্ঠ। ছোট গল্প হল বিন্দুর মাঝে সিন্ধুর গভীরতা। বিশ্ববিখ্যাত মার্কিন ছোটগল্পকার adgar Allan Poe (1809-1849) মনে করতেন, ‘যে গল্প আধ ঘণ্টা থেকে দু-এক ঘণ্টার মধ্যে পড়ে ওঠা যায় এমন কাহিনীই ‘ছোটগল্প’। ছোটগল্পের আরম্ভ ও উপসংহার নাটকীয় হওয়া চাই। বাংলা ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ তাঁর একটি কবিতায় যা বলেছিলেন সে-কথাটি ছোটগল্পের প্রকৃতি সম্পর্কে এখনও প্রামাণ্য ব্যাখ্যা হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। তিনি লিখেছিলেন:
ছোট প্রাণ, ছোট ব্যথা ছোট ছোট দুঃখ কথা
নিতান্তই সহজ সরল
সহস্র বিস্মৃতি রাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি
তারি দুচারিটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা ঘটনার ঘনঘটা
নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ
অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।
সুতরাং ছোট গল্প আকারে ছোট হলেও প্রকারে হয় বিশাল। এতে পূর্ণাবয়ব জীবনের প্রকাশ থাকে না, থাকে খণ্ডাংশের অসাধারণ মহিমা। হঠাৎ করে গল্পের আরম্ভ হয় এবং পাঠকের মনে অতৃপ্তি রেখে হঠাৎ গল্প শেষ হয়ে যায়। গল্প হয় নাটকীয় গুণসম্পনড়ব।
রূপকথা
রূপকথা শিশুতোষ কল্পকাহিনী এবং লোকসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় শাখা। মানুষ যখন বুনো, অসভ্য, তখনও সারা দিনের শেষে গুহায় বসে মশালের আলোয় দলপতি শুনিয়েছে গল্প। সন্ধেবেলা মা ঠাকুমা দিদিমার কাছে শুয়ে শুয়ে গল্প শুনেছে ছেলে মেয়েরা। রূপকথা ছোটগল্পের একটি ধরন যেখানে মূলত লোককথা ও ফ্যান্টাসি ধরনের চরিত্র, যেমন বামন, ড্রাগন,পরী, ক্সদত্য, মৎসকন্যা, কাল্পনিক ঘোড়া বা ডাইনি এবং জাদু বা জাদুমন্ত্রতুলে ধরা হয়। রূপকথা দেশ, কাল ও সমাজের বাইরের কোনো কল্পলোককে পাঠকের সামনে উপস্থিত করা হয়। এ থেকে সংশ্লিষ্ট দেশের লোকসমাজের বিশ্বাস,আচার, সংস্কার প্রভৃতি সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া যায়। রূপকথা দুই প্রকর- লৌকিক ও সাহিত্যিক। বংশপরম্পরায় প্রচলিত রূপকথাগুলি লৌকিক; আর সাহিত্যিক রূপকথা হল হলো লেখকসৃষ্ট। রূপকথার প্রথম সংগ্রাহক লালবিহারী দে (১৮২৪-১৮৯৪) তিনি ১৯৭৫ সালে Folk Tales Of Bangal নামে বাংলা রূপকথার একটি ইংরেজি অনুবাদ করেন। তাঁরই উত্তরসূরি দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার (১৮৭৭-১৯৫৭) তিনি বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রূপকথাগুলি সংগ্রহ করে ঠাকুরদাদার ঝুলি ও ঠাকুরমার ঝুলি নামে দুই খণ্ড প্রকাশ করেন।
প্রবন্ধ-সাহিত্য
গদ্যসাহিত্যে প্রবন্ধের একটি বিশিষ্ট স্থান আছে, এ বিষয়ে কারও সন্দেহ নাই। George Saintsbury (1845-1933) প্রবন্ধকে work of prose art বলে অভিহিত করেছেন। সাধারণত কল্পনা ও বুদ্ধিবৃত্তিকে অবলম্বন করে লেখক কোনো বিষয়বস্তু সম্বন্ধে যে আত্মসচেতন নাতিদীর্ঘ সাহিত্য-রূপ সৃষ্টি করেন, তাকেই প্রবন্ধ বলা হয়। প্রবন্ধের ভাষা ও দৈর্ঘ্য সম্বন্ধে ক্সবচিত্র্য থাকলেও এটা সাধারণত গদ্যে এবং নাতিদীর্ঘ করে লিখতে হবে। মনেরাখা দরকার, লেখকের সৃজনীশক্তির কোনো পরিচয় যদি পরিস্ফূটিত না হয়, তবে তেমন কোনো লেখাকে প্রবন্ধসাহিত্যের লক্ষণযুক্ত বলা যাবে না।
বাংলা সাহিত্য হচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্য। একজন বাঙালি হিসেবে বাংলা সাহিত্যের প্রতি আমাদের মমত্ববোধ ও ভালবাসা থাকা দরকার। কারণ বাংলা সাহিত্য না জানলে বাংলা ভাষার সঠিক মর্ম অনুধাবন করা যায় না। বাঙালি ভাষাভাষীদের মধ্যে অনেক জ্ঞানি গুণী কবি, লেখক, গবেষকসহ জনপ্রিয় সাহিত্যিক রয়েছেন যাঁরা বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বদরবারে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তাঁদের লেখাগুলো বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি বিশ্বসাহিত্যের সম্পদে পরিণত হয়েছে। সুতরাং আমরা বুকে হাত রেখে সমস্বরে বলি আমরা বাঙালি, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা এবং সবার আগে চায় মাতৃভাষার গাঁথুনি।
৩
৪ মন্তব্য