প্রধান শিক্ষক
১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০৬:৩৯ অপরাহ্ণ
প্রধান শিক্ষক
অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ
ক্লাস্টারঃজামসী
উপজেলাঃশ্রীমঙ্গল,জেলাঃমৌলভীবাজার।
►শিক্ষাখাতে অর্জন
শিক্ষাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেবার জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত
পদক্ষেপসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো- শতভাগ ছাত্রছাত্রীর মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ
কার্যক্রম। নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নেবার জন্য প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত
চালু করা হয়েছে উপবৃত্তি ব্যবস্থা। বর্তমান ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে
নতুন করে জাতীয়করণ করেছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষকের চাকরি সরকারীকরণ করা হয়েছে।
১৯৯০ সালে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিশুর শতকরা হার ছিল ৬১, বর্তমানে
তা উন্নীত হয়েছে শতকরা ৯৭.৭ ভাগে। শিক্ষার সুবিধাবঞ্চিত গরিব ও মেধাবী
ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে “শিক্ষা সহায়তা
ট্রাস্ট আইন, ২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছে, গঠন করা হয়েছে "শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট”।
►শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ার হার
বর্তমানে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ১৭ শতাংশ। ২০১৯ সালে প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার ছিল ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ২০২০ সালে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।এর ফলে শিক্ষার হারও বৃদ্ধি পেয়েছে।
►স্বাস্থ্যসেবায় সাফল্য
শিশুদের টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম আদর্শ দেশ হিসেবে তার স্থান করে নিয়েছে। স্বাস্থ্যখাতকে যুগোপযোগী করতে প্রণয়ন করা হয়েছে “জাতীয় স্বাস্থ্য নীতিমালা-২০১১”। তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গড়ে তোলা হয়েছে ১২ হাজার ৭৭৯টি(১) কমিউনিটি ক্লিনিক। ৩১২টি(২) উপজেলা হাসপাতালকে উন্নীত করা হয়েছে ৫০ শয্যায়। মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপতালগুলোতে ২ হাজার শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার এবং জন্মহার হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ১৯৯০ সালে নবজাতক মৃত্যুর হার ১৪৯ থেকে নেমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৫৩তে(৩)। স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবার লক্ষ্যকে সামনে রেখে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন ১২টি(৪) মেডিকেল কলেজ, নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৪৭ হাজারেও বেশি জনশক্তি।
►নারী ও শিশু উন্নয়নে অর্জন
নারীর সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে “জাতীয় নারী উন্নয়ন
নীতিমালা-২০১১”। নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত চালু করা হয়েছে উপবৃত্তি কার্যক্রম।
►নারীর ক্ষমতায়নে অর্জন
নারী বঞ্চনার তিক্ত অতীত পেরিয়ে বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নে অনেকদূর
এগিয়েছে। পোশাকশিল্পে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ দেশ। আর এই শিল্পের
সিংহভাগ কর্মী হচ্ছে নারী। ক্ষুদ্রঋণ বাংলাদেশে গ্রামীণ উন্নয়নে ও নারীর ক্ষমতায়নে
অভূতপূর্ব অবদান রেখেছে। আর ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের মধ্যে ৮০% এর উপর নারী। বাংলাদেশ
সরকার নানাভাবে নারী উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা দিয়ে এসেছে।
►প্রবাসী শ্রমিকদের উন্নয়নে অর্জন
বর্তমানে বিশ্বের ১৫৭টি দেশে বাংলাদেশের ৮৬ লক্ষেরও অধিক শ্রমিক
কর্মরত আছে। বিদেশে শ্রমিক প্রেরণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ স্থাপন করেছে অনন্য
দৃষ্টান্ত।
►যুদ্ধাপরাধীর বিচার: চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে জাতি আজ কলঙ্কমুক্তির দ্বারপ্রান্তে।
►ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন
ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দিতে বাংলাদেশ সরকার
নিয়েছে যুগান্তকারী সব পদক্ষেপ। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে প্রযুক্তির ব্যবহারের
মাধ্যমে সরকারি সেবা পৌঁছে দেবার অভিপ্রায়ে দেশের ৪৫৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপন করা
হয়েছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিশাল ন্যাশনাল ওয়েব
পোর্টাল। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এ পোর্টালের
সংখ্যা প্রায় ২৫০০০। দেশের সবক’টি উপজেলাকে আনা হয়েছে
ইন্টারনেটের আওতায়। টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে
বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ১২ কোটি ৩৭ লক্ষ(১) এবং
ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ৪ কোটি ৪৬ লক্ষে(২) উন্নীত হয়েছে। সেবা প্রদান প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে চালু করা হয়েছে
ই-পেমেন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিং।
►কৃষিতে কৃতিত্ব এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন
কৃষিখাতে অভূতপূর্ব কিছু সাফল্যের জন্য বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ বারবার আলোচিত হয়েছে।প্রায় ১৬ কোটি জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে ধানের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ মেট্রিক টন। প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম আবিষ্কার করেছেন পাটের জিনোম সিকুয়েন্সিং। সারা বিশ্বে আজ পর্যন্ত মাত্র ১৭ টি উদ্ভিদের জিনোম সিকুয়েন্সিং হয়েছে, তার মধ্যে ড. মাকসুদ করেছেন ৩টা। তাঁর এই অনন্য অর্জন বাংলাদেশের মানুষকে করেছে গর্বিত।
►বিদ্যুৎখাতে সাফল্য
বিদ্যুৎখাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে জাতীয়
গ্রিডে অতিরিক্ত ৬ হাজার ৩২৩ মেগাওয়াট(১) বিদ্যুৎ সংযোজন, যার ফলে বিদ্যুতের সুবিধাভোগীর
সংখ্যা ৪৭ শতাংশ থেকে ৬২ শতাংশে(২) উন্নীত হয়েছে। একই সাথে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ২২০ কিলোওয়াট
ঘণ্টা থেকে বেড়ে ৩৪৮ কিলোওয়াট(৩) ঘণ্টায় দাঁড়িয়েছে। নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে ৩৫ লক্ষ
গ্রাহককে।নির্মাণ করা হয়েছে নতুন ৬৫টি(৪) বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
►শিল্প ও বাণিজ্য খাতে অর্জন
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের পাশাপাশি প্রসার ঘটেছে আবাসন, জাহাজ, ঔষুধ, ও
প্রক্রিয়াজাতকরণ খাদ্য শিল্পের। বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের তালিকায় যোগ হয়েছে
জাহাজ, ঔষুধ এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রী।
বাংলাদেশের আইটি শিল্প বহির্বিশ্বে অভূতপূর্ব সুনাম কুড়িয়েছে।
►সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাংলাদেশের অর্জন
হতদরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি বিস্তৃত করতে বয়স্ক,
বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত ও দুঃস্থ মহিলা ভাতা,
অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃকালীন ভাতাসহ
ভাতার হার ও আওতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০০৮-২০০৯ সালে এই খাতে মোট বরাদ্দ
ছিল ১৩ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা, বর্তমানে এ কার্যক্রমে বরাদ্দের
পরিমাণ ২৫ হাজার ৩৭১ কোটি(১) টাকা। খানা আয়-ব্যয় জরিপ, ২০১০ এর সমীক্ষায় দেখা
গেছে মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৪.৫% সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতাভুক্ত হয়েছে।
►ভূমি ব্যবস্থাপনায় অর্জন
ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করতে ৫৫টি জেলায় বিদ্যমান মৌজা ম্যাপ
ও খতিয়ান কম্পিউটারাইজেশনের কাজ সম্পন্ন করার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। ভূমির
পরিকল্পিত ও সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে মোট ২১টি জেলার ১৫২টি উপজেলায় ডিজিটাল
ল্যান্ড জোনিং ম্যাপ সম্বলিত প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রণীত হয়েছে “কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন, ২০১২ এর খসড়া”।
►মন্দা মোকাবেলায় সাফল্য
মন্দার প্রকোপে বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন বিপর্যস্ত ছিল বাংলাদেশ তখন
বিভিন্ন উপযু্ক্ত প্রণোদনা প্যাকেজ ও নীতি সহায়তার মাধ্যমে মন্দা মোকাবেলায় সক্ষমই
শুধু হয়নি, জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার গড়ে ৬
শতাংশের বেশি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির
শ্লথ ধারার বিপরীতে আমদানি-রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে
রেমিট্যান্সের পরিমাণ। ঋণ পরিশোধে সক্ষমতার মানদণ্ডে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের সমকক্ষতা অর্জিত হয়েছে।
গড় আয়ু বৃদ্ধি
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বিবিএস’র তথ্য অনুসারে গড় আয়ু বেড়ে ৭২ দশমিক ৬ বছর দাঁড়িয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালের হিসাবে গড় আয়ু ছিল ৭২ দশমিক ৩ বছর।
►‘বঙ্গবন্ধু ১’ স্যাটেলাইট
বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ মহাকাশে ‘বঙ্গবন্ধু ১’ স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে।
►আইসিটি খাতে রফতানি: অসম্ভব মনে হলেও সত্য, বাংলাদেশ আইসিটি খাতে রফতানি শুরু করেছে। ২০১৯ সালে আইসিটি খাতে রফতানি থেকে আয় হয়েছে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
►রেমিট্যান্স: ২০১৯ সালে ১৬০০ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স আয় হয়েছে।
►বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ: দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
►লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মতে লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ
ইমার্জেন্সি সার্ভিস ৯৯৯: যে কোনো সময় জরুরি ভিত্তিতে সেবা পেতে আধুনিক বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও চালু হয়েছে ইমার্জেন্সি সার্ভিস “৯৯৯” কল সেবা।
►জনগণের জন্য সরকারি কল সেবাসমূহ:
৯৯৯ (জাতীয় জরুরি সেবা),১০৬ (দুদকের
হটলাইন)
১০৯ (নারী নির্যাতন বা বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ
কল সেন্টার)
৩৩৩ (সরকারি তথ্য সেবা),১৬২৬৩ (স্বাস্থ্য
বাতায়ন)
১০৯০ (দুর্যোগের আগাম বার্তা),১০৫ (জাতীয়
পরিচয়পত্র তথ্য কল সেন্টার),১৬১০৮ (মানবাধিকার সহায়ক কল সেন্টার)
►মেট্রোরেল:
উত্তরা থেকে মতিঝিল
পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ।
থাকবে ১৬টি
স্টেশন।প্রতি ঘণ্টায় যাত্রী পরিবহন করবে প্রায় ৬০ হাজার।
►পদ্মা সেতু:
স্বপ্নের পদ্মা সেতু নিজেদের অর্থায়নে দৃশ্যমান হয়েছে। গত ১০ ডিসেম্বর সেতুর সর্বশেষ স্টিলের স্প্যান বসানো হয়েছে। এই সেতুর নদী অংশের মোট দৈর্ঘ্য হলো ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। সেতুর উপরের অংশ দিয়ে চলবে যানবাহন আর নিচ দিয়ে ট্রেন। উপরের অংশ হলো ২২ মিটার, যেখানে ৪ লেনে বিভক্ত হবে সড়ক। এই সেতু উন্মুক্ত হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের এক যুগান্তকারী উন্নয়ন হবে। বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং রেলের সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন বিপ্লব ঘটাবে এই সেতু।
►রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: দুই হাজার চারশ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে পাবনার রূপপুরে রাশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে সরকার।
►রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: মোংলা-খুলনা মহাসড়কের পাশে রামপালে প্রায় ১৮৩৪ একর জমির ওপর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ করছে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড। এই প্রকল্পে ব্যয় হবে ১৬ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছরের শেষে রামপাল থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে আসতে শুরু হবে।
►পায়রা বন্দর: দেশের একমাত্র সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে চাপ কমাতে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় রাবনাবাদ চ্যানেলে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। হয়েছে। ২০২৩ সালের মধ্যে ১৬ মিটার গভীরতায় চ্যানেল ড্রেজিং সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ বন্দর সুবিধা গড়ে তোলা হবে
►মেট্রোরেল: ঢাকার যানজট কমাতে মেট্রোরেলের মতো বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। অল্প সময়ের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পকে মোট আট প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছিল। এরমধ্যে ৫ ও ৬ প্যাকেজের আওতায় মতিঝিল পর্যন্ত মোট ৭টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি শেষ হলে প্রতি ৪ মিনিট পরপর ১ হাজার ৮০০ যাত্রী নিয়ে চলবে মেট্রোট্রেন। ঘণ্টায় চলাচল করতে পারবেন প্রায় ৬০ হাজার যাত্রী। এই পথে ২০ কিলো পাড়ি দিতে সময় লাগবে মাত্র ৪০ মিনিটের মতো।
►করোনা মহামারি মোকাবিলা: একবিংশ শতকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বর্তমানে করোনাভাইরাস মোকাবিলা করা। এই ভাইরাস মোকাবিলা না করতে পারলে মানবসভ্যতা বিপন্ন হতে পারে। দ্বিতীয় ধাক্কায় এই ভাইরাস অনেক দেশে মহামারির আকার ধারণ করেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজধানী থেকে একেবারে গ্রাম পর্যন্ত কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যার ফল আমরা ভোগ করছি। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের মৃত্যুর হার অনেক কম। দেশে ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার পর এটির সংক্রমণ রোধে দেশ লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এ সময় স্বল্প আয়ের মানুষের স্বাস্থ্য, অন্ন ও অর্থনীতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩১ দফা নির্দেশনা, প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা, ১ কোটি রেশন কার্ডের বিপরীতে খাদ্য সহায়তা, প্রায় সাড়ে চার কোটি জনগণকে ত্রাণ সহায়তাসহ ৩০০ কোটি টাকার কৃষি উপকরণ সরবরাহ করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী চিকিৎসা সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করা ও চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের ট্রেনিংয়ের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ১টি আরটি পিসিআর ল্যাব থেকে পর্যায়ক্রমে ৬৮টি ল্যাব স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে ভেন্টিলেটর, হাই-ফ্লো ন্যাসাল ক্যানুলা, অক্সিজেন, আইসিইউ বেডসহ আইসোলেশন সেন্টার, কোভিড চিকিৎসায় ডেডিকেটেড হাসপাতাল সংখ্যা বৃদ্ধি
করাহচ্ছে। করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দেওয়া
হয়েছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনায় তার নেওয়া পদক্ষেপ জাতিসংঘ, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম,
বিশ্ব
স্বাস্থ্য সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী ফোর্বসসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে
প্রশংসিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
►গৃহহীনদের ঘর প্রদান: জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সরকার গৃহহীনদের আধাপাকা ঘর নির্মাণের একটি বড় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এতে সারা দেশের ৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৩টি ঘরহীন পরিবারকে নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। আগামী বছর ১৭ মার্চের মধ্যে এসব পরিবারের কাছে ঘরগুলো হস্তান্তর করা হবে। দেশকে আরও গতিশীল করতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। তিনি দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলেছেন। ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা এখন প্রধান লক্ষ্য তাঁর। সেটির জন্য দেশের মানুষের উচিত সরকারের সফলতার পথে সহযোগিতা করা। যেন আওয়ামী লীগ সরকার দেশ ও জাতির উন্নয়নে আরও বেশি কাজ করতে পারে। সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হোক জাতির পিতার কন্যার নেতৃত্বে মাধ্যমে, এটিই আমাদের কাম্য।
►প্রবৃদ্ধি: ২০21 সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে 6.8%।
সব মিলিয়ে প্রগতিশীল আধুনিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে অতীতের পুঞ্জিভূত সমস্যা, চরম অব্যবস্থাপনা এবং বিশ্বমন্দার পটভূমিতে বাংলাদেশ সরকার দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে যে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে তা প্রতিটি ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান।
৭১
১৪৫ মন্তব্য