Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৪ অক্টোবর, ২০২১ ০৮:৩১ অপরাহ্ণ

জানাযার নামাজের নিয়ম এবং জানাযার নামাজের দোয়াঃ

 

 জানাযার নামাজের নিয়ম এবং জানাযার নামাজের দোয়াঃ

 মুসলমানদের মৃত দেহকে শরীয়ত সম্মতভাবে গোসল দিয়ে পরিস্কার কাপড় দিয়ে কাফন পরিয়ে দাফন করিবার পৃর্বে তার আত্না তথা রুহের মাগফেরাতের জন্য জামাতের সাথে মহান আল্লাহতালার নিকট যে দোয়া পাঠ করতে হয় , তাকে জানাযার নামাজ বলে । এটা ফরযে কেফায়া অর্থাৎ যে সব লোক মৃত্যুর সংবাদ শুনবে , তাদের মধ্যে কতক লোক ঐ নামাজ পড়লে শ্রবনকারীদের সকলের ফরয আদায় হয়ে যাবে । কাফন পরিয়ে উত্তর দিকে মাথা রেখে লাশকে ইমামের সন্মুখে রাখবে ।ইমাম ও ওলী লাশকে সন্মুখে রেখে এর সিনা বরাবর দাঁড়াবেন এ নামাজে রুক , সিজদা ও তাশাহহুদ পড়তে হয় না । কেবল চার তাকবীরে নামায শেষ করতে হয় । ইমাম ও মুক্তাদিগণ সকলেই জানাযার নিয়ত করে কাধ পর্যন্ত হাত উঠিয়ে তাকবীরে তাহরীমা বাধবে ।

জানাজার নামাজের ফযিলত

রাসূলে কারিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের জানাজায় শরীক হয়ে নামাজ পড়ে এবং তাকে কবরও দেয় সে দুই কীরাত নেকী পায়। প্রত্যেক কীরাত উহুদ পাহাড় সমান নেকী। আর যে ব্যক্তি শুধু জানাজার নামাজ পড়ে এবং মাটি দেয় না সে এক কীরাত নেকী পাবে।’ (সহীহ বুখারী ও মুসলিম) রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘কোনো মুসলমানের জানাজায় এমন চল্লিশজন লোক যারা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক করেননি, যদি শরীক হয়ে ঐ লাশের জন্য দোয়া করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাদের সুপারিশ নিশ্চয়ই কবুল করবেন।’ (সহীহ মুসলিম ও মিশকাত)

উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- ‘যখন কোনো মুসলমানের ইন্তেকাল হয় এবং একশ জনের কাছাকছি সংখ্যক মুসলমান তার জানাজার নামাজ পড়ে ও তার জন্য সুপারিশ করে তো এই সুপারিশ কবুল করা হয়’। (জামে তিরমীযি)

উপরোক্ত হাদিসগুলো থেকে আমরা জানাজার নামাজে শরীক হওয়াতে নিজের ও মৃত ব্যক্তির লাভের কথা জানলাম। নিম্নে জানাজার নামাজের নিয়ম ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উল্লেখ করা হল।

জানাজা নামাজের নিয়ম 

১. প্রথম তাকবীরের পর ছানা পড়া।
২. দ্বিতীয় তাকবীরের পর দরূদ পড়া। গ
৩. তৃতীয় তাকবীরের পর দুআ পড়া।
৪. চতুর্থ তাকবীরের পর সালাম ফিরানো।

হাত উঠানো : জানাজা নামাজে শুধু প্রথম তাকবীরে হাত উঠাবে এছাড়া আর কোনো তাকবীরে হাত ওঠানোর বিধান নেই।

জামাআত যেভাবে দাঁড়াবে 
জামাআতের সামনে কাফন ঢাকা লাশ রাখতে হবে। তার পেছনে লাশের সিনা বরাবর ইমাম দাঁড়াবেন। তার পেছনে মুক্তাদীরা কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবেন। সবাই মনে মনে ইচ্ছা করবেন : এই মৃত ব্যক্তির দোয়ার জন্য জানাজার নামাজ পড়ছি। মূলত এটাই হল নিয়ত।

জানাজা নামাজের নিয়ত
শুদ্ধ আরবি জানা না থাকলে জানাজার নামাজ সহ যে কোনো নামাজের নিয়তই নিজের মাতৃভাষায় করাই উত্তম। অর্থ না জেনে অশুদ্ধ আরবিতে নিয়ত করার বিশেষ কোনো তাৎপর্য নেই। কেননা নিয়ত তো হল অন্তরের ইচ্ছা ও সংকল্পের নাম। তবু আগ্রহীদের জন্য নিম্নে আরবি নিয়ত উল্লেখ করছি।

বাংলা উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উওয়াদ্দিয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবা’আ তাকবীরাতিন সালাতিল জানাযাতি ফারদিল কেফাইয়তি আছ্ছানাউ লিল্লাহি ওয়াস সালাতু আলান্নাবীয়্যি ওয়াদ্দু’আউ লিহাযাল মাইয়্যিতি ইক্বতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি-আল্লাহু আকবার।

নিয়তের অর্থ : (সংক্ষেপে) আল্লাহর জন্য আমি কেবলামুখী হয়ে চার তাকবীরের সাথে এই ইমামের পেছনে জানাজার ফরজে কেফায়া নামাজ আদায় করছি, ‘আল্লাহু আকবার।'

নিয়ত করে ইমাম উচ্চস্বরে আল্লাহু আকবার বলে অন্য নামাজের মত হাত বাঁধবে। এরপর ছানা পাঠ করবে। মুক্তাদীগণ ইমামের অনুসরণ করে একইভাবে তাকবীর দিয়ে ছানা পড়বে। এরপর ইমাম হাত উত্তোলন না করেই উচ্চস্বরে দ্বিতীয় তাকবির দিবে। এরপর নিম্নস্বরে অন্য নামাজের দরূদের ন্যায় দরূদ পড়বে। মুক্তাদীরাও ঐরূপ করবে। দরূদ শেষ করে ইমাম তৃতীয় তাকবীর দিয়ে হাত বাঁধা অবস্থাতেই মৃত ব্যক্তি প্রাপ্ত বয়স্ক হলে নিম্ন স্বরে এই দোয়া পড়বে-

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগ ফিরলি হায়্যিনা ওয়া মাইয়্যিতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়িবিনা ওয়া সাগীরিনা ওয়া কাবীরিনা ওয়া যাকারিনা ওয়া উনছানা। আল্লাহুম্মা মান আহইয়াহতাহু মিন্না, ফাআহয়িহী আলাল ইসলামি ওয়া মান তাওয়াফ ফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফফাহ আলাল ইমান।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমাদের জীবিত ও মৃত, উপস্থিত ও অনুপস্থিত, ছোট ও বড় এবং পুরুষ ও নারী সকলকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের মধ্য থেকে যাদেরকে জীবিত রেখেছেন ইসলামের উপর জীবিত রাখেন আর যাদেরকে মৃত্যু দান করেছেন তাদেরকে ঈমানের সঙ্গেই মৃত্যু দান করেন।’

মন্তব্য করুন