সহকারী শিক্ষক
০৬ নভেম্বর, ২০২১ ১১:৪২ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
পুষ্টিকর সবজিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আলু। কিন্তু আলু খেলেও বেশিরভাগ মানুষই এর খোসা ফেলে দেন। তবে এর উপকারিতা জানলে কেউ আর নষ্ট করবেন না আলুর খোসা। লাইফস্টাইল বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী জেনে নেওয়া যাক, আলুর খোসায় রয়েছে কী কী স্বাস্থ্য উপকারিতা।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে আলু। আর এর খোসা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে অত্যন্ত সহায়ক। আলুর খোসা পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের একটি উৎকৃষ্ট উৎস। এই খনিজগুলোই মূলত, শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।
হার্ট ভালো রাখে
বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্ট ভালো রাখতে আলু নাকি ম্যাজিকের মতো কাজ করে। আর আলুর খোসায় প্রভাবশালী ফেনোলিক যৌগ তথা ক্লোরোজেনিক এবং গ্যালিক অ্যাসিড উপস্থিত। এগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতো কাজ করে। তাই এই যৌগগুলো ফ্রি রেডিকেলের কারণে হওয়া হার্টের ক্ষতি প্রতিরোধ করে এবং হার্ট ভালো রাখতেও সহায়তা করে।
হাড় মজবুত করে
আলুর খোসায় রয়েছে আয়রন, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, কপার এবং জিঙ্ক। যা হাড়কে মজবুত করতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া, শরীরের প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ ম্যাগনেসিয়াম হাড়েই উপস্থিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত আলুর খোসা খেলে হাড়ের ঘনত্ব বজায় থাকে এবং নারীদের মেনোপজের পরে অস্টিওপরোসিস হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
ওজন কমায়
অনেকেরই ধারণা, আলু খেলে ওজন বাড়ে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ম মেনে আলু খেলে ওজন মোটেই বাড়ে না বরং কমে যায় ওজন। আর আলুর খোসা অত্যন্ত পুষ্টিকর। এটি ভিটামিন বি, সি, পটাসিয়াম এবং ফাইবার সমৃদ্ধ। তবে এতে ফ্যাটের পরিমাণ কম থাকে। তাই এটি নিয়মিত খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। পাশাপাশি, দীর্ঘ সময় পেট ভর্তি রাখতে এবং ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ করতেও সহায়তা করে।
অ্যালার্জি প্রতিরোধ
আলুর খোসা ফ্ল্যাভোনয়েডের একটি প্রাকৃতিক উৎস। এটি এক ধরনের ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহবিরোধী রূপে কাজ করে। এটি সংক্রমণ এবং অ্যালার্জির মতো বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতেও সহায়তা করে।
ক্ষত নিরাময়
গবেষণায় দেখা গেছে, আলুর খোসা ক্ষত নিরাময় করতেও অত্যন্ত সহায়ক। আলুর খোসায় থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি ব্যাকটেরিয়ার অতিরিক্ত বৃদ্ধি প্রতিরোধ করতেও সহায়তা করে।
ব্যাকটেরিয়া-ছত্রাক সংক্রমণ প্রতিরোধ
আলুর খোসায় শক্তিশালী অ্যান্টি- মাইক্রোবিয়াল যৌগ, তথা টারপেনস এবং ফ্ল্যাভোনয়েড বিদ্যমান। এটি বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। এছাড়া, আলুর খোসা ব্যাকটেরিওস্ট্যাটিক প্রকৃতির হওয়ায় এটি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পেও নিরাপদ বলে ব্যবহার করা হয়। এমনকি এটি প্রাকৃতিক সংরক্ষক হিসেবেও কাজ করে।
অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ
আলুর খোসা আয়রন সমৃদ্ধ। এটি অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। তাছাড়া এতে, লোহিত রক্তকণিকার উৎপাদন এবং সরবরাহকে বজায় রাখতে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোও উপস্থিত। তাই নিয়মিত আলুর খোসা খেলে রক্তাস্বল্পতা সম্পর্কিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
৪
৪ মন্তব্য