Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ নভেম্বর, ২০২১ ০৭:৩২ পূর্বাহ্ণ

বুকের বাম পাশের ব্যথা কি হার্টঅ্যাটাকের লক্ষণ?

অনেককেই বলতে শোনা যায়, বুকের বাঁ পাশে মাঝে মধ্যে চিনচিনে ব্যথা করে। কিছুক্ষণ হাঁটলে হাঁপিয়ে যান। কিংবা বুক জ্যাম হয়ে আছে বলে মনে হয়। এটা কি হার্টের সমস্যার কারণে, নাকি অন্য কোনো কারণ আছে?
বুকের বাঁ পাশে ব্যথার কারণ : বুকের বাঁ পাশে ব্যথার সাধারণ চারটি কারণ হলো : ১. আইএইচডি বা হার্টের রক্তনালীতে চর্বি জমা। ২. হার্ট অ্যাটাক হওয়া। ৩. প্যানিক অ্যাটাক। ৪. গ্যাস্ট্রাইটিস বা এসিডিটির সমস্যা।
ইশকেমিক হার্ট ডিজিজ যেভাবে বুঝবেন: সাধারণত আমরা হৃদরোগ বলতে যা বুঝি, সেটাই ইশকেমিক হার্ট ডিজিজ। এই রোগে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীগুলোতে চর্বি জমে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে ব্যথা হয়। সাধারণত এই রোগ ৪০ বছরের আগে হয় না এবং যাদের হয় তাদের অধিকাংশেরই উচ্চরক্তচাপ থাকে। তাই কারো যদি বয়স ৪০-এর বেশি হয় এবং বুকে চিনচিনে ব্যথা করে এবং তার উচ্চরক্তচাপও থাকে তবে হৃদরোগের কথা মাথায় রাখতে হবে।
এ ক্ষেত্রে কিছুক্ষণ ভারী কাজ, কিংবা হাঁটাহাঁটি করলে বা সিঁড়ি বেয়ে উঠলে বুকে ব্যথা শুরু হয়। ব্যক্তি হাঁপিয়ে ওঠেন। শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। বুক ধড়ফড় করে। ব্যথা বাঁ বাহু ও ঘাড়ের দিকে যেতে পারে। সাথে ঘেমেও উঠতে পারে শরীর। কিছুক্ষণ পর এই ব্যথা চলে যাবে। এমনটা দুই-এক দিন পরপর হতে পারে।
আবার অনেক সময় বেশি খেলেও তীক্ষè একটা ব্যথা হয়। এর কারণ হলো খাওয়ার পরপরই ভারী কাজ করা কিংবা হাঁটাহাঁটি করা। তখন হার্টের অধিক পরিমাণ রক্ত সঞ্চালনের দরকার হয়। তবে যাদের ইশকেমিক হার্ট ডিজিজ রয়েছে তাদের রক্ত সঞ্চালন কম হয়। এ কারণেও ব্যথা হয়।
করণীয় : হার্ট বিশেষজ্ঞ তথা কার্ডিওলজিস্ট দেখাতে হবে। ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, রক্তে চর্বির পরিমাণ দেখতে হবে। যদি প্রেশার বেশি থাকে তবে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেডিসিন নিতে হবে এবং হার্টের ওপর চাপ কমানোর ওষুধও খেতে হবে। কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ এবং রক্ত চলাচল সচল রাখার ওষুধও খাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। সেইসাথে চর্বিজাতীয় খাবার, লবণ, ধূমপান, অ্যালকোহল ইত্যাদি বাদ দিতে হবে।
হার্টঅ্যাটাকজনিত বুক ব্যথা : সাধারণত ৪০ বছরের নিচে হার্টঅ্যাটাক হতে দেখা যায় না। তবে এর ব্যতিক্রম এখন ঢের দেখা যাচ্ছে। যাদের হার্ট অ্যাটাক হয়, তাদের সাধারণত আগে থেকেই হাই ব্লাডপ্রেশার কিংবা রক্তনালীজনিত ইশকেমিক হার্ট ডিজিজ থেকে থাকতে পারে। অধিকাংশ হার্ট অ্যাটাক রোগীর ইতিহাস নিয়ে জানা যায়, যেদিন হার্ট অ্যাটাক হয়েছে সেদিন কিংবা আগের দিন তারা প্রেশারের ওষুধ খাননি। এ কারণেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এমন অনেকে আছেন, তাদের যে উচ্চরক্তচাপ বা আগে থেকে হৃদরোগ আছে, তারা তা ডাক্তারের কাছে না যাওয়ার আগে জানতেই পারেন না। তাই অনেকে বলে, সকালে সুস্থ দেখলাম হঠাৎ ঘুরে পড়ে মরে গেল মানুষটা!
হার্টঅ্যাটাকের ব্যথা যেভাবে বুঝবেন : হঠাৎ খাবারের পর কিংবা কোনো জার্নি করার পর কিংবা হাঁটাহাঁটি বা ভারী কাজের পর কিংবা উত্তেজনাবশত কারো সাথে চেঁচামেচি করার পর বা বেশি দুশ্চিতার সময় বুকের বাঁ পাশে চাপ দিয়ে ব্যথা শুরু হয়। মনে হবে বুক জ্যাম হয়ে যাচ্ছে। ব্যথা পর্যায়ক্রমে বাড়তেই থাকবে। ব্যথা পেটের দিকে, পিঠের দিকে, বাঁ বাহুর দিকে ও ঘাড়ের দিকে ছড়িয়ে পড়বে। ব্যথার তীব্রতায় রোগী দাঁড়ানো থেকে বুক ধরে বসে যাবে কিংবা শুয়ে পড়বে। কপালে মুখে ঘাম দেখা দেবে।
বমি বমি ভাব বা বমি হবে। ব্যথা কমবে না। বরং বাড়তেই থাকবে। সাধারণত ইশকেমিক হার্ট ডিজিজের ব্যথায় রোগী পেছনে কিছুতে হেলান দিয়ে বসলে ব্যথা কমে। তবে হার্টঅ্যাটাকের ক্ষেত্রে ব্যথার তীব্রতা বাড়বে। তীব্র হার্টঅ্যাটাক হয়ে থাকলে সঠিক সময় চিকিৎসা করাতে না পারলে রোগী মারাও যেতে পারে।
করণীয় : যদি হার্টঅ্যাটাক হচ্ছে বুঝতে পারেন তা হলে সাথে সাথে ইমার্জেন্সি চিকিৎসা হিসেবে চারটি অ্যাসপিরিন (৭৫ এমজি) ট্যাবলেট, চারটি ক্লোপিডোগ্রেল (৭৫ এমজি) একটা নাইট্রোগ্লিসারিন ট্যাবলেট ও অ্যাটরভ্যাস্টাটিন ট্যাবলেট পানিতে মিশিয়ে কিংবা রোগীকে দিয়ে চিবিয়ে খাইয়ে দিতে হবে এবং সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
প্যানিক অ্যাটাকজনিত বুকে ব্যথা : সাধারণত ৪০ বছর বয়সের কম যারা, তাদের প্যানিক অ্যাটাক বেশি হয়। এ ক্ষেত্রে রোগীর আগে থেকে উচ্চরক্তচাপ বা অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের রেকর্ড না-ও থাকতে পারে। তারা অতিমাত্রায় দুশ্চিতা কিংবা কোনো কিছু নিয়ে ভয়ে থাকেন। সেটা হতে পারে পরীক্ষাভীতি, জীবন নিয়ে ভীতি। এরাই প্যানিক অ্যাটাকে পড়েন।
এতে হঠাৎ বুকে ব্যথা শুরু হবে। মনে হবে যেন বুক ছিঁড়ে যাচ্ছে। শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হবে। রোগী বলবে কিংবা তার কাছে মনে হবে একটু পর সে মরে যাচ্ছে। অর্থাৎ তার ভেতর মৃত্যুভয় বেশি কাজ করবে। হাতে-পায়ে কাঁপুনিও আসতে পারে। ধড়ফড় করবে। এ ক্ষেত্রে ইসিজি করলে নরমাল রিপোর্টই আসবে।
করণীয় : রোগীর সাথে মন খুলে কথা বলে তাকে অভয় দিতে হবে এবং তিনি সুস্থ হয়ে যাবেন সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে। যেহেতু এটি মূলত মানসিক, তাই পরে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ দেখানো প্রয়োজন।
গ্যাস্ট্রাইটিস বা এসিডিটিজনিত বুকে ব্যথা : এ ক্ষেত্রে ব্যথা বুকের বাঁ পাশে না হয়ে উপরিভাগে হবে। ব্যথায় জ্বালাপোড়ার ভাব থাকবে। খাবারের পর ব্যথা বেড়ে যাবে। খাবারের সময়ও একটা প্রতিবন্ধকতা মনে হবে। বমি ভাব হতে পারে।
সাধারণত খাবারে অনিয়ম হলে, বেশি ঝাল বা তেলজাতীয় খাবার খেয়ে ফেললে গ্যাস্ট্রাইটিস বেড়ে বুকে ব্যথা হতে পারে।
হার্টের ব্যথায় যেমন বুক চিনচিন করে কিংবা ব্যথা বাহু ও ঘাড়ে ছড়ায়, গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা তেমন হয় না। কারও ক্ষেত্রে মনে হবে তার পেট-পিঠ দুটোতেই তীব্র ব্যথা। বমির ভাব ও ঢেকুর আসবে। গ্যাস্ট্রাইটিসের ব্যথা যেকোনো বয়সেই হতে পারে।
করণীয় : গ্যাস্ট্রাইটিসজনিত বুকের ব্যথা সাধারণত অ্যান্টাসিড জাতীয় সিরাপ খেলে কমে যায়। এসব ক্ষেত্রে ডাক্তারের শরণাপন্নও হওয়া দরকার। কারণ অনেক সময় আলসারও এর কারণ হয়ে থাকে। সেটার চিকিৎসাপদ্ধতি আবার অন্যরকম।

তথ্যসুত্রঃ নয়া দিগন্ত  ১৪/১১/২০২১)                                        

 Please give your like, comments and ratings to watch my all-contents PowerPoint, blog, image, video and publication of this fortnight. Link:

  PowerPoint: https://www.teachers.gov.bd/content/details/1168814

 Blog: https://www.teachers.gov.bd/blog-details/629823

Video: https://www.teachers.gov.bd/content/details/1171484

 Video 2: https://www.teachers.gov.bd/content/details/1164369

Publication: https://www.teachers.gov.bd/content/details/1178206

BatayonID: https://www.teachers.gov.bd/profile/Lutfor%20Rahman              

মোঃ লুৎফর রহমান (এম. এ., এম. এড)

সহকারী শিক্ষক,

ওয়েব ডিজাইনার,

গ্রাফিক্স ডিজাইনার,

ব্লগা্‌র,

ইউটিউব কন্টেন্ট ক্রিয়েটর,

ICT4E জেলা এম্বেসেডর এটুআই, দিনাজপুর

MIE Expert -2021-2022

নির্বাচিত ইংরেজী মাস্টার ট্রেনার (TMTE Project of British Council Under DPE)

বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষক ইংরেজী, চারু ও কারুকলা এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়,

কুন্দারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর।

E-mail: [email protected]

প্রাথমিক শিক্ষার সকল আপডেট পেতে আমার সাইটে প্রতিদিন ভিজিট করুন। লিঙ্কঃ

https://lutfor11.blogspot.com

মন্তব্য করুন

ব্লগ