সহকারী প্রধান শিক্ষক
১৫ জানুয়ারি, ২০২২ ১১:০৬ অপরাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক পদটি কি ‘অভিশপ্ত পদ’ হয়ে গেলো ?
আমি একটা এমপিওভূক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক। সর্বপ্রথম গত ২৫/০৭/১৯৯৮খ্রিঃ তারিখে আমি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন একটা এমপিওভূক্ত প্রতিষ্ঠানে সহকারি শিক্ষক পদে চাকরিতে যোগ দেই এবং জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে এমপিওভূক্ত হই। ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে আমি বিএড স্কেল প্রাপ্ত হয়ে জাতীয় বেতন স্কেলের ১০ম গ্রেডে বেতন প্রাপ্ত হই। পরবর্তিতে, ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে প্রথম উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্ত হয়ে জাতীয় বেতন স্কেলের ৯ম গ্রেডে বেতন প্রাপ্ত হই। ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য ইনক্রিমেন্ট দেয়া শুরু হয়। আমিও যথারীতি জুলাই/২০১৮ হতে ইনক্রিমেন্ট পেয়ে ৯ম গ্রেডের ১ম ধাপে ২৩,১০০/-টাকার মূল বেতন প্রাপ্ত হই। একইভাবে পরের বছর অর্থাৎ জুলাই/২০১৯ হতে ইনক্রিমেন্ট পেয়ে ৯ম গ্রেডের ২য় ধাপে ২৪,২৬০/-টাকার মূল বেতন প্রাপ্ত হই। আবার, একইভাবে তারপরের বছর অর্থাৎ জুলাই/২০২০ হতে ইনক্রিমেন্ট পেয়ে ৯ম গ্রেডের ৩য় ধাপে ২৫,৪৮০/-টাকার মূল বেতন প্রাপ্ত হই।
২০২০ খ্রিস্টাব্দের ০১ জুলাই আমি অন্য একটি বিদ্যালয়ে একধাপ উপরের সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে এবং উচ্চ ধাপে তথা জাতীয় বেতন স্কেলের ৯ম গ্রেড (২২,০০০/-টাকা) থেকে উন্নীত হয়ে ৮ম গ্রেডে (২৩,০০০/-টাকা) যোগ দেই এবং যেহেতু আমি ৯ম গ্রেডের ৩য় ধাপে ছিলাম তাই সরকারি পে-ফিক্সেশন রীতি অনুযায়ী আমি জাতীয় বেতন স্কেলের ৮ম গ্রেডের ৩য় ধাপে ২৬,৬৩০/-টাকার মূল বেতন প্রাপ্তির জন্য নিয়মানুযায়ী আবেদন করি। কিন্তু বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য পে-ফিক্সেশনের কোন নীতিমালা না থাকার অজুহাতে খুলনা আঞ্চলিক অফিস হতে আমার আবেদন রিজেক্ট হয় এবং পরবর্তীতে জানুয়ারী/২১ মাসের এমপিওতে আমাকে ৮ম গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপে (২৩,০০০/-টাকা) বেতন দিয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে এমপিওভূক্ত করা হয়। সেই সাথে প্রতিমাসে আমাকে ন্যায্য প্রাপ্য বেতন হতে ৩,৬৩০/-টাকা বঞ্চিত করা হলো। এমপিও নীতিমালাটি দেখে নেয়া যাক-
আমার প্রশ্ন হলো- এমপিও নীতিমালায় কোথাও লেখা নেই যে, সহকারি শিক্ষক (৯ম গ্রেড) থেকে সহকারি প্রধান শিক্ষক (৮ম গ্রেড) হলে বেতন কমে যাবে। তাহলে কোন্ নীতিমালায় আমার বেতন কমিয়ে দেয়া হলো তা আমার বোধগম্য নয়।
আমার প্রাপ্য বেতন ফিরে পাবার জন্য গত মে/২১ মাসের এমপিওর জন্য আবার আবেদন করি যা খুলনা আঞ্চলিক অফিস হতে রিজেক্ট হয়। পরবর্তীতে আবারও বেতন সংশোধনের আবেদন করি। সেটিও গত নভেম্বর/২১ মাসে খুলনা আঞ্চলিক অফিস হতে রিজেক্ট হয়। তারপর ডিসেম্বর/২১ মাসে আবারও বেতন সংশোধনের আবেদন জমা দেই।
একই সময়ে গত ০৮/১২/২০২১ খ্রিঃ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর স্মারক নম্বর-৩৭.০২.০০০০.১০২.৩৭.০০৫.২০২০/৯৮৫০/৬ হিসাব, পত্রের সাথে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীগণের বেতন নির্ধারণের নিয়মাবলী’ প্রদান করেন। এই নিয়মাবলীর আলোকে খুলনার ডিডি স্যার আমার পূর্বাপর এমপিও কপিগুলি পর্যালোচনা পূর্বক আমার দাবীর উপযুক্ততা বিবেচনায় আমার আবেদনটি এ্যাপ্রুভ করেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে দেখলাম, গত ১৪/০১/২০২২ খ্রিঃ তারিখে আমার আবেদনটি ডিজি অফিস হতে কোনো কারণ প্রদর্শন ছাড়াই প্রত্যাখ্যাত হলো। অনেক বেদনার্ত মন নিয়ে এই নিয়মাবলী বেশ কয়েকবার মনযোগ সহকারে পড়েও আমার বেতন কমে যাওয়ার মত কোনো ধারা-উপধারা খুঁজে পাইনি। এবার নিয়মটি দেখে নেয়া যাক-
সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের সময় আমার মূল বেতন তো ২৩,০০০/-টাকা অতিক্রম (২০২০ সালে ৯ম গ্রেডের ৩য় ধাপে ২৫,৪৮০/-টাকার মূল বেতন) করেছিল। তারপরও দীর্ঘ সাড়ে বাইশ বছর চাকরি করার পর এই বৃদ্ধ বয়সে সহকারি প্রধান শিক্ষক হয়ে আমার বেতনের সাথে কেন প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত করে মূল বেতন (২০২২ সালে প্রচলিত ৮ম গ্রেডের ৪র্থ ধাপে ২৭,৯৭০/-টাকার মূল বেতন) নির্ধারিত হবে না তা আমার বোধগম্য হলোনা।
একটু ভেবে দেখুন, বাংলাদেশে এমন কোনো উদাহরণ কি আছে যে- উচ্চ পদবী ও উচ্চ বেতন স্কেলে চাকরীতে যোগ দিয়েও কোন কর্মচারীর বেতন তার পূর্বের বেতনের চেয়ে কমে গিয়েছে? একমাত্র এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের বেলায় এমনটি হচ্ছে কেন? এমপিও নীতিমালা বা কোনো নিয়মাবলীতেই আমি এমনটি পাই নাই। তা যদি থাকতো তাহলে আমিই কি এই পদে চাকরীতে আসতাম? আর যদি সেটিই হয় তাহলে সহকারি শিক্ষক থাকলে যে বেতন পেতাম (২৭,৭৬০/-টাকার মূল বেতন) সেই বেতন ফিরিয়ে দেয়া হোক। তবুও তো আমার সহকর্মীদের সমান বেতন পাবো, উপরের পদে থেকেও আমার চেয়ে জুনিয়র সহকর্মীর চেয়েও কম বেতন পাওয়ার যন্ত্রণা থেকে তো উপশম পাবো।
বিনীত
এস.এম.আশরাফুল আলম হেলাল।
সহকারি প্রধান শিক্ষক
সুলতানপুর মাহতাবিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়
কয়া, কুমারখালী, কুষ্টিয়া।
৭৩
১৪৬ মন্তব্য